পরিবেশগত বিপর্যয়ের সাম্প্রতিক চিত্র : প্রেক্ষিত বৃহত্তর সিলেট

তোফাজ্জল সোহেল,সাধারণ সম্পাদক (বাপা), হবিগঞ্জ ও সদস্য, জাতীয় পরিষদ

 

খোয়াই নদী

নদনদী, হাওর-বাঁওর, পাহাড়-টিলা, বিল, অরণ্য, বনভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদ আর পীর-আওলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট। হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলা নিয়ে গঠিত এই বিভাগে ঘটেছে সমভুমি, পাহাড় ও হাওড়ের মেলবন্ধন। তাই সিলেট বিভাগ দেশের অন্যান্য বিভাগ থেকে বিশেষ স্থানের অধিকারী। এখানকার বৈচিত্র্যময় প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ-প্রতিবেশ এই বিভাগকে করেছে অন্যান্য অঞ্চল থেকে আলাদা এবং স্বতন্ত্র। শ্যামল-সবুজ পাহাড় আর বিস্তৃত চা বাগান, ছোট-বড় অগণিত টিলাসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল, মিঠাপানির রাতারগুল জলাবন, দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর, পাথরের রাজ্য জাফলং, ভুলাগঞ্জ, বিছনাকান্দি, দেড় শতাধিক নদ-নদী, হাওর-বিলের জলরাশি যেন সমুদ্রের ছোট বোন। বৃহত্তর সিলেট এরকমই একটি অঞ্চল। পানি আর পাহাড়ের সঙ্গে মানুষের মিতালি এখানকার মানুষকে ভাবুক করেছে। অন্তরে উন্মেষ ঘটিয়েছে সুর আর সঙ্গীতের। তাই আমরা এখান থেকে পেয়েছি হাসন রাজা, শেখ ভানু শাহ, রাধারমণ, দুরবিন শাহ্, আরকুম শাহ্, শাহ আবদুল করিমসহ অনেক সাধকের। প্রকৃতি ও পরিবেশ এখানকার মানুষকে দিয়েছে বিশেষ আত্মপরিচয়।

বর্তমানে সিলেট অঞ্চলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পর্যায়ে পরিবেশ বিনষ্ট তৎপরতা ও অসেচতনতা উদ্বেগজনক। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর লুটপাটতন্ত্রের কারণে পাহাড়-টিলা কাটা, পুকুর, নদী, খাল-বিল, দখল-দূষণ ভরাট, কৃষি জমি বিনষ্ট, শিল্প দূষণ, শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, বনাঞ্চল ধ্বংস ইত্যাদি পরিবেশগত সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পরিবেশ বিনষ্ট কাজ অবলীলাক্রমে ঘটছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা পরিবেশ বিধ্বংসী অপকীর্তি করছে রাজনৈতিক শক্তির প্রচ্ছন্ন সমর্থন নিয়ে ।
সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই, মনু, সুতাং, সোনাই প্রভৃতি চমৎকার শৈল্পিক নামের নদীগুলো সিলেট বিভাগকে মায়ের মতই আঁচল দিয়ে ঘিরে রেখেছে। কিন্তু ভূমি ও বালুদস্যুদের বেপরোয়া তা-বসহ সুনির্দিষ্ট কিছু কারণে মা-রূপী নদীগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন হতে চলেছে। একদিকে উজানে ভারত সরকারের পানি সীমিতকরণ, দেশের অভ্যন্তরে প্রভাবশালী মহল দ্বারা দখল-দূষণ এবং খনন না হওয়া ইত্যাদি কারণে নদীগুলোর ধারা দিন দিন ক্ষীণতর হয়ে যাচ্ছে। অথচ এই নদীগুলোর উপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলের কৃষি ও বাণিজ্যের বিশাল একটি অংশ।

