ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান চেজ

আহসান শামীম

রেকর্ড গড়েই ধুঁকতে থাকা টাইগারা ৫ উইকেটে লঙ্কানদের হারিয়ে, টিকে থাকলো  নিদাহাস কাপ ট্রফিতে।টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে টাইগাদের জয়।এই জয়ের ফলে এক বছর পর টাইগারা টি-টুয়েন্টি ম্যাচে জয়ের দেখা পেলেন।

শ্রীলংকার নিদাহাস ট্রফির টাইগাদের দ্বিতীয় ম্যাচে লঙ্কানদের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত  নেন টাইগার অধিনায়ক রিয়াদ। ব্যাট হাতে টাইগার বোলারদের নাস্তানাবুদ করেন লঙ্কান ব্যাটাররা। ১২০ বলে টাইগাদের জয়ের জন্য লঙ্কানদের টার্গেট ২১৫।কলম্বোর প্রেমাদাস স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের এটাই সেরা পারর্ফমেন্স।এর আগে কোন দলই এই মাঠে এত রান করতে পারে নি।এর আগে ২০১২ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান সংগ্রহ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে অস্ট্রেলিয়াকে ১৩১ রানে অল আউট করে ৭৪ রানে জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা।জিতে হলে টাইগারদের টি-টুয়েন্টিতে রের্কড রান করতেই হবে। টাইগারদের টি-টুয়েন্টির সর্বোচ্চ রান ছিল ১৯৩ লঙ্কানদের বিপক্ষেই।অবশ্য সেরা রান চের্জ ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬৬/৬।

লঙ্কানদের বিশাল রানের বোঝা তাড়া করতে লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনিং করতে ক্রিজে আসেন তামিম ইকবাল। ৪.১ ওভারে তামিম ১৩ বলে ২৫ আর লিটন দাস ১২ বল ২৩ রান করে দলকে প্রথম অর্ধশত রানের মুখ দেখান।৫ ওভার শেষে টাইগাদের দলীয় রান ৬৫।৫.৫ ওভারে দলীয় ৭৪ রানে ১৯ বলে ৪৩ রান করে প্রদীপের বলে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাশ।

লিটন দাশের পর ক্রিজে নামেন সৌম্য।এসময় সৌম্যের ধীর গতির পাশে আক্রমনাত্মক তামিমের ৯.১ ওভারে দলীয় শতরান পূর্ন করার পরেই থেসেরা পেরেরার স্লো বলে ২৯ বলে ৪৭ রানে পেরেরার হাতেই ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তামিম।

তামিম -লিটনের আউটের পর রান তোলার গতিতে  কমে যায়।মুশফিক কিছুক্ষনের মধ্যেই ছন্দে ফিরলেও সময় নেন সৌম্যে।১৪ তম ওভার শেষে টাইগারদের দলীয় সংগ্রহ ১৫০। সৌম্য ২১ বলে ২৪ আর মুশফিকের ১৭  বলে ৩১ রান করে অর্ধশত জুটি গড়েন।১৪.২ ওভারে সৌম্য আউট হন।১৫ তম ওভারে টাইগারদের দলীয় রান ১৫৭/৩ ।জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩০ বলে ৫৮ রান।

সৌম্যের পর ক্রিজে নামেন অধিনায়ক রিয়াদ।১৬ তম ওভার শেষে দলীয় রান ১৭৩/৩। জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৪ বলে প্রয়োজন ৪০ রান।১৭ তম ওভার শেষে দলীয় রান ১৮৮/৩ জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৮ বলে ২৭। ১৭.১ ওভারে মুশফিক ২৪ বলে ব্যাক্তিগত অর্ধশত পূর্ন করেন।১৬ বলে জয়ের জন্য ২২ রানের দরকার এমন সময় অধিনায়ক রিয়াদ  বলে রান করে আউট হন।এরপর সাব্বির ২ বলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন।৩০ বলে ৬৩ রান করা মুশফিক শেষ ওভারে ব্যাটিংএ । জয়ের জন্য ৬ বলে প্রয়োজন ৯ রান।টানটান উত্তেজনায় ১৯.১ বলে মুশফিক ২ রান করেন আর ১৯.২ ওভারে চারের মার মারেন জয়ের জন্য প্রয়োজন ৪ বলে ৩ রান।১৯.৩ ওভারে স্কোর সমানসমান।১৯.৪ ওভারে ৩৪ বলে ৭২ রান করা মুশফিক , টাইগাদের ঐতিহাসিক জয় সুচক রান করে ৫ উইকেট লঙ্কানদের হারিয়ে প্রেমাদাস স্টেডিয়ামে নতুন রেকর্ড বইয়ের পাতায় টাইগারদের নাম লেখান।

এর আগে কুশল মেন্ডিসের ব্যাটে শুরু থেকে ঝড় তুলেছিল শ্রীলঙ্কা, যা শেষ করেন কুশল পেরেরা। দুজনের দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরিতে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া বাংলাদেশকে ২১৫ রানের লক্ষ্য দেয় স্বাগতিকরা। ৬ উইকেটে লঙ্কানরা করেছে ২১৪ রান।বাংলাদেশের পক্ষে মুস্তাফিজ তিন ও অধিনায়ক রিয়াদ লঙ্কানদের দুই উইকেট তুলে নেন।

ছবিঃ ইএসপিএন