ক্যরিয়ার হিসাবে বেছে নিতে পারেন মার্চেন্ডাইজিং

শুধু দেশে নয়, বর্তমান বিশ্ববাজারে পোশাক শিল্পের বিপুল চাহিদার কারণে অন্যসব পেশার চেয়ে এ পেশায় চাকরি পাওয়া কিছুটা সহজ। বিভিন্ন দেশে এ পেশাদারদের কর্মসংস্থান সুবিধা রয়েছে। দেশীয় অর্থনীতি বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে  সম্ভাবনাময় খাত হলো পোশাক শিল্প। কেননা বর্তমানে দেশের রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ (শতকরা ৮০ ভাগ) আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই পোশাকশিল্পে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন একজন  মার্চেন্ডাইজার। আপনিও হয়ে উঠতে পারেন তাদের একজন । বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রফেশনাল কোর্স করছে। ক্যারিয়ার গঠনে এমনি একটি ফলপ্রসূ কোর্স গার্মেন্টস বায়িং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং। Garments merchandising

কেন শিখবেন, কী শিখবেন
মার্চেন্ডাইজ (Merchandise) একটি ইংরেজি শব্দ। এই মার্চেন্ডাইজ শব্দ থেকে এসেছে মার্চেন্ডাইজিং (Merchandising), এর আভিধানিক অর্থ পণ্য কেনা বেচা করা। অর্থাৎ আয়ের উদ্দেশ্য কোন পণ্য কিনে তা আবার বিক্রি করাকে মার্চেন্ডাইজিং বলে। চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণতই বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা সবসময়  থাকে। তার উপর পেশাক শিল্পের এ পেশাটি সম্পূর্ণ বাস্তব কাজের উপর নির্ভরশীল। তাই এই খাতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকলে চাকরি পাওয়া কঠিন। আর এসব প্রশিক্ষণে গার্মেন্ট, বায়িং হাউজ ও মার্চেন্ডাইজিং পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছুই শেখানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে এক্সপোর্ট, ইমপোর্ট, বায়িং পলিসি, ইন্ডেন্টিং, ব্যাংক, কাস্টমস, ডিইডিও, ইপিবি, শিপিং, এলসি, ডকুমেন্টেশন, করেস্পন্ডেন্স, জিএসপি, কোটা, টোটাল গার্মেন্ট প্রোডাকশন (ওভেন, নিট, স্যুয়েটার), কোয়ালিটি কন্ট্রোলিং ফ্রেবিকস, অ্যাকসেসরিজ, টেক্সাটাইল, ল্যাব টেস্ট, কস্টিং, মার্চেন্ডাইজিং, প্রোডাক্যশন প্ল্যানিং, মার্কেটিং, ইমেইল, ইন্টারনেট এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়।

গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজিং
গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজিং এর অর্থ হল গার্মেন্টসে তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেমন কাপড়, এক্সোসরিজ ইত্যাদি কেনা এবং তা দিয়ে প্রোডাক্ট তৈরি করে সেই প্রোডাক্ট বিক্রি করা। উদ্দেশ্য থাকবে যে, প্রোডাক্ট  তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাপড়, এক্সোসরিজ ও অন্যান্য জিনিসপত্র কেনার খরচ, গার্মেন্টস তৈরির জন্য নিয়োজিত শ্রমিক, কর্মচারীদের মজুরী, বেতন, ফ্যাক্টরি ভাড়া, ইত্যাদি যাবতীয় মোট খরচের চাইতে গার্মেন্টস এর বিক্রয় মূল্য বেশী হতে হবে।

গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজার
মার্চেন্ডাইজিং এর সংজ্ঞা থেকে অনুমান করা যায় যে এ কাজটি সম্পাদনের জন্য গার্মেন্টস ফ্যক্টরীতে কিংবা বায়িং হাউসে সুনির্দিষ্ট লোক থাকা প্রয়োজন। যে ব্যক্তি গার্মেন্টস ফ্যক্টরী কিংবা বায়িং হাউসে মার্চেন্ডাইজিং এর যাবতীয় কাজ সম্পাদন করেন তাকে গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজার বলে।
Apparel Merchandisingএকজন মার্চেন্ডাইজারকে যা করতে হয়
একজন মার্চেন্ডাইজার ক্রেতার (বায়ার) সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন। পোশাক তৈরির অর্ডার নেওয়ার কাজটা করতে হয় তাকে। অর্ডার অনুযায়ী পোশাক সরবরাব ও মান নিয়ন্ত্রণের কাজও তার পরোক্ষভাবে জানা থাকতে হয়। কেননা তিনিই নিশ্চিত করে থাকেন বায়ারের চাহিদা মতো পণ্য কি তৈরি পণ্যে কি মানসম্পন্ন হয়েছে কি না ।

 কোথায় কী ধরনের চাকরি পাবেন
বাংলাদেশে প্রায় দশ হাজারেরও বেশী গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে বায়িং হাউজ, স্যুয়েটার ফ্যাক্টরি, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি এবং কোয়ালিকি কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠান ও ফ্যাশন ডিজাইন হাউজ। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ উনমুক্ত তবে এই কোর্সগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। সম্ভাব্য বেতন কাঠামো ফ্যাশন ডিজাইন ও মার্চেন্ডাইজিং পেশায় ন্যূনতম যোগ্যতা সম্পন্ন কোন   ডিজাইনার ও মার্চেন্ডাইজারের মাসিক বেতন হতে পারে কমপক্ষে ১৮ থেকে ২০ বাজার টাকা। যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন বাড়তে পারেনেএক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

কোথায় নিবেন প্রশিক্ষণ
পোশাক শিল্পে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (এনআইএফটি), ফ্যাশন এবং মার্চেন্ডাইজিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদানের জন্য অনার্স, এমবিএসহ বিভিন্ন মেয়াদি সারটিফিকেট ও ডিপ্লোমা কোর্স চালু করেছে। এনআইএফটিতে বিশেষ সুবিধা হিসেবে রয়েছে দরিদ্র, মেধাবী, মুক্তিযোদ্ধা, খেলোয়াড়, প্রতিবন্ধী কোটায় স্কলারশিপের সুযোগ।

ইঞ্জিঃ আনোয়ার হোসেন (টেক্সটাইল)