ভালো খেললে ম্যাচ জিততো বাংলাদেশ

আহসান শামীম

বাসার কাজের বুয়া দেরী করে এলো। মন খারাপ, আজ কাজ করতে পারবে না। কারণ একটাই বাংলাদেশ হেরেছে। রাতে ঘুমায়নি।বুয়াকে সান্তনা দেওয়ার পর কাজ করতে রাজী হলো।কাজের ফাঁকে বকবক করছে , না খাওয়া দাওয়া করলে জিতবো ক্যামনে ? কিছুক্ষন পরই তার উল্টো কথা, রুবেল মনে হয় বেশি খায় ওর কি দরকার ছিলো অত জোড়ে বল মারার, ব্যাটে লাগে আর বল মাঠ ছাড়ায়ে চইলা যায়। বুয়ার এই বকবকানী শুনে বুঝলাম বাংলাদেশের ক্রিকেট গনমানুষের রক্তে মিশে গেছে।

খেলায় হারজিত থাকবেই। আলোচনা সমালোচনা চলবেই। বাংলাদেশ হারার পরও তাদের ভাল খেলার জন্য অভিনন্দন  দিতে আমি রাজী নই।ভাল খেললে ম্যাচ জিততো বাংলাদেশ । আমার মনেই হয়নি বাংলাদেশ ভাল খেলেছে।হারের দায়িত্ব অনেকটাই অধিনায়ক সাকিবের ওপর বর্তায়।মাহামুদউল্লাহ’র  আউটের পর দায়িত্ব নিয়ে অধিনায়ক সাকিবের ব্যাট হাতে খেলা উচিত ছিল।সেই দায়িত্ব নিতে ব্যার্থ হয়েছেন তিনি।৭ বলে ৭ রান করে আউট দায়িত্ব পূর্ন অধিনায়কোর কাছ থেকে আসা করা যায় না।সহ অধিনায়ক মাহামুদউল্লাহ’র রান আউটটা মানতে রাজী না।ধরেই নিলাম ভুল সাব্বিরের,তারপরও মাহামুদউল্লাহ নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে সময়ক্ষেপন না করলে আউট  হতেন না, চেষ্টার এই ঘাটতি ফাইনাল জয়ের বড় বাধা হয়ে দাড়ায়।

ফিল্ডিং মুটামুটি অন্য সময়ের চেয়ে কিছুটা ভাল, ভুলে গেলে চলবে না ফাইনালে বাংলাদেশ পাঁচটা রান আউটের সুযোগ নষ্ট করেছে। জয় পরাজয়ের ব্যাবধান সেখানেই।এরপরও বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব শতভাগে সন্তুষ্ট। সন্তুষ্টির কোন কারনই খুঁজে পেলাম না।১৮ তম ওভারে মুস্তাফিজের বলিং দেখে বিশ্বাস হচ্ছিল  বাংলাদেশ জিতবে। নিয়মিত বোলার মিরাজ প্রথম ওভারে ১৫ রান দেওয়ায় তাকে আর বল করতে দিলেন না সাকিব।এমন পীচে মাহামুদউল্লাহ দিয়েও বল করান যেত। অধিনায়ক সাকিব তাও করলেন না। অনিয়মিত বোলার সৌম্যেকে দিয়ে তিন ওভার বল করানোর কোন যুক্তিই মাথায় ঢুকছে না। প্রথম তিন ওভারে রুবেলের বোলিং পরিসংখ্যান ১৩/২। দারুন বল করেছেন, তাঁকে দিয়েই শেষ ওভারটা করালে যৌক্তিক হত।অধিনায়ক সাকিব সেটাও করলেন না।১৯ তম ওভরটা মিরাজ বা মাহমুদউল্লাহকে দিয়ে বল করালে যর্থাত হতো।  হয়তো তাতেও দল হারতো। কিন্তু তারপরও মনকে সান্তনা দেওয়ার একটা জায়গা তৈরী হতো। সৌম্যের শেষ ওভারের মঝপথে পানি নিয়ে মাঠের মধ্যে ঢোকার কারণ বোধগম্য হচ্ছে না। এটা ক্রিকেট রীতির বাইরে। সৌম্যের বোলিং এ মনোসংযোগ ব্যাঘাতের জন্য সেটা যথেষ্ট ছিল বলে মনে হয়। এর দায়ভারও এসে পরে অধিনায়ক সাকিবের ওপর।

সাকিবের ছেলেমানুষী পুরো জাতিকে হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছে। যেখানে পুরো জাতি বিজয় উৎসবের জন্য প্রস্তুত ছিল, সেখানে সবাই চোখের জলে ঘরে ফিরেছে।

ছবিঃ ইএসপিএন