বাবা-মা আমার

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

আজকাল বাবা-মাকে নিয়ে কোথাও কোনও কথা বা লেখা বা আলোচনা হলেই দেখি একদল লোক হুড়মুড়িয়ে তেড়ে আসেন, বাবারা কত খারাপ হয় আর মায়েরাও কত খারাপ হতে পারে…।

ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে

তাদের মতামত ভুল নয় বা মিথ্যে নয়…। খবরের কাগজ তো আমিও পড়ি…। কিন্তু… খবরের কাগজের উদাহরণেরা তো রোজকার জীবন নয়…। তাই যদি হতো, তা হলে তো রোজ এক ডজন করে পথ দুর্ঘটনার খবর পড়ে পথে বেরোনো বন্ধ করে দিতে হয়…। দেশ জুড়ে দুর্নীতির খবর পড়ে সামগ্রিক প্রশাসন বয়কট করতে হয়…। শিশুমৃত্যুর খবর পড়ে বাধ্যতামূলক বন্ধ্যত্ব চালু করতে হয়…।

কিন্তু সে সব কিছুই না হয়ে, জীবন কিন্তু চলে…। সব কিছু নিয়েই চলে…। সেই চলায় যত বেশি করে ভালবাসা যায়, যত বেশি ভালবাসা আহরণ করা যায়, জীবন ততই সহজ আর সুন্দর হয় বলে আমার মনে হয়…।

যাক গে, হচ্ছিল বাবা-মায়ের কথা…। আমি সেই প্রজাতির সন্তান, বাবা-মা যার কাছে দু’টো মানুষ নয়, একটা প্রতিষ্ঠান…। অত্যন্ত ‘গ্লোরিফায়েড’ প্রতিষ্ঠান…। যে প্রতিষ্ঠানের রোদ্দুরে যাবতীয় সুখ-শান্তি-ভরসা-আদর এসে জমা হয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস…। যে প্রতিষ্ঠানের ছায়ায় সুন্দরতম মায়ারা জন্ম নেয় বলেই আমার অভিজ্ঞতা…। যে প্রতিষ্ঠানের হাওয়ায় ওড়ে সমস্ত ক্ষত নিরাময়ের ওষুধ…।
পৃথিবীর সব বাবা-মা ভাল বা আমার বাবা-মা পৃথিবীর সব থেকে সেরা….এমন কোনও দাবি আমার নেই…। সব বাবা, মা-ই যেহেতু মানুষ, ভগবান নন, তাই তাঁদেরও দোষ-ত্রুটি-ভুল-খারাপ সব আছে…। সব…। তাঁরা কেউ সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন…। কিন্তু বিকল্পহীন…। বাবা-মা বলেই বিকল্পহীন…।

মায়ের সঙ্গে

শুধু দায়িত্ব আর কর্তব্য পালনকারী দু’টো বিচ্ছিন্ন মানুষ হলে, পয়সা দিয়ে কিনতে পাওয়া যেত মায়ের আদর অথবা বাবার স্নেহ…।

তো যেটা বলার, আমার প্রতিষ্ঠানটি আজ তিন দশক পার করল…। হেসেখেলেনেচেকুঁদে নয়, দিনরাত তুমুল ঝগড়া অশান্তি রাগ ঝামেলা সহযোগে…। রান্নাঘর থেকে খুন্তি বেলুন বেগুন মুড়ির গোলাবর্ষণও প্রায় ঘটে থাকে…।
এই তিন দশকের মধ্যে আড়াই দশক ধরে আমি সাকসেসফুলি বিচারকের ভূমিকা পালন করছি…।

কখন কার পক্ষে রায় দেব, সে বিষয়ে আমার লজিক খুব সহজ। দুর্বলের পাশে থাকো…।
তাই বাবা যখন বাজার থেকে একগাদা অপ্রয়োজনীয় জিনিস এনে মায়ের বন্দুকের সামনে পড়ে, তখন আমি বাবার পক্ষ নেই, আর মা যখন কোথায় কবে কী কাকে বলেছিলো বা বলেনি বলে বাবার বাক্যবাণের সামনে পড়ে, তখন বাবাকে বকে দিই…।
সিম্পল…।

এত বছর মতানৈক্য নিয়ে কাটিয়ে দিলেও, একমাত্র আমি শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় দু’জনের মনের অবস্থা এক হতে দেখেছিলাম এই তিরিশ বছরে…। তাই সেই ছবিটাই দিলাম আজ…।

শুভ উনিশ…।
শুভ তিরিশ…।
শুভ বসন্ত…।
শুভ থেকো তোমরা…❤

ছবি: লেখক