গুলজার কি সুচিত্রা সেনের প্রেমে পড়েছিলেন…

যে রাতে মাতাল সঞ্জীব কুমারের হাত থেকে সুচিত্রা সেন-কে বাঁচিয়েছিলেন সম্পূরণ সিং কালরা ওরফে গুলজার।’আঁধি’ সিনেমার সেলেব্রেশন পার্টি‘র পর বিপন্ন নায়িকার পাশে সারাক্ষণ ছিলেন এই কবি ও ছবি পরিচালক। সুচিত্রাকে হোটেলের রুম-এ পৌছে দিয়েছিলেন | তার পরেও অনেকক্ষণ বন্ধ দরজার ওপাশে ছিলেন সুচিত্রার সঙ্গে। হয়তো তার মন ভালো করতেই। কিন্তু সে রাতে ভালোবাসার শহর কাশ্মীরের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিলো। সুচিত্রা সেনকে ঘরে রেখে নিজের ঘরে ফিরে আসতেই তাঁর বুকের ওপর ভেঙ্গে পড়েছিলেন স্ত্রী রাখি। বলেছিলেন, ‘’ও আমার থেকেও তোমার বেশি আপন? তাই ওর বিপদে পাশে থাকো? অন্যের লোভ থেকে ওকে বাঁচাও? যত্ন করে ঘর পর্যন্ত পৌছে দাও? মন ভালো না হওয়া পর্যন্ত একলা ফেলে আসতে পারো না? ও তোমার কে গো? আমি তাহলে কি?’

সেই রাতে রাখির অভিমানের কোনো জবাব ছিল না ভীষণ ভদ্র, আপাত শান্ত, নির্বিরোধী, কবি-ছবি করিয়ে-শিল্পী গুলজারের কাছে | শুধু এলোমেলো কিছু কথা হয়তো জ্বলে উঠে নিভে গিয়েছিলো দুজনের মাঝে। কাঁদতে কাঁদতে হয়তো রাতের ঘড়ির কাটা এগিয়ে চলেছিলো শুধু। রাখির অবুঝপনায় ক্লান্ত গুলজার তখন মদ্যপান করে টালমাটাল। ভূস্বর্গও সেদিন আটকাতে পারেনি রাখি-গুলজারের ভাঙ্গন | পরের দিন সকাল গোটা ইউনিট দেখেছিল, আগের দিনের কুচকোনো বাসি পোশাকে, এলোমেলো গুলজারের চোখে-মুখে নেশার ছাপ।রাখির কপালে, গালে কালচে নীল দাগ।

কার ঘর সেদিন সত্যি সত্যি ভেঙ্গেছিল? রাখির না গুলজারের? নাকি দু’জনেরই? ফিরে দেখতে চাইলে ঘুরে তাকাতে হবে এই দুই শিল্পীর উত্থান পর্বের দিকে। তারা তখন সিনেমার দুনিয়ায় মধ্যগগনে। তখন রাখি ভালবাসেন কবিতা আর গুলজারের পছন্দ বাঙালি সংস্কৃতি, বাঙালি মেয়ে | ফলে দুজনের মাঝে প্রণয় গড়ে উঠতে সময় নেয় নি। গুলজারের আগে সম্বন্ধ করে রাখির বিয়ে হয়েছিল পরিচালক অজয় বিশ্বাসের সঙ্গে | সে বিয়ে ভেঙ্গে গিয়েছিলো। গুলজারও মীনা কুমারীর কাছে ফেলে এসেছেন অসফল সময়। তাই ঝট করে ঘর বেধেছিলেন দুই তারকা | দিলীপ কুমার, অমিতাভ, রাজেশ খান্না, জিতেন্দ্র চার হাত এক হওয়ার সাক্ষী ছিলেন |

কিন্তু গুলজার যতই কবি হন, আসলে তো রক্ত-মাংসের মানুষ | প্রেমিকা বধূ হয়ে ঘরে পা রাখতেই তাঁর দখলদারির সত্ত্বা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। সেই জোরেই গুলজার রাখিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ‘বিয়ের পর আর ক্যামেরার সামনে আসবে না।’ ঘর টেকাতে হাসিমুখে রাজি হয়েছিলেন রাখি স্বামীর শর্তে। ভেবেছিলেন, স্বামীর পরিচালনায় সিনেমায় কাজ করবেন। কিন্তু গুলজার তাঁর  ‘মৌসম’ এবং ‘দাগ’ ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় নিয়ে এলেন শর্মিলা ঠাকুরকে। আহত-অভিমানী রাখির মন থেকে ভালবাসা আস্তে আস্তে পিছু হটতে শুরু করে তখন থেকেই |

রাখির হাতে তখন অনেক অফার। কিন্তু গুলজার মুখের ওপর না বলে দিচ্ছেন | রাখি আবার গুলজারের ছবিতে শর্মিলাকে চাইছেন না | গুলজার বেছে বেছে তাকেই নিচ্ছেন | প্রেম তখন পলাতক, বন্ধুত্ব পৌঁছে গেছে তলানিতে | সম্পর্ক তখন থেকেই ভাঙ্গব ভাঙ্গব করছিলই | কফিনে শেষ পেরেক গেঁথে দিলো ‘আঁধি’র সেলিব্রেশন পার্টি। সে রাতের পার্টি-তেই সঞ্জীব কুমারের বেলেল্লাপনা | সুচিত্রাকে বাঁচাতে গুলজার তার পাশে | সেদিন আর রাখি নিতে পারেননি | পরের দিন কাশ্মীরে লোকেশন দেখতে এসেছিলেন যশ চোপড়া | আগামী ছবি ‘কভি কভি’র জন্য | অমিতাভের বিপরীতে সেদিন যশের পছন্দ ছিল রাখি | রাখিও সেদিন প্রথম অবাধ্য হয়েছিলেন | মন শক্ত করে গুলজারের অনুমতি ছাড়াই যশ-কে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন | কেন এতটা বিদ্রোহী হয়েছিলেন রাখি? সুচিত্রার প্রতি গুলজারের অবসেশনের উত্তর দিতেই হয়তো।

মেঘনা-র জন্মের পর সেই যে রাখি মুখ ফিরিয়েছেন, আর ফিরেও দেখেননি, তার সাধের কবির কী হলো। কবি আজো লিখে চলেছেন কবিতা। লিখছেন গান, চিত্রনাট্য। তার কাছে রাখি আজও জীবনদীপ | জীবনে আর কারো হাত ধরেননি। সঙ্গিনীরও প্রয়োজন বোধ করেননি।

বিনোদন ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ ইন্টারনেট