অবিস্মরণীয় জয় বাংলাদেশের

আহসান শামীম

শ্রীলংকার ৭০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠতে ব্যার্থ হলেন।রিয়াদের অবিস্মরনীয় ১৮ বলে ৪৩ রানের সুবাধে ২ উইকেটে লঙ্কানদের বিপক্ষে জয় তুলে নেন।ম্যাচের শেষ ওভারে শ্রীলংকার পরপর দুই ওয়াইড বল করার পরও আম্পায়ার “নো” বল না দিলে মাঠে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।আগামী রোববার ভারতের বিপক্ষে টাইগারা নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে মুখেমুখী হবে।

২০০৭ সালের এই দিনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার রানা। একই সঙ্গে প্রাণ যায় খুলনা বিভাগীয় দলের আরেক ক্রিকেটার সাজ্জাদুল হাসান সেতুর। পরদিনই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।সেই ম্যাচে বিশ্বকাপে ভারত-বধ করেছিল টাইগারা। পোর্ট অব স্পেনে বাংলাদেশের কাছে ৫ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছিল শক্তিশালী ভারত।২০১২ সালে রানার ঠিক মৃত্যুদিনে আরেকবার ভারত-বধ করেছিল টাইগাররা। সেটা ছিল আবার শচীন টেন্ডুলকারের শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির দিন।এশিয়া কাপে ঢাকায় ২৯০ রান তাড়া করে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টেন্ডুলকারের শততম সেঞ্চুরি ম্লান করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই দিনেই ঢাকায় আফগানিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা।রানার মৃত্যুদিনে আজ আবার মাঠে নামে টাইগারা  প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। রানার মৃত্যুদিনে আজ আবার একই দিনে লঙ্কানদের হারিয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উঠলো টাইগারা কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অঘোষিত ফাইনালে লঙ্কানদের বিপক্ষে টাইগারা। ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান ইনজুরি থেকে ফেরা বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।বাংলাদেশের বোলিং নৈপুণ্যে দিশেহারা শ্রীলঙ্কা।টাইগার অধিনায়কের আমন্ত্রণে খেলতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৪৩ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারায় লঙ্কানরা। লঙ্কানদের স্কোর ৬ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৩৬ রান আর ১০ ওভারে লঙ্কানদের দলীয় রান ৫৩/৫।শেষ দশ ওভারে লঙ্কানরা ২ উইকেটের বিনিময় ১০৬ রান করলে, জয়ের জন্য টাইগারদের টার্গেট ১৬০।টাইগারদের পক্ষে মুস্তাফিজ ২, সাকিব, মিরাজ, সৌম্য আর রুবেল ১ টা করে উইকেট পান।
কুশল পেরেরা আর থেসেরা পেরেরা বিপক্ষে লাগামছাড়া বোলিংয়ের ফলে দুই পেরেরার ৯৭ রানের জুটি লঙ্কানদের বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে।১৯ তম ওভারে ৪০ বলে ৬১ রান করা কুশল পেরেরাকে সাজঘরে ফেরান সৌম্য সরকার।শেষ ওভারে রুবেলের বলে ৩৭ বলে ৫৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন থিসার পেরেরা।
জয়ের জন্য ১৬০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই আকিলার বলে দলীয় ১১ আর ব্যক্তিগত শূন্য রানে লিটন দাশ সাজঘরে ফিরলে, মাঠে নামেন সাব্বির।আকিলার প্রথম ওভারের শেষ দুই বলে সাব্বির দুই চারের মার মারেন।আকিলার দ্বিতীয় ওভারে ৮ বলে ১৩ রান করে সাব্বির উইকেট রক্ষক পেরেরা স্টাম্পিং এ সাজঘরে ফেরেন সাব্বির।দলীয় ৩৪ রানের মাথায়।এরপর মাঠে নামেন মুশফিক।পাওয়ার প্লেতে টাইগারদের সংগ্রহ ৫০/২।তামিম- মুশফিকের সর্তক ব্যাটিং এ ১০ ওভারে টাইগারদের সংগ্রহ ৮০/২।১২.৩ ওভারে দলীয় ৯৭ রান আর ব্যক্তিগত ২৫ বলে ২৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক।আউট হওয়ার আগে তিনি তৃতীয় টাইগার ব্যাটসম্যান তামিম, সাকিবের পর নিজের টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের এক হাজার রানে পৌঁছান।১৩.৪ তম ওভারে ৪১ বলে অর্ধশত রানে পূর্ন করার পরই সাজঘরে ফেরেন, দলীয় ১০৫ রানের মাথায়।জয়ের জন্য টাইগারদের প্রয়োজন তখন ৩৬ বলে ৫৫ রান ১৪.৫ ওভারে সৌম্য দলীয় ১০৯ রানের ব্যাক্তিগত ১১ বলে ১০ রানে সাজঘরে ফিরে গেলে দোদুল্যমান হয়ে যায় টাইগারদের জয়ের আশা।১২ বলে জয়ের জন্য ২৩ রানের মাথায় সাকিব ফিরে যান সাজঘরে।এসময় একমাত্র ভরসা ১১ বলে ২২ রান করা রিয়াদ।মিরাজ শূন্য রানে রান আউট হলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ১২ রান।১৫ বলে ৩১ রান করা রিয়াদ তখন বোলিং প্রান্তে।১৯.২ ওভারে মুস্তাফিজ রান আউট হলে রিয়াদ ফিরে যান ব্যাটিং প্রান্তে।রিয়াদ ১৮ বলে ৪৩ রান করে টাইগারদের জয়ের অনন্দে মাতহারা করেন।
 ছবি: গুগল