নরসিংদীতে একদিন

আব্দুল ওহাব

চারিদিকে তো শুধু সরিষা ফুলের বিস্তর আলোচনা। তাহলে চলেন ঢাকা থেকে গিয়ে কিভাবে আপনি খুব সহজে মেঘনা নদী ও তার পুরো পাড় জুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে সরিষা ফুলের রাজত্ব,সুন্দর একটি শহীদ মিনার, গ্রামীন জনজীবন,তাঁতের মেশিন,নৌকা দিয়ে মেঘনায় ঘুরে বেড়িয়ে ও বালাপুর জমিদার বাড়িতে সুন্দর একটি দিন কাটাবেন।

নরসিংদীর চাঁন্দের পাড়ার সরিষা ফুল ইতিমধ্যে অনেক সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।আর মন মাতানো সরিষা ফুলের ঘ্রানও পাওয়া যাচ্ছে পুরো এলাকা জুড়ে। ক্ষেতের পর ক্ষেত দেখা যাচ্ছে মৌমাছির উড়াউড়ি। চাইলে যে কেউ ঘুরে আসতে পারেন এই সময়েই। আর এলাকার মানুষগুলোও অনেক আন্তরিক। আপনি আপনার একটু ভাল ব্যবহার দিয়ে স্থানীয়দের সাহায্য পেতে পারেন।

এবার চলেন ঢাকা থেকে চাঁন্দেরপাড়া যাওয়া ও এর আশাপাশে আর কি কি দেখতে পারবেন এবং কোথায় খাবেন তার বিস্তারিত জেনে নিই।

আপনি মহাখালী/বনানী এরিয়া থেকে নরসিংদী আসতে চাইলে এসে পিপিএল বাসের টিকিট কেটে সরাসরি নরসিংদী চলে আসবেন। নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সায় যাবেন সাটিরপাড়া রজনীগন্ধা চত্বর।ওখান থেকে অটোতে সুইচগেট।আর তার একটু সামনে আগালেই চাঁন্দের পাড়া গ্রাম।

আর যারা গুলিস্থান থেকে যারা আসবেন তারা সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স সংলগ্ন মেঘালয় লাক্সারী বাসে সরাসরি নরসিংদী নতুন বাসস্ট্যান্ড ওখান থেকে অটোতে সুইচ গেইট। সুইচ গেইট বাজারে নেমে একটু আগালেই চাঁন্দের পাড়া গ্রাম।

যদি চাঁন্দের পাড়া সরিষা ফুলের সৌন্দর্য দেখে দিনের অর্ধেক সময় বেঁচে যায় তাহলে আপনি দুপুরের খাবারটা নরসিংদী শহরে খেতে পারেন। খাওয়া শেষে নরসিংদীর পুরান লঞ্চঘাট থেকে ট্রলার নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন মেঘনায়।

আর যদি হেরিটেজ ভালবাসেন তাহলে সুইচগেইট বাজার থেকে চাইলে রিজার্ভ চার্জের অটোরিক্সা নিয়ে শর্টকাট ওয়েতে ভিতরের রাস্তা দিয়ে আবদুল্লাহপুর হয়ে মাধবদীর বালাপুর নবীন শাহার জমিদার বাড়িতে যেতে পারেন।তবে অটোর ড্রাইভারকে বলে মাধবদী শহরে খেয়ে তারপর বালাপুর জমিদার বাড়িতে যাবেন। জমিদার বাড়ি দেখা শেষ হলে এক থেকে দেড় কিলো সামনেই মেঘনা বাজার।এই বাজারের ভিতর দিয়েই চলে গেছে রাস্তা।বাজার থেকে পাঁচ মিনিট হাটলেই পেয়ে যাবেন মেঘনা নদী। চাইলে ওখান থেকে নৌকা নিয়ে ঘুরতে পারবেন মেঘনা নদীতে। তারপর মেঘনা বাজার থেকে সিএনজিতে চলে আসতে পারেন মাধবদী। ওখান থেকে ১০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে মাধবদী বাসস্ট্যান্ড। তারপর মেঘালয় লাক্সারী বাসে চলে আসতে পারেন গুলিস্থান নয়তো মনোহরদী/রয়েল পরিবহনে সায়েদাবাদ চলে আসতে পারেন।

