প্রাণের আলোয় প্রাণের বাংলা

তিন‘শ পয়ষট্টির পিঠে তিন‘শ পয়ষট্টি যোগ করে প্রাণের বাংলা এসে দাঁড়ালো দ্বিতীয় বর্ষের শেষ দরজায়। আজ ভোরের সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়তেই প্রাণের বাংলা নামে এই ওয়েব ম্যাগাজিনটি রীতিমত তিন বছরের শিশু। অনেকটা পথ পার হয়ে এলো প্রাণের বাংলা। বিচিত্র লেখা আর চিন্তার সম্ভারে সাজানো প্রাণের বাংলা গত দুই বছরে তার ছোট্ট সংসারে যুক্ত হলেন বহু লেখক। ভালোবেসে পত্রিকাটির পাতায় লিখেছেন তারা। ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের আলো আরো বহুজনের মাঝে।

প্রাণের বাংলার সেই লেখকদের ভাবনায় প্রাণের বাংলার সংসারে জড়িয়ে থাকার গল্পসল্প নিয়েই এবার মাঝপথে বদলে গেলো প্রচ্ছদ আয়োজন। শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা সবাইকে।   

প্রাণের বাংলায় জড়িয়ে গেছি
কনক চাঁপা (শিল্পী)
অনলাইন পত্রিকা প্রাণের বাংলা। নামটার মধ্যেই আন্তরিকতা লুকিয়ে আছে।আমি বোধহয় পয়লা থেকেই এই পত্রিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছি।আমার বুবু সাংবাদিক আবিদা নাসরীন কলি আমাকে প্রায় জোর করেই লিখতে বললেন, আমিও লেখা শুরু করলাম। কিন্তু আমি অন্য কলাম গুলো দেখে খুবই অস্বস্তি তে পড়ি যে, এতো ভালো ভালো ব্যক্তিত্ব, ভালো লেখকরা লিখেন।এতো ভালো ভালো বিষয়, উন্নত সাহিত্য। সেখানে আমার এই কথোপকথন কে আদৌ লেখা বলা যায় কিনা আমি জানিনা,কিন্তু কলি আপার সাহসেই আমি এই প্রাণের বাংলায় জড়িয়ে গেছি।আমি এখন প্রাণের বাংলা পরিবারের সদস্য। এবং প্রাণের বাংলার প্রতিটি কলাম,কোনা কাঞ্চি আমি ভালোবেসে ফেলেছি।আজ এই পত্রিকার জন্মদিন! আমার অন্তঃস্থল থেকে শুভকামনা, আশীর্বাদ জানাচ্ছি। প্রাণের বাংলার পথচলা সুদীর্ঘ হোক।

অন্য এক পরিচয়
রুদ্রাক্ষ রহমান (গল্পকার)
এই শহর থেকে, স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে, অনলাইন দুনিয়ায় একটা পত্রিকা দু’বছর ধরে বেশ সম্ভ্রমের সঙ্গে বিচরণ করছে। একটু একটু করে সেই পত্রিকাটি জায়গা করে নিচ্ছে বিশ্ববাঙালির পাঠক্ষুধার ভূমিতে। ঢাকার সীমারেখা ছাড়িয়ে কলকাতা, লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, টরেন্টোসহ বিশ্বের আরো আরো শহর থেকে লেখা আসছে এ পত্রিকায়। প্রতি সপ্তাহে তা ছড়িয়ে যাচ্ছে দুনিয়াময় ছড়িয়ে থাকা বাঙালির কাছে।
নিয়মিত না হলেও, শুরু থেকেই লিখছি আমি। তাই, এখন, যখন যেখানে যাই, পত্রিকা আর লেখালেখির প্রসঙ্গ উঠলেই অনিবার্যভাবে চলে আসে এই পত্রিকাটির নাম। এটা যেন আমার, আমাদের অনেকের একটা নতুন ঠিকানা, পরিচয়! কানাডা থেকে এক লেখক ঢাকায় এলেন। তার সৌজন্যে, তার সঙ্গে হৈ হৈ করে কুমিল্লা ভ্রমণ। পরিচয় একটাই তিনি এই পত্রিকার লেখক। কুমিল্লায় যার কেয়ার অফে দারুণ সময় কাটে ঘুরে ঘুরে; তিনিও ছিলেন অচেনা। একপলকে তাকেও কাছে এনো দিলো এই পত্রিকা।
এভাবে কত লেখা, কত ছবি, কত লেখকের সঙ্গে নিত্য পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে পত্রিকাটি। সেই পত্রিকার জন্মতিথিতে আমার শুভেচ্ছা।
আমার এবং আমাদের পরিচয়ের যোগসূত্রের নাম-‘প্রাণের বাংলা’।

