সিটি দ্যাট নেভার স্লিপস

স্মৃতি সাহা

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর জনবহুল নগরী নিউইয়র্ক, যাকে বলা হয় “সিটি দ্যাট নেভার স্লিপস”। এই নগরী সদা ব্যস্ত। তবে ব্যস্ত নাগরিক জীবন যদি এই নগরীর দান হয়ে থাকে তবে রিক্রিয়েশন বা আনন্দদানের যে অজস্র উপাদান ছড়িয়ে আছে নগরময় তাও এই বৃহৎ নগরীর অবদান। এই নগরীতে রয়েছে সংস্কৃতি, শিল্প, স্থাপত্য, ইতিহাস আর বিনোদনের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন, রয়েছে অনেককিছু দেখা আর অনেককিছু করার অনবদ্য সুযোগ; যা প্রতিনিয়ত নিউইয়র্কে করে তোলে অনন্য। আর এই “অনন্য নিউইয়র্ক” অজস্র পর্যটককে আকৃষ্ট করবে তা যেন আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এজন্য নিউইয়র্ককে পর্যটকের নগরীও বলা হয়ে থাকে।

টাইম স্কয়ার

আজ নিউইয়র্কের কিছু দর্শনীয় স্থানের গল্প করা যাক বরং। ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০০১ এ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সকল নাগরীকের স্মৃতির সম্মান প্রদর্শনের উদ্দ্যেশে নির্মিত মেমোরিয়াল, নিউইয়র্কের একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এখানে দু’টি ব্রোঞ্জের পুলে সেদিনের আক্রমণে নিহত প্রতিটি নাগরিকের নাম খোদাই করা আছে। এখানে মাল্টিমিডিয়া তে প্রতিনিয়ত সেদিনের আক্রমণের বিভিন্ন দিক নিয়ে তথ্য, ছবি, আলোচনা প্রদর্শন করা হয়। গ্র‍্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনাল; এই স্টেশন টিকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর স্টেশন বলা হয়ে থাকে, যা নিউইয়র্কে আসা পর্যটকদের কাছে কৌতুহলের জায়গা। ১৯১২ সালে স্থাপিত একটি ওপাল গ্লাসের বিশাল আকারের ঘড়ি আর অভিনব সিলিং এই জায়গার অন্যতম আকর্ষণ। আরোও আছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ডাইনিং, এক্সিবিশন হল,বাৎসরিক ক্রিসমাস বিপপণ কেন্দ্র। রকফেলার সেন্টার; উনিশটি বিল্ডিং এর সমন্বয়ে একটি কমপ্লেক্স। এখানে রয়েছে অসংখ্য কর্পোরেট অফিসের প্রধান কার্যালয় যেমন: জেনারেল ইলেকট্রিক, এনবিসি স্টুডিও। সত্তর তলা বিশিষ্ট এই বিল্ডিংগুলোর ছাদ থেকে মেলে নিউইয়র্ক নগরীর ৩৬০ ডিগ্রী ভিউ।বিশেষ করে এই রকফেলার সেন্টার হলিডে সিজনে হয়ে ওঠে পর্যটকদের আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় ক্রিসমাস ট্রি রাখা হয়  এখানেই। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয় স্কেটিং রিংক আর রেডিও সিটির ক্রিসমাস ডেকোরেশন ; যা হলিডে সিজনে সকলকে টেনে নিয়ে যায় রকফেলার সেন্টারে। ফিফথ এভিনিউ ; বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শপিং স্ট্রিট হিসেবে পরিচিত। রুচিশীল আর আভিজাত্য মেলবন্ধন পেতে হলে আপনাকে যেতেই হবে ফিফথ এভিনিউ তে। মিডটাউন ম্যানহাটনের স্ট্রিট নম্বর ৪৯ থেকে ৬০ পর্যন্ত সারি সারি রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনার শো রুম আর সব বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল শপ। ব্রুকলিন ব্রিজ; যা নির্মিত হতে সময় নিয়েছে ১৮৬৯ থেকে ১৮৮৩ সাল পর্যন্ত। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ব্রিজ এটি।

ব্রুকলিন ব্রিজ

ইস্ট নদীর উপর অবস্থিত এই ব্রিজটি ম্যানহাটন আর ব্রুকলিন কে সংযুক্ত করেছে। এই বিখ্যাত ব্রিজটির উপর দিয়ে দর্শনার্থীরা হেঁটে, ড্রাইভ করে বা সাইকেল চালিয়ে উপভোগ করতে পারে এই ব্রিজের সঙ্গে সঙ্গে নিউইয়র্কের সৌন্দর্য। টাইম স্কয়ার ; বছরে প্রায় ৩৯ মিলিয়ন পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে থাকে টাইম স্কয়ার, যা পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্যটকের ভিজিটর স্পট হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। উজ্জ্বল আলো আর বড় শহরের ছবি সঙ্গে বাণিজ্যিক পাড়ার আবহ এই স্থানকে অনন্য করে তোলে। নতুন বছরের সূচনায় ঐতিহাসিক “নিউ ইয়ার্স বল ড্রপ” যা শুরু হয়েছিলো ১৯০৭ সালে এই টাইম স্কয়ারেই। এ ছাড়াও শপিং, বিনোদন আর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ডাইনিং দিয়ে সাজানো এই পুরো এলাকা যা আপনাকে প্রতি মুহূর্তে নিউইয়র্কের প্রাণচাঞ্চল্যের গল্প শুনিয়ে যাবে। নিউইয়র্কের দর্শনীয় স্থানের গল্প আসলে এত অল্পতে শেষ হবে না। তাই পরের পর্বে আরো গল্প শোনানোর আশা রইলো।

ছবিঃ গুগল