খোয়াই নদী

সিলেট অঞ্চলে ২২ টি সীমান্ত অতিক্রমকারী নদী আছে। যা প্রতিবেশী দেশ ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্য থেকে প্রবেশ করেছে। সীমান্ত অতিক্রমকারী সুরমা, সোনাই, কুশিয়ারা, খোয়াই, মনু, ধলা, পিয়াইন, সারী-গোয়াইন, লোভা, সোনাইবরদল, ধলাই, জুরি, লংলা, গোপলা, যাদুকাটা, জালিয়াখালী, ধামালিয়া, খাসিয়ামারা, উমিয়াম, সোমেশ্বরী, সুতাং। এই নদীগুলোর অনেক শাখানদী ও উপনদী রয়েছে সিলেট বিভাগের চার জেলায়। নদীগুলোর অবস্থা ভালো নয়। নদীগুলোকে ভারত শাসন ও শোষণ করে চলেছে। সুরমার উজানে বরাক নদীতে ভারতের টিপাইমুখ ড্যাম, খোয়াই এর উজানে চাকমাঘাট ব্যারেজ এ অঞ্চলের জন্য মারাত্মক হুমকি। যা বৃহত্তর সিলেটের প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য দুর্ভাবনার। মনু, সারী, পিয়াইন, ধলাই, যাদুকাটা ইত্যাদি প্রায় প্রতিটি নদীর উজানে বাঁধ বা ব্যারেজ নির্মাণ করে ভারত সরকার পানি সীমিতকরণ করছে। এই নদীগুলোকে কেন্দ্র করে প্রায় ১২০টি নদী, উপনদী, শাখা নদী রয়েছে। প্রতিটি নদীর প্রবহমান এলাকায় যে নাম রয়েছে সেই নামের উৎস ধরে খুঁজলেই সেই নদীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে। শৈল্পিক নামের নদীগুলোর প্রাণ প্রবাহের মধ্যেই এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ। আর এই ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে মূলত: নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে। খনন না হওয়াতে নদীর তলায় পলি ও বালি জমে জমে স্থানে স্থানে চড়া পড়েছে। কোথাও কোথাও নদীর তলদেশ ভূমি থেকে ১২/১৫ ফুট উঁচু হয়ে আছে। এতে নদীতে ঘিরে থাকা শহর হয়েছে হুমকির সস্মুখীন আর নদীর অপর পারের গ্রাম ও ফসলি জমিকে সহ্য করতে হচ্ছে ভাঙ্গনের আঘাত। ভরাট হয়ে যাওয়ার পেছনের কারণ হচ্ছে, এ অঞ্চলের পাহাড়-টিলা কাটা এবং নদীর তীর থেকে অপরিকল্পিত মাটি, বালু উত্তোলন। গত দুই দশকে সিলেট জেলার প্রায় ৫০% টিলা-পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে (সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ থেকে)। এভাবে টিলা-পাহাড় কাটার কারণে প্রচুর পরিমাণ বালু-মাটি জলাশয়গুলোকে ভরাট করেছে। এছাড়াও ভারত থেকে নদী, ছড়া ও খাল দিয়ে নেমে আসা বালি ও মাটির প্রবাহ। আর এই বালি ও মাটি বছরের পর বছর ধরে সিলেট বিভাগের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওরকে ভরাট করতে করতে এমন অবস্থায় নিয়ে এসেছে যে, এখন অতিরিক্ত পানি দ্রুত নামতে পারে না। পাহাড় থেকে নেমে আসা বালি ও মাটিতে নদীর শুধু তলদেশ নয়, উৎসমুখ পর্যন্ত ভরাট হয়ে গেছে। এর প্রমাণ সুরমার উৎসমুখ ভরাট হয়ে যাওয়া। অামলসীদে সুরমার উৎসমুখ দীর্ঘ এক দশক ধরে ক্রমান্বয়ে ভরাট হচ্ছে। তাই জকিগঞ্জের আমলসীদ থেকে কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়ার সংযোগস্থল পর্যন্ত সুরমা মুমূর্ষু নদী ।
এছাড়া সুরমা কুশিয়ারা, খোয়াই, মনুসহ অন্যান্য নদীগুলো মারাত্মক বর্জ্য দূষণের শিকার। বাসা-বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত পৌরসভা থেকে আবর্জনার স্তূপ কখনও সরাসরি ফেলা হয় নদীতে। আবার কখনও ড্রেনে ফেলার পর তা এক পর্যায়ে গিয়ে পড়ছে নদীতে। এ সবের মধ্যে থাকছে গৃহস্থালি আবর্জনা থেকে শুরু করে পলিথিন, প্লাস্টিক বোতল, রাবার, কাচ-এর মতো অপচনশীল দ্রব্য পর্যন্ত।
অনেক স্থানে বিভিন্ন প্রভাবশালী গ্রুপ নদী দখল করে নির্মাণ করছে স্থাপনা। এর সবচয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে, সায়হাম গ্রুপ কর্তৃক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর ব্রীজ সংলগ্ন সোনাই নদীর বুক চিরে গড়ে উঠছে ‘সায়হাম ফিউচার কমপ্লেক্স’। এরকম উদাহরণ দেওয়া যাবে অনেক অনেক।