লুৎফুল হোসেন

প্রাণের বাংলা’র এই ঘোরে কাটুক অযুত প্রহর
লুৎফুল হোসেন (কবি, লেখক)
শিকড় থেকে উৎসারিত প্রাণের অনুভূতি যখন প্রত্নতত্ত্বের এখতিয়ারে পাকাপোক্ত কঠিন শিলা হয়ে উঠছে প্রায়। বিশ্ব জুড়ে প্রিয় সাময়িকীগুলো স্বেচ্ছামৃত্যুর ইচ্ছেবন্দি হচ্ছে একে একে। ঠিক এমন একটা সময়ে শিলাখণ্ড থেকে উৎসারিত শব্দচিত্রকল্পের ঝর্ণাধারা হয়ে ধরা দিল ‘প্রাণের বাংলা’। দিনে উত্তাল মিছিল, রাতে কেশর দোলানো অশ্বারোহী, রাজপথ জুড়ে ছড়ানো নিবিড় স্মৃতি, তোরঙ্গ থেকে ন্যাপথালিনের গন্ধ ছড়ানো অতীত, এইসব তুলে আনা; খোলা ছাদ, ইচ্ছেনাটাই থেকে উড্ডীন দুর্বার ঘুড়ি, পথবাতির ম্লান আলোয় দীর্ঘ ছায়ার বুননে সত্য মানুষের অলৌকিক কণ্ঠস্বর; সব কিছু অনায়াস স্বাচ্ছন্দ্যে ডিজিটাল স্ক্রীনে ভাসিয়ে সাধের নৌকায় পাল তুলে দিয়ে দেখতে দেখতে গেলো দুটো বছর। চাই ‘প্রাণের বাংলা’র এই ঘোরে কাটুক অযুত প্রহর।

ভালোবাসায় আমরা আটকা পড়ে আছি
আঞ্জুমান রোজী (লেখক,টরন্টো থেকে)
লেখালেখি যেমন আনন্দের, স্বস্তির তেমনই এক দায়বদ্ধতারও ব্যাপার। যখন, যেভাবে, যেই মানসিকতা নিয়ে লেখি না কেন তা প্রকাশের এক সুন্দর, পরিচ্ছন্ন এবং আন্তরিক প্লাটফর্ম বা মাধ্যম চাই। আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়গুলোকে এভাবে দেখি, যা পেয়েছি প্রাণের বাংলা অনলাইন পত্রিকায়। এটি এমন একটি প্লাটফর্ম, যেখানে কোনোকিছু চেয়ে নিতে হয় না বা বলতে হয় না। মনের স্বতঃস্ফূর্ততায় আমার লেখার অর্ঘ্য ঢেলে দেই। জীবনের নানামুখী বর্ণিল সাজের ছটা নিয়ে সাজানো প্রাণের বাংলা অনলাইন পত্রিকা বেশ কলেবরে প্রতি সপ্তাহে প্রকাশ হচ্ছে। দেখতে দেখতে দুটো বছর পার হয়ে গেলো। যদিও পাঠকের রুচি, চাহিদার কথা খুব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় রেখে পত্রিকাটি হচ্ছে। তারপরেও বলবো সৃজনশীল, মননশীল দিকগুলোর দিকে একটু মনোনিবেশ করলে পত্রিকাটি ষোলকলায় পূর্ণ হতো। বিনোদনের চিন্তা করে পত্রিকা করলে তাৎক্ষণিক মনের খোরাক পাওয়া যায় বটে, তবে পত্রিকার দীর্ঘস্থায়ীত্বের জন্য চিন্তা-চেতনা বিকাশের জন্য গঠনমূলক কিছু লেখা প্রয়োজন আছে। আর পত্রিকার সম্পাদক আবিদা নাসরীন কলিকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয় কারণ তার ভালোবাসায় আমরা সবাই আটকা পড়ে আছি। দুই বছর পূর্তিতে কামনা করি প্রাণের বাংলা এগিয়ে যাক সবরকম বাধাবিপত্তি আর জরাযন্ত্রণাকে অতিক্রম করে।

