আমি কার কাছে বাঁচতে শিখবো

শাওনেওয়াজ কাকলী

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

যখন কাছের মানুষ কাছে থাকেনা তখন ঠিক কেউ না কেউ কাছে আসে। প্রকৃতি আমাদের তাই শেখায়, দেখায়, জানায়।
বাংলাদেশ থেকে যেমন একটি ৭১ এর দলিল হারিয়ে গেলো, জাতি হারালো একজন মা আর আমি ঠিক এই মুহুর্তে হারালাম আমার বন্ধু,মনের শক্তি।
মাগো ৩ নাম্বার রোডে আর কিভাবে যাবো?
ওখানে যে আর বাগানে ফুল ফুটে না। ৪ মাস ধরে কতবার হেঁটেছি রাস্তা ধরে ; শূন্য বাগান দেখতে ভালো লাগেনা। বুকের ভেতর গোপন আশা। আমারা আবার সবাই একসাথে বসে আড্ডা দিবো। নানান গল্পে মেতে উঠবো প্রিয়ভাষিণী ফুলের সুবাসে মগ্ন হবো। কিন্তু বাগান শূন্য করে গাছটা আমাদের ফাঁকি দিয়ে চলে গেলো এমন ফুল যে আর পাবোনা। কপালে চারধার ছড়িয়ে আবীরের মাঝে একখানা টিপ, পড়নে তাঁতের শাড়ী, চোখ ভরা কাজল, ভিন্নমাত্রায় মিলিয়ে একটি ব্লাউজ…সদ্য স্নান সেরে রোজ সকালে চারিধারের কাঠের মাঝে যেন একটি ফুল ফুটে থাকতো। খুট খুট কাঠের শব্দের কাজের ফাঁকে প্রিয়ভাষিণী ফুলের হাসি…
সারা পৃথিবী খুজেও যে এমন শক্তিশালী ফুল আমরা পাবোনা।
যেখানে একজন পুরুষই মহৎ হয়না সেখানে তুমি তো মা ছিলে মহান।
তোমার চোখ এড়াতে পারেনি ফুল,লতাপাতা,পশুপাখি, মানুষ, প্রকৃতি তুমি ভালবাসেছো শত্রুকেও হাসি মুখে। কী অসামান্য ছিলো তোমার সঙ্গ।
এতো শূন্যতা বুকে ধরে রাখা যায় না। বুক যে ব্যাথায় ভার বড্ড।
সেদিন তোমায় দেখে বুকে সাহস নিয়ে চলে এলাম এখানে। কত বিকাল, দুপুর, সন্ধ্যা-রাত কেটে গেছে গল্পে গল্পে। আমি আর কোথাও পাবো এমন মা, শক্তি? কে দেবে আমায় বেঁচে থাকার মনবল, সাহস ?
প্রিয়ভাষিণীরা যে একটাই হয়, কালজয়ী মহোয়সী নারী যুগে যুগে একজনই আসে ধ্রবতারা হয়ে। আমি পিংকসিটির আকাশে খুঁজি তোমার মুখ, তোমার বানী… কেউ আর ফোন দিয়ে বলবে না তুই কয়েকদিন আসিস না কেনোরে…আমার উপর রাগ করেছিস?
কানের ভেতর যখন এই শব্দ বাজছে আমি আর হাসতে পারছিনা মা আজ…বড় কান্না পাচ্ছে !
হ্যা,আজ খুব রাগ হচ্ছে…
কেন আমাকে একা রেখে চলে গেলেন?
জানেন না আমার কেউ নেই।
আমি কার কাছে বাঁচতে শিখবো?
আমার তো শিখা শেষ হয়নি।
আমার তো কান্না পায় এখনো,
আমি তো এখনো শক্ত হইনি।
আমার অনেক রাগ হচ্ছে …
আমাকে কপালে কে চুমু দেবে?
আমাকে খেতে কে ডাকবে?
আমি কার জন্য রান্না করে পাঠাবো?
আমার কুকুর ছানার গুলোর খবর কে নিবে ?
এমন মা আমি কোথায় পাবো ?
কতবার বলেছি, আন্টি আপনি কেন আমার আপন “মা” হলেন না।
চুমু আর চুমু ললাট জুড়ে… বললেই।
যেন এটাই আমার লোভ হয়ে গেলো।

তুমি মা, তুমি স্বাধীনতা, তুমি বাংলাদেশ… তুমি যে সারাজীবন সন্তানের বুক জুড়েই থাকবে তা যত ব্যথাই হোক, কষ্ট তো থাকবেই জীবনে তুমি শিখিয়েছো। এর ভেতরই আনন্দ। তোমার স্মৃতিই আমার বেঁচে থাকার আনন্দ ।

ছবি : লেখকের ফেইসবুক থেকে