জিতলো দুর্ভাগ্যঃ হারলো বাংলাদেশ

আহসান শামীম

নিদাহাস কাপ ট্রফির রূদ্ধশ্বাস ফাইনালে ১৯তম ওভারে রুবেলের বলে দিনেশ কার্তিকের ২২ রান বাংলাদেশের মুখ থেকে হাসি কেড়ে নিল ভারত। আর দিনেশ কার্তিকের ৮ বল ২৯ রান হাসি ফোটালো ভারতের মুখে।

গেল তিন বছরে আজকের ম্যাচ সহ ষষ্ঠ বারের মত কোন নক আউটে মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ , কোন বারই ভারতকে হারাতে পারলো না ।২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে ১০৯ রানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ দল। সেই ম্যাচে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পাশাপাশি নো-বল বিতর্ক আর আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয় বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপের বৃষ্টি বিঘ্নিত ফাইনালে ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরে রানার্স আপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশ দলকে।একই মাসে আরও একটা স্বপ্নভঙ্গের শিকার হয় মাশরাফি বাহিনী। সেবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিমের ভুলে মাত্র ১ রানে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিতে পারেনি লাল-সবুজের দল। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ ছিল বৈশ্বিক কোন আসরের ফাইনালে ওঠার। সেমিফাইনালে ৯ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে উঠে ভারত।আর ১০১৮ সালে শ্বাসরূদ্ধ ফাইনালে শেষ বলে ৪ উইকেটে হারলো বাংলাদেশ।

টসে হেরে সাকিব খুশী।জিতলে সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। টস হারার পর এমন মন্তব্যই করলেন। ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা টস জিতে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নেন।অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে ফাইনালের লড়াইয়ে নামে বাংলাদেশ। ভারতের দুর্দান্ত স্পিন ঘূর্নি আর অসাধারন ফিল্ডিং এ দ্রুতই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

লিটন কুমার দাস ৯ বলে ১১ রান করে ওয়াশিংটনের বলে রায়নার হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট।এরপর শার্দুল ঠাকুরের বলে ১৩ বলে ১৫ রান করা তামিমকে সীমানার কাছে শার্দুল দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফেরত পাঠায়। চাহালের বলে একই ওভারে মাত্র ১ রান করে ধাওনের ক্যাচে আউট হন সৌম্য সরকার। ৫.১ ওভারে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৪৩/৩।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে মুশফিক-সাব্বিরের ব্যাটে রান বাড়াতে থাকে টাইগাররা। ১২ বলে ৯ রান করে চাহালের বলে মুশফিক শঙ্করের হাতে ক্যাচ দিলে এই দুর্দান্ত জুটি ভাঙে। এরপর সাব্বিরের সাথে যোগ দেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।সাব্বিরের সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে ২১ রানে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১৪.৪ ওভারে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ১০৫/৫।সাকিবের সাথে সাব্বির ৩৭ বলে ব্যাক্তিগত অর্ধশত রান করেন।১৬ ওভারে সংগ্রহ ১২০/৫। সাকিবও রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ৭ রান করে।আর  সাব্বির ৫০ বলে ৭৭ রান করে উনাদকাটের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। একই ওভারে কোনো রান না করে বোল্ড আউট হন রুবেল হোসেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ৭ বলে ঝড়ো ২৫ রানের ইনিংসে বাংলাদেশের ২০ ওভার ১৬৬ রান সংগ্রহ করে।

ফাইনালে ম্যন অফ দ্য ম্যাচ হলেন দিনেশ কার্তিক আর হিরো অফ দ্য সিরিজ ওয়াশিংটন সুন্দরম।

ছবিঃ ইএসপিএন