ভালোবাসি তোমাকে…

কনকচাঁপা শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

এক ছিল এক পুজারী, যে দেবী বানায়।নিপুন হাতে।প্রথমে গুনা বা তার দিয়ে স্ট্রাকচার ঠিক করে।ঠিক যেন কংকাল।তারপর সে খড় দিয়ে দেবীর দেহ সুডৌল করে।খানাখন্দ সাজায়,চড়াই উৎরাই বসায়। দেখে দেখে দেখে

ভুল হলে মোছে,ভাংগে,আবার গড়ে যতক্ষণ না মন মত হয়। তারপর মাটির প্রলেপ দেয়,রঙ দেয়,তুলির আঁচড় দেয়।ডানে বায়ে ঘোরে।আবার দেখে দেখে দেখে।সবকিছু যখন ঠিকঠাক তখন পূজারী দেখে কোথায় যেন খামতি!হঠাৎ বোঝে সে দেবীর চোখে আলো আঁকেনি,আলো মাখেনি,আলো জ্বালেনি।

 অনেক ভাবে ভাবে ভাবে

 অনেক দেখে দেখে দেখে

অনেক থামে থেমে ভাবে

 অনেক ভেবে ভেবে থামে।

 তারপর!!!!!!!!!!!

ভেবেচিন্তে নিজের চোখ উপড়ায়।এবং পুরো নয়ন দেবীর চোখের কোটর এ খুব সাবধানে বসায়।দেবী প্রাণ পায়। পেয়েই চোখ মেলে পূজারী কে দেখে।দেখে ভাবে এই তো পৃথিবী। এঁকেই আমি ভালবাসি। বলে,ভালবাসি তোমাকে। আমি তোমাকে ভালবাসি। আমি সত্যিই তোমাকে ভালবাসি। পূজারী সংশয় এ মাথা নত করে দাঁড়ায়,দাঁড়ায়,দাঁড়ায়। মাথা নীচু করে পা খোঁটে খোঁটে খোঁটে।অনেক সাহস করে পূজারী বলে, আমি তো অন্ধ! আমাকে তুমি ভালবাসো? তুমি না দেবী! লোকে তোমায় পূজো আচ্চা করে,সেই তুমি অন্ধ আমাকে ভালবাসো!!! এ কথা আর কাউকে বইলো না।দেবী উচ্চস্বর এ কাঁচ ভাঙ্গা হাসিতে ভেঙ্গে পড়ে।তারপর থামে।নীরবতা ভেঙ্গে বলে,পূজারী! কেন এতো সংশয়!! তুমি আমাকে তৈরি করেছো!!! চোখের আলো দিয়েছো! নিজের চোখ আমাকে দিলে! সেই চোখ পেয়ে আমার তৃতীয় নয়ন ও খুলে গেছে,সেই তোমাকে আমি ভালবাসবো না,তাও কি কস্মিনকালে সম্ভব? এখানে বলে রাখি একটা কথা,এটা আমার কবিতা অন্ধপূজারী।রুপক অর্থে লিখেছি।এ সৃষ্টিকরণ এর গল্প বলা যায়,কিন্তু আমরা আসলে কিভাবে সৃষ্টি হয়েছি তা কেউই জানিনা।স্রষ্টা আমাদের তার সমস্ত উজাড় করে তৈরি করেন।আমরা জন্মেই বলি,স্রষ্টা! ভালবাসি তোমাকে।তুমি আমাকে সব দিয়ে সাজালে।মনের মত রপ রঙ কাঠামো! তার বিনিময়ে তুমি তো কিছুই পাওনি,চাওনি, কিন্তু আমার জন্ম তোমারই জন্য।ঠিক স্রষ্টা ও নিশ্চয়ই ভাবেন যে এই সৃষ্টির নিমিত্তেই তিনি স্রষ্টা! সৃষ্টির আনন্দ,সৃজনশীল কাজ ছাড়া স্রস্টার কোথাও কোন তৃপ্তি আছে?তাই আমরা যেমন আল্লাহ কে ভালবেসে ধন্য তেমনি আল্লাহও আমাদের সৃষ্টি করে তৃপ্ত। এই যে পরস্পর এর যে পরম্পরা এ এক বিনি সুতার মালা।একজন কে ছাড়া আর এক অসম্পূর্ণ বটে।আমরা আসলেই যখন আল্লাহ, গড,ভগবান কে বলি আমি তোমাকে ভালবাসি, ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি ফিরতি ভালবাসা জানাতে ভোলেন না।চটজলদি বলেন,বিদ্যুৎগতিতে,আমিও তোমাকে ভালিবাসি।তো আমার প্রশ্ন আমরা তো আল্লাহ কে ভয় পাই, উপরওয়ালা মানি, কিন্তু সত্যিকার যে ভালবাসা তা কি তাকে বাসি? এবং আমরা কি তাকে সেটা বলি? জেনে রেখো,আসল প্রিয়তম কিন্তু আল্লাহ।এই দুনিয়াতে প্রেমিক প্রেমিকা স্বামী স্ত্রী কতবার এই কথা উচ্চারণ করে কিন্তু যিনি আমাদের তার নিজের চেয়েও ভালবাসেন তাকে অন্তত দিনে পাঁচবার বলা উচিৎ আল্লাহ তোমাকে আমি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি, ততটা বাসি যতটা না মাকে বাসি,বাবাকে বাসি, না নিজেকে। কিন্তু এই কথাটা মন থেকে বলতে হবে। চাপাবাজি আল্লাহ ধরে ফেলেন। এই কথাটা সত্যি সত্যি বলার জন্য তোমরা প্রস্তুত তো ? বেলা কিন্তু বেশী নাই!!!!!!!!!!

ছবি: গুগল