জীবন যুদ্ধ…

বচ্চন গিরি

এক.
সদ্য যৌবন পাওয়া মেয়েটির স্কুল ড্রেসে প্রথম যেদিন রক্তের দাগ লাগলো রাস্তার মোড়ের ছেলেরা তাকে কটুক্তি করেছিল খুব| তারপর বাড়ি ফিরে মা, ঠাকুমা কে বলতে যখন মা ঠাকুমা তাকে বলেছিল সে এখন অসূচ তার ঠাকুরঘরে যাওয়া নিষেধ, সেই নকুলদানা লোভী মেয়েটেকে জিজ্ঞেস করুন তলপেটের যন্ত্রনা কাকে বলে|

দুই.
সদ্য বাবা মারা যাওয়ায় যে মেধাবী ছাত্রটি পড়াশুনো ছেড়ে অসুস্থ বিধবা মায়ের ওষুধ কেনার জন্য এবং দু’বেলা মা – বেটায় খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য মুদির দোকানে কাজ নিলো তাকে জিজ্ঞেস করুন যন্ত্রনা আসলে কী?

তিন.
তিন বছরের প্রেমের পাঠ চুকিয়ে বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গিয়ে মেয়েটি ছেলেটিকে একদিন ডেকে বললো “তুমি এখনো চাকুরি পাওনি| আশাও নেই| পার্ট টাইম জব করলে পড়ার সময় কখন পাবে যে চাকুরির জন্য প্রস্তুতি নেবে? আমার পক্ষে আর অপেক্ষা করা সম্ভব নয়| চলি, ভালো থেকো” – প্যারালাইসিস মায়ের চিকিৎসা করাতে, অবিবাহিত বোনের পড়াশোনা চালাতে যে ছেলেটি মাঝপথেই সংসারের হাল ধরেছিল তার ঠিক কী দোষ ছিল? সদ্য ব্রেকআপ হওয়া সেই ছেলেটেকে জিজ্ঞেস করুন এখনো কি তার বুকটা হঠাৎ ব্যথায় চিনচিন করে মনের মানুষটিকে চোখের সামনে তার স্বামীর সঙ্গে হাতে হাত রেখে ঘুরতে দেখলে?

চার.
ছেলেটি মেয়েটিকে এক গভীর রাতে জানায় “আমি তোমাকে ভালোবাসি”| মেয়েটি ছেলেটিকে বলেছিল “তুমি একটা বাজে ছেলে| বন্ধু ভাবতাম ছিঃ|” তারপর দীর্ঘ দিন কথার বিরতি| একদিন হঠাৎ ছেলেটি দেখলো রাস্তার ধারে মেয়েটি তার মাতাল বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে বুঁদ| আটকানোর চেষ্টা করতেই সপাটে একটা চড় পড়লো ছেলেটির গালে| সেই ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করুন ‘ভালোবাসার জ্বর’ কাকে বলে?

পাঁচ.
ঝোঁপের ধারে কলেজ ফেরত মেয়েটিকে একলা পেয়ে ধর্ষণ করে ফেলে পালালো পাঁচজন লোক| সারা গায়ে তার নখের আঁচড়, জামা ছেঁড়া, ব্রা ছেঁড়া, যোনিতে চাপ চাপ রক্ত| শর্ট ড্রেস নয় সে পরেছিল চুড়িদার -সেই মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করুন যোনি দ্বার ফেটে যাওয়ার কষ্ট ঠিক কতোটা?

ছয়.
মেয়েটি সুন্দর কিন্তু দিনমজুর বাবার সামর্থ্য নেই ভালো ঘরে, ভালো বরে বিয়ে দেওয়ার| বুড়ো এক মাতাল বাইশ বছরের মেয়েটিকে বিয়ে করে বিনা পণে| রাতের পর রাত শারীরিক ভাবে অত্যাচারের পর মেয়েটিকে এক নিষিদ্ধ যৌন পল্লিতে চড়া দামে বিক্রি করে দেয় মাতাল স্বামী| যৌন পল্লিতে প্রতিদিন নতুন নতুন পুরুষ তার নরম শরীরে হিংস্র থাবা বসায়, তার যোনিপথ ভিজে যায় একাধিক পুরুষের বীর্যে| সেই মেয়েটেকে জিজ্ঞেস করুন তাকে কেন লোকে ‘বেশ্যা’ বলে|

আমরা আসলে চলমান জীবনের সঙ্গে সামন্ঞ্জস্য রেখে শুধু সমালোচনাই করতে জানি| গভীরতা বুঝিনা, সময় কোথায় বোঝার মতো? আকাশের সঙ্গে মাটির বিস্তর ব্যবধান সেটা ক’জন মনে রাখে? জীবন মানে শুধু আমি ভালো আছি নয়, বরং আমার দ্বারা ক’জন ভালো আছে সেটাই জীবনের সংজ্ঞা| যারা চ্যালেঞ্জ নিতে জানেনা আর যাইহোক তারা কখনো জীবিত নয়|

ছবি: গুগল