আর যদি চান তাহলে রাস্তার অপজিট থেকে অটো/লোকাল বাসে চলে আসতে পারেন পাঁচদোনা মোড়।ওখানে পিপিএল,বাদশা,উত্তরা পরিবহনসহ আরও কিছু কাউন্টার সার্ভিস পাবেন যা উত্তরা,বনানী হয়ে মহাখালী আসে।

আর যারা ট্রেনে যাবেন তারা কমলাপুর থেকে প্রতিদিন সকাল ৭:১০ টায়(বুধবার সারাদিন বন্ধ) এগারসিন্ধুরে এবং মহানগর গোধুলি(রবিবার সারাদিন বন্ধ) দিয়ে সকাল ৯:০০ টার ট্রেনে নরসিংদী আসতে পারবেন।আর সারদিন ঘুরাঘুরি করে আবার ট্রেনে ঢাকায় ফিরতে চাইলে বিকাল ৫ টায় এগারসিন্ধুরে(শুক্রবার বিকালে বন্ধ) অথবা ৫:৩০ মিনিটে মহানগর ট্রেনে ফিরতে পারবেন।

আর যদি কেউ নিজস্ব গাড়ি/বাইক নিয়ে আসতে চান তাহলে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়ে এক কিলোমিটার আসলেই চাঁন টেক্সটাইল মোড়। মোড়ে হাতের বামের রাস্তা ধরে সরাসরি চলে আসবেন ছনপাড়া বাসস্ট্যান্ড(ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক)। ছনপাড়া হাইওয়েতে হাতের বামে চলে যাবেন সরাসরি মাধবদী।মাধবদী বাসস্টেন্ড থেকে কাউকে জিগ্যেস করে মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের রাস্তাটা জেনে নিবেন। ঐ রাস্তা ধরে আবদুল্লাপুর বাজার। কাউকে জিগ্যেস করলেই দেখিয়ে দিবে সুইচগেট যাওয়ার রাস্তাটা। সুইচগেট এর সঙ্গেই চাঁন্দের পাড়া সরিষা ফুলের এরিয়া(এইটা লোকাল রাস্তা তবে সময় বাঁচবে)।

যাতায়াত ভাড়া : মহাখালী টু নরসিংদী পিপিএল বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৯৫ টাকা। শালিধা(নতুন বাসস্ট্যান্ড) থেকে অটোতে সাটিরপাড়া রজনীগন্ধা চত্বরের লোকাল ভাড়া ৫ টাকা আর রিক্সায় ২০-৩০ টাকা নিবে। রজনীগন্ধা চত্বর থেকে চাঁন্দের পাড়া অটোভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা। আর গুলিস্থান থেকে নরসিংদী ১০০ টাকা।তারপর উপরের লেখা অনুযায়ী চাঁন্দের পাড়া চলে যাবেন।

বি:দ্র: সুইচগেইট বাজারে দুপুরে খাবার তেমন কোন ব্যবস্থা নাই(সকালের নাস্ত,সিঙ্গারা,পুরি,চা পাবেন)।চাইলে নরসিংদী থেকে পার্সেল/চাঁন্দের পাড়া থেকে আসার পথে নরসিংদী দুপুরের খাবার খেতে পারেন। যদি গ্রুপ করে যেতে চান তাহলে স্থানীয় বাবুর্চির ব্যবস্থা করে দেয়া যাবে(রান্না প্রশংসনীয়)। আর যদি কেউ তাঁবু ক্যাম্পিং করতে চান সেটার ব্যবস্থা করে দেয়া যাবে(তবে তাঁবু ক্যাম্পিংয়ের সবকিছু আপনাকে নিয়ে যেতে হবে। লোকালি সহযোগিতার ব্যবস্থা করে দেয়া যাবে। তবে অবশ্যই আপনি আপনার শালিনতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

দয়া করে অতি উৎসাহি কেউ সরিষা ফুলের সৌন্দর্য দেখতে গিয়ে ফসলের কোন ক্ষতি করবেন না।কারন এইটা একটা ফসল।কেউ চাইবেনা নিজের কষ্টের ফসল কেউ নষ্ট করুক।

ভালো থাকবেন সবাই। সবার ভ্রমন হোক আনন্দময়,সবসময়।

ছবি: লেখক