ডারউইনে প্রভাবিত পল গগ্যাঁ

প্রখ্যাত ফরাসী চিত্রকর পল গঁগ্যা ছিলেন পোস্ট ইম্প্রেশনিস্ট যুগের শিল্পীদের মাঝে অন্যতম।ক্ষ্যাপাটে, অস্থির আর বিশৃংখল এক জীবনের হাওয়া তাকে তাড়িয়ে নিয়ে ফিরতো সারাক্ষণ। তাঁর আঁকা ছবি পৃথিবীজুড়ে আলোচিত হয় শিল্পীর মৃত্যুর পর। পরবর্তী সময়ে গগ্যাঁর কাজ প্রভাবিত করে পাবলো পিকাসো থেকে শুরু করে হেনরি মাতিসের মতো চিত্রকরকেও।
গঁগ্যা জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৪৮ সালে। ১৮৯১ সালে তিনি ফ্রান্স থেকে চলে যান তাহিতি দ্বীপে ছবি আঁকার জন্য।তাহিতি দ্বীপের সেই অরণ্যময় পরিবেশে বসে তিনি এঁকেছিলেন প্রকৃতির ছবি আর প্রকৃতির সন্তান হিসেবে সেই দ্বীপের অর্ধেক বন্য মানুষদের, নারীদের। আর তাঁর আঁকা সেই ছবি পরবর্তীতে পৃথিবী বিখ্যাত হয়েছে ‘তাহিতিয়ান’ সিরিজ হিসেবে। পৃথিবীতে চিত্র বিশ্লেষকরা বলছেন গঁগ্যা আসলে এই সিরিজের ছবি এঁকেছিলেন ডারউইন প্রভাবিত হয়ে। ডারউইনের স্বচ্ছ প্রকৃতি আর অ-সভ্য মানুষ তাঁকে ভীষণ ভাবে আকৃষ্ট করেলো। সেই মানুষের প্রতিকৃতিই ‘তাহিতি’ সিরিজে মূর্ত। গঁগ্যা বিশ্বাস করতেন জীবনের উৎপত্তি আর মানবতার বিকাশে। তাই সেইসব ছবিতে তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন প্রকৃতিকে আত্তিকরণ করেই মনুষ্যাত্বের উদ্বোধন ঘটে। মানুষ প্রকৃতির দাসত্বকে মেনে নিয়ে জন্তুর মতোন জীবন কাটাতে পারে না এটাই ছিলো তাঁর অভিজ্ঞান। আর এই দর্শনের সঙ্গে মিল রয়েছে ডারউইনবাদের।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গঁগ্যার ছবি সরাসরি বিবর্তনবাদের সঙ্গে যুক্ত যা কেবল বলে মানুষের ক্রমউন্নয়নের কথা। গঁগ্যার লেখাতেও বারবার ডারউইনের সেই ‘ইভলিউশন’ তত্ত্বের ওপর জোর দিতে দেখা যায়।
তিনি তাহিতি সম্পর্কে আতানজীবনীতে কয়েক ছত্র এভাবে লিখেছিলেন, ‘বারান্দায় হেলান দিয়ে আরামপ্রদ ঘুম, সবকিছু নিঝুম, নিথর আর শান্ত। সামনের দিকে তাকায় আমার বোধের অতীত দৃষ্টি, এবং আমি আভাস পাই যে আমি এমন কোনো কিছুর আরম্ভ যা অশেষ।’
গগ্যঁ তার আত্নজীবনীতে লিখেছেন, ‘আমি এই মায়াপরীদের অনন্তযৌবনা করে যাবো, এবং শ্রদ্ধেয় কবি মালার্মে সত্যিই তাদের অনন্ত যৌবনা করেছেন-প্রেমে ও দেহমাংসে উচ্ছ্বল ও নিশিজাগ্রত। করেছেন

ক্রান্তীয় স্বাদগন্ধ, যুগ-যুগান্তের। আমার বিশ্বাস আপনি যদি নিজের ইচ্ছেমতো জীবন যাপন না করেন তাহলে তার কোনো মানে হয় না। নিজেকে নিজের সৃষ্টিকর্তার হাতে ছেড়ে দেয়ার অর্থ নিজেকে নস্যাৎ করা আর মরে যাওয়া। কেউ ভালো নয়, কেই-ই খারাপ নয়। সবাই একইরকম অথচ আলাদা।
অনেক সময় আমি ভালো লোক;তার জন্য গর্ব করি না। কখনোও আবার বজ্জাত;তার জন্য আপশোষ করি না। সভ্য মানব, মানুষের মাংস না-খাবার জন্য গর্ববোধ করো তোমরা। কিন্তু কখনো নৌকায় ভাসতে হলে খাবে। অন্যদিকে, প্রতিদিন তোমরা নিজেদের প্রতিবেশীর হৃদপিন্ড চিবাও।’
সেই সময়ে বসে শিল্পীর এই ভাবনা এখনো আমাদের নাড়া দিয়ে যায়।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ হেরাল্ড ট্রিবিউন
ছবিঃ গুগল