মধুর বসন্ত এসেছে জীবনের সমাপ্তি জানাতে…

কনকচাঁপা শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

বসন্ত আমাকে আপ্লুত করে।আমাকে আকুল করে।হালকা খুব আরামদায়ক মলয় অনেক সময় আমাকে প্রেমাক্রান্ত করে তোলে।সত্যি বলতে কোকিলের ডাক আমাকে রীতিমত আক্রমণ করে। এগুলো ফাল্গুনের বাহ্যিক রূপ।কিন্তু ফাল্গুন আসলে হালখাতার মত হিসাব বিহীন রসোগোল্লার আড়ালে হিসেব বুঝে পাওয়ার ট্রিক্স এর মত।আমাদের জীবনের সঙ্গে ঋতুগুলো মিলালে বর্ষা কাল আমাদের যৌবন।মধ্যজীবন শরৎ আর বৃদ্ধ কাল শীত কিন্তু? বসন্ত? ওপারে যাওয়ার হালখাতা।বসন্ত হলো আমাদের পথ পরিক্রমার একটি মাইলফলক। সারাবছর পার করে বসন্তকে পেতে হয়।অনেক সময় বসন্তঋতুকে অনেক সময় না, সবসময়ই প্রেমে পড়ার,প্রেম করার ঋতু বলা হয়।কিন্তু আমার দর্শন বলে অন্য কথা। আমাদের জীবনের কর্মচঞ্চল সময় এর প্রতিনিধি হল বর্ষা। বর্ষণ কারো জন্য থেমে থাকেনা ।কারো ধার ধারেনা,একগুঁয়ে শক্তিমান উপস্থিতি দিয়ে সব ভিজিয়ে ভাসিয়ে ডুবিয়ে একাকার করে নিজের করে নেয়, যৌবনের ধর্ম ও তাই। বীজ অংকুরিত করার উপযোগী আবহাওয়া তৈরি করে দেয় এই শক্তিমান আপাতঃ ক্ষেপা বর্ষা।আর এইসব কর্মচঞ্চল, কর্মরত, কর্মমুখী জীবন পার হয়ে শেষতক সারাবছরের অথবা সারাজীবনের কর্মের ফল,উপহার বা পুরস্কার স্বরূপ যে পাওনা আমাদের জন্য জমা হয় তা একঢাল,একগুচ্ছ একদিগন্ত জুড়ে ফুল হয়ে ফুটে ওঠে।ফুল তাই আমাদের সাফল্যের প্রতীক।এই ফুলের বুকেই ঝনঝনে বীজ ঘুমিয়ে থাকে যে বীজ হাতে করে ওপারে গিয়ে শ্রষ্টা কে হাতের মুঠি খুলে দেখাতে চাই, এই যে আমার কর্মফল,এই ফল বুনেই এপারে আমার ফুলফসলের বাগান করে আমি সেখানে স্থায়ী আবাস গড়তে চাই।বসন্ত হলো একটা চলে যাওয়া বছরের ফুলেল হিসাব।সেই বসন্ত ফুল তো বটেই,ঝনঝনে বীজে হাতের মুঠি ভরে যাক সবার এই উদ্দ্যেশই আমাদের সব সময় মনে রাখা উচিৎ। আসলেই বসন্ত নিয়ে এতো মাতামাতি করার কিছু নেই।সোজা কথায় শীতেই জীবন শেষ।বসন্ত হলো হিসাবের হালখাতার উৎসব। যেখানে পিঠাপুলি ফুলের সাজি এবং গায়ক গায়িকা গল্পকারদের নিয়ে জমানো আনন্দঘন উৎসব। সে উৎসবে সবাই এই পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার আগে সারাজীবনের ফসল প্রভুকে জমা দিয়ে তার বদলি টোকেন হাতে নিয়ে অন্যযাত্রায় রওনা দেবার শুরুয়াৎ। এ উৎসব ফাঁকিবাজদের জন্য শুভংকরের খেলা।

ছবি: গুগল