বিছানাকান্দি

সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সিলেটের প্রকৃতি ও পরিবেশ ধ্বংস করে ভূগর্ভস্থ পাথর উত্তোলনে বোমা মেশিন নামের স্থানীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। পাথরখেকো চক্রের লুটপাটতন্ত্রে সিলেটে বিভাগের পিয়াইন, সারি, ধলাই, লোভা, যাদুকাটা, চলতি, রাংপানি ইত্যাদি নদী ও নদী তীরবর্তী এলাকা গত দেড় দশকে বিপর্যস্ত হয়েছে। অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনের প্রভাবে ডাউকি নদী হারিয়ে গেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জাফলং, শ্রীপুর, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, উৎমাছড়া, লোভাছড়া প্রতিনিয়ত রূপ হারাচ্ছে।
প্রায় দুই কোটি মানুষের সিলেট বিভাগে কৃষিজমির সংকট আছে। কিন্তু সেই সংকট সমাধানে গুরুত্ব না দিয়ে গত তিন দশকে কৃষিজমি এবং নদী-বিল-হাওড় ভরাট ও দখল করে, বনভূমি উজাড় করে বসতি নির্মাণ, পাহাড়-টিলা কেটে নগরায়ন, কৃষিজমিতে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা যেভাবে চলছে তা সিলেটের প্রাকৃতিক রূপ-বৈচিত্র্যকে ক্রমান্বয়ে নিঃশেষ করে ফেলছে। সিলেট বিভাগের জলবায়ু, ভূ-প্রকৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হচ্ছে বিপর্যস্ত ।
পাহাড়, অরণ্য, বনভূমি ইত্যাদি মিলিয়ে সিলেটে উল্লেখযোগ্য স্থান জুড়ে রয়েছে বনাঞ্চল। লাউয়াছড়া, সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা এই ৩টি জাতীয় উদ্যান এখানে অবস্থিত হওয়ায় জীববৈচিত্র এর একটি বিশেষ স্থানের অধিকারী হচ্ছে সিলেট অঞ্চল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড় ও অরণ্যাঞ্চলের রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। বনাঞ্চলে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ, ছোট-বড় অসংখ্য প্রাণী মিলেমিশে সৃষ্টি করেছে জীব বৈচিত্র্যের এক অনন্য একক।
কিন্তু দুঃখের বিষয় এই শান্ত, সবুজ, শ্যামল প্রভৃতি ক্রমশ ধ্বংস হতে চলেছে। বাইরে থেকে বুঝা না গেলেও বনাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে। বন থেকে বৃক্ষনিধন, পাহাড়-টিলা কেটে বাড়ি নির্মাণ, পাহাড়-টিলা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হচ্ছে পাহাড় ধ্বংস, মরছে মানুষ, ভাঙছে ঘরবাড়ি বিচ্ছিন্ন হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ আর হুমকির মুখে পড়ছে বনাঞ্চল।
আমরা লক্ষ্য করছি, বিগত কয়েক বছর ধরে হবিগঞ্জে বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প কারখানা। তিন ফসলি কৃষিজমিতে শিল্প-কারখানা স্থাপন দেশের প্রচলিত নীতি ও আইনবিরুদ্ধ হলেও এই অঞ্চলে তা অতি দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে প্রাকৃতিক গ্যাস তথা জ্বালানির সহজলভ্যতার কারণে। আমরা ইতিপূর্বে এ ধরনের শিল্প-কারখানার ‘উৎসে বর্জ্য পরিশোধন’ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং সুষ্ঠু শিল্পায়নে প্রয়োজনীয় ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে এই শিল্পায়ন পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটিয়ে আসছে। যত্রতত্র কৃষিজমি, খাল, ছড়া এবং নদীসহ সকল প্রকার জীবন ও জীবিকা শিল্পদূষণের শিকার হয়েছে। এতে কোন কোন এলাকায় হাঁস-মোরগ, গৃহপালিত পশুর মৃত্যুসহ নানা রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। যা কৃষিজমি ধ্বংস ও ফসলের ক্ষতি, নিরাপদ পানির অভাবসহ মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।

