আমার স্বাধীনতা…

জিসান জয়া

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

শনিবার আমার স্বাধীনতা দিবস। বাচ্চাদের বাবা বাসায় থাকে। তার কাছে তার বাচ্চাদের বন্ধক রেখে আমি ইচ্ছামত স্বাধীনতা ভোগ করি।

একজন মা সারাবছর সন্তান লালনপালন করেন। সাংসারিক বেশিরভাগ কাজকর্ম মা-ই করেন। হোক সে চাকরীজীবী, হোক গৃহিণী। কিন্তু প্রতিদিন একইধরনের কাজ মায়ের জীবনকে একঘেয়ে করে দিতেই পারে। মা মানসিকভাবে অস্থির হতে পারেন যা তার ব্যক্তিগত সকল বিষয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মায়েদের প্রয়োজন মাঝেমধ্যে নিজের জন্য কিছু সময় কাটানো। হতে পারে আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়ি, হতে পারে সিনেমা থিয়েটার। হতে পারে পার্লার, অথবা শপিং।

নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে মা তার নিজের ইচ্ছানুযায়ী একটা দিন, নিদেনপক্ষে কয়েকটা ঘন্টা কাটাতেই।পারেন। এই বিষয়ে বাবারা অবশ্যই মাকে সাহায্য করবেন। সেইসঙ্গে পরিবারের অন্যান্যরা। বাচ্চাকে সামলিয়ে মাকে নিশ্চিন্তে সময়টা কাটানোর সুযোগ করে দিতে পারেন।

কাল ছিল আমার স্বাধীনতা উপভোগ করার একটা চমৎকার দিন।

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে বের হলাম। পেন্সিল গ্রুপের আয়োজনে একটা ছোট্ট লাইব্রেরী করার কথা ছিল নরসিংদীর আবেদ আলী কলেজে। গ্রুপ থেকে কিছু বই আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন রেজওয়ান ভাই। আমি নিজে কিছু বই কিনে রেখেছিলাম। আগেই অর্ডার দিয়ে তৈরী করে রেখেছিলাম একটা বুকশেলফ। সহযোগিতা করেছেন চাচা আব্দুল হালিম। সকাল সাড়ে আটটায় বইগুলি গুছিয়ে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম বেইলিরোড। সেখান থেকে কিছু নাস্তা কিনে নিয়ে রওনা হলাম নরসিংদীর উদ্দেশ্যে। ছুটির দিন থাকায় ফাকা রাস্তা। তিন’শ ফিট হয়ে যেতে বেশি সময় লাগেনি। মাঝে গাউসিয়া নামের জায়গায় নেমে কিছু কাপড় কিনলাম। ড্রাইভারকে চা খেতে সুযোগ করে দিলাম। কাপড়গুলি আমাদের দেশি। দামে সস্তা কিন্তু এতো চমৎকার! আরামদায়ক! আবার যাত্রা শুরু করে দুইঘন্টার মাধ্যেই নরসিংদী পৌছে গেলাম।

উঠেছিলাম হালিম কাকার বাসায়। ছোটভাই বুলবুল, বোন নিশা আর ভাইবউ নাজরিনা ছিল সেখানে। আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ জনাব একে আহসান মাহবুব ভাই। তাই আমরা অপেক্ষা না করে চলে যাই কলেজ ক্যাম্পাসে। আমরা যাবার পরপরই পৌছে যান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মঞ্জুর এলাহি। ছিলেন শিবপুরের মান্নান ভুইঞা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা জনাব শাহানশাহ শাহীন। সম্মানিত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাদের কাছে হস্তান্তর করি শেলফ এবং বই। অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন তাঁরা। সেই সঙ্গে আমি নিজে। সকল কাজের সঙ্গে থাকতে পেরে খুবই ভাল লাগছিল। মাহবুব ভাই চমৎকার আপ্যায়ন করলেন অতিথিদের। কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁকে।
সেখান থেকে বেরিয়ে চাচার বাসায় আসি আবার। নানান সুস্বাদু আয়োজন দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করে ভাইবোন চাচার সঙ্গে একান্ত কিছু সময় কাটিয়ে বের হই বাসার উদ্দেশ্যে। মাঝখানে একটা চমকপ্রদ আয়োজন ছিল আমার জন্য।
কোডার একসময়ের দুষ্ট ছাত্র অপু। ওর একটা ডায়িং ইন্ডাস্ট্রি আছে ওখানে। আগেই কথা ছিল ওর ওখানে চা খেয়ে আসবো। সন্ধ্যা ঘনাচ্ছিল বলে দেরী না করে ওর ইন্ডাস্ট্রি ঘুরতে বেরিয়ে গেলাম। কাপড় রঙ করার নানান প্রসেসিং দেখা শেঢ করে দেখলাম ওর গরুর খামার, টমেটো, কাচামরিচ, বেগুন, লাউ,পেপে, লেবু মিষ্টিকুমড়ার ক্ষেত। ছিল মাছের চাষ। এমনকি গরুর খাবারের জন্য ঘাসের চাষও করেছে স্বঘোষিত পোংটাপোলা অপু। ভীষণ ভালো লাগলো ওর কাজকর্ম। শুনলাম ওর জীবনবোধ, উপলব্ধি। মানুষ শুধু খেতে জন্মায় না। মানুষ স্রষ্টার সৃষ্টির সেবা করতে জন্মায়, এটা অপু আরেকবার আমাকে মনে করিয়ে দিল। অপুর আন্তরিকতায় আমি ছিলাম মুগ্ধ। কফির পেয়ালা শেষ করতে করতে শেষবেলা। ফেরার পালা। অপুর ক্ষেতের সবজি দিয়ে গাড়ি বোঝাই করে নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করলাম।

জ্যাম ঠেলে ফিরলাম রাত দশটায়।
ফিরে এসে দেখলাম নাহ, কিছুই বাদ যায়নি আমি না থাকায়। খাবার দাবার খেয়েছে। অতিথি আপ্যায়ন, গোসল, ঘুম সবই কমবেশ হয়েছে। শুধু ঘরটা দেখে মনে হয়েছে যে হালকা একটা ঝড়তুফান বয়ে গেছে।

সে যাক। আমার স্বাধীনতা দিবস ছিল ১০০% সফল। ফুয়েলের একটা ব্যাপার থাকে না!

ছবি:লেখকের ফেইসবুক থেকে