সাতছড়ি

প্রধানত প্রাণ-আরএফএল ও স্কয়ার কোম্পানির বর্জ্যে দূষিত হয়ে পড়েছে হবিগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী ‘সুতাং নদী’। বর্তমানে সুতাং নদী ও এর আশপাশের অবস্থাও খুবই নাজুক অবস্থায় পড়েছে। পানি কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কৃষিকাজে সেচ ব্যবস্থার নামে শৈলজুড়া নামক খালটি জেলা প্রশাসন ২০১৪ সালে পুনঃখনন করে প্রাণ-আরএফএল ও স্কয়ার কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত করে দেয়া হয়। ফলে ঐ কোম্পানীগুলোর বর্জ্য সহজেই খালের মাধ্যমে সুতাং নদীতে ছাড়া হচ্ছে। যে কারণে শিল্পবর্জ্য দূষণে সুতাং নদীটি হয়ে পড়েছে মৎস্যশূন্য, নদীর পানি ব্যবহারকারীরা পড়েছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। মারা যাচ্ছে হাঁস-মোরগ-গবাদিপশু। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগসহ নানা অসুখে। মাঠে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
জেলার নূরপুর, ওলিপুর, শাহজীবাজার, নোয়াপাড়া, ছাতিয়াইন অনেক এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে নদী-নালা ও খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়ছে বর্জ্যদূষণ। ইদানিং বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলাতেও শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে। তবে মূল কথা হচ্ছে, কোনওভাবেই কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান অপরিশোধিত বর্জ্য পরিশোধন নিশ্চিত না করে কারখানার বাইরের এলাকায় যে কোন উপায়ে এবং কারখানার অভ্যন্তরে ভূগর্ভস্থ পানি দূষণ করতে পারে না, এটি দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি-ব্যবস্থার পরিপন্থী। যথাযথ শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে শিল্প কারখানার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণ থেকে বিরত থাকতে শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব রয়েছে।
এটি আজ প্রমাণিত পরিবেশবিমুখ শিল্পায়ন দেশের উন্নয়ন নয় বরং ধ্বংস ডেকে আনছে। অতএব পরিবেশ দূষিত করার মত এসকল কর্মকান্ড এখনই বন্ধ করতে হবে। অপরিকল্পিত এধরনের শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার চলমান প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে ব্যাপক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষার ক্ষেত্রে অপরিহার্য নদনদী, পাহাড়, বনাঞ্চল তথা প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা নজরে পড়ছে না। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সচেতনা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে জনপ্রতিনিধি, সরকারের কর্তাব্যক্তি ও সচেতন সুধী সমাজ নদী ও পরিবেশ রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন না করলে পরিবেশ-প্রতিবেশ যে অবস্থায় রয়েছে ভবিষ্যতে এই অবস্থাও নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে।
সংক্ষিপ্ত পরিসরে যা বলা হল, প্রকৃত অবস্থা তার চেয়ে আরো ভয়াবহ। আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রতি লক্ষ্য রেখে এখনই দখল ও দূষণ প্রক্রিয়া রোধসহ দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে নদী-জলাশয়, পাহাড় অরণ্যের সুস্থ স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

ছবি:লেখক