আরও প্রাণবান হোক ‘প্রাণের বাংলা’
রাজা ভট্টাচার্য্ (শিক্ষক, লেখক কলকাতা থেকে)
মনে আছে, ‘প্রাণের বাংলা’-র সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটেছিল কোনো একটি ‘ভারতবর্ষ’-কে কেন্দ্র করে। তখন প্রতি শনিবার একটি করে ‘ভারতবর্ষ’ লিখতাম ফেসবুকে। একদিন দেখি, তারই কোনো একটিকে ভারি সুন্দর করে সাজিয়ে, ছবি যোগ করে পরম যত্নে স্থান দিয়েছে ‘প্রাণের বাংলা’। সত্যি বলতে কী… প্রাণ ভরে গিয়েছিল। তারপর অনেকবার লিখেছি প্রাণের বাংলার পাতায়। বহু লেখা শেয়ার করেছেন তাঁরা। আমি কৃতজ্ঞ। আশা রাখি, এই সম্পর্ক দীর্ঘজীবী হবে, সুস্থ নীরোগ হবে এই দুই দেশের সম্পর্ক। আর হ্যাঁ, একটা সুগোপন আশাও আছে। একবার মাত্র বাংলাদেশে গিয়েছি আমি; ‘মেঘদূতম্’ গাইতে। সে দেশের মানুষের অসাধারণ আন্তরিক আতিথেয়তা মুগ্ধ করে রেখেছিল সেই তিন-চারটে দিন। খুব, খুব আশা আছে… কলিদির আমন্ত্রণে একবার বইমেলা দেখতে যাব ঢাকায়। বাংলা বই এর এতবড় উৎসবে যোগ দেওয়ার আশা কি ছাড়া যায়? আরও বড়, আরও প্রাণবান হোক ‘প্রাণের বাংলা’… এই কামনা করি।

প্রাণের গোপন প্রকোষ্ঠে জায়গা করে নিলো
শেখ রানা (গীতিকার, লেখক, বার্কিং, লন্ডন থেকে)
আমি তখন লন্ডনে। নতুন বই এর পাণ্ডুলিপি নিয়ে ব্যস্ত।
একদিন দুপুরবেলা ফোন পেলাম। পরিচয় পর্ব শেষ না হতেই আমি ফিরে গেলাম বছর পনেরো বা তারও আগে। বাপ্পা ভাই এর বাসায়। রাজশাহী থেকে আমি চলে এসেছি,কিন্তু বাসার কেউ জানে না। এক কথায় গান লেখার স্বপ্নে তখন আমি চালচুলোহীন এক স্বপ্নবিলাসী যুবক।
দলছুটের হৃদয়পুর মাত্রই মানুষ শোনা শুরু করেছে।ভোরের কাগজ অফিস থেকে সঞ্জীব’দার সঙ্গে এক ঝকঝকে তরুণী বাপ্পা ভাই এর বাসায় প্রবেশ করেই বৃষ্টি পড়ে গানটার মিউজিক ভিডিও নিয়ে তার আগ্রহের কথা জানালেন। নামটা মাথায় গেঁথে গেল। আবিদা নাসরীন কলি। তখন আমার লেখা গান নিয়ে কেউ উচ্ছ্বাস দেখালেই আবেগে গলে যেতাম। দৃশ্যগুলোও মাথায় ঢুকে যেতো।
সেই কলি আপার ফোন পেয়ে প্রাণের বাংলা-র কথা জানলাম। কলি আপা নিজের পরিচয় দিলেন, আমি আর বললাম না যে আমাদের দেখা হয়েছিল এক দুপুরে। অন্তর্জালে আমার লেখা দেখে প্রাণের বাংলায় নিয়মিত লেখার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। সত্যি বলছি, কিছুদিন আগেই বিলেতের এক পাক্ষিকে আমি নিয়মিত লিখছিলাম। কিন্তু কেন জানিনা সবমিলে সে অনুভূতিতে প্রাপ্তি কিছু ছিলো না। লেখা ছেপে দিয়ে বর্তে যাওয়া তো নয়, আমি আমার লেখার প্রাপ্য সম্মানীটাও চাই।
এইসব টুকরো টুকরো কথা শেষ করে আমি প্রাণের বাংলায় ঢু দিলাম। রঙ ভর্তি আলো চোখ জুড়িয়ে দিল। একটু একটু করে আগ্রহী হলাম। বিনোদন-প্রবাস-সম্পাদকীয় সব মিলে বেশ ভালো ছিলো প্রথম দেখাটা, মনে পড়ে। প্রাণের বাংলা খুব ধীরে আমার প্রাণের একটা গোপন প্রকোষ্ঠে জায়গা করে নিলো।
গীতিকারের গল্প-এই নামে প্রাণের বাংলার জন্য লিখতে শুরু করলাম। এক-দুই করে বেশ অনেকগুলো লেখা হয়ে গেল ইত্যবসরে। সোম-মঙ্গল এলেই কলি আপার ইনবক্স, ‘লেখা দিলে না কিন্তু’। আমি লিখতে বসি। মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট সময়ে লেখা দিতেও পারিনা, সময়াভাবে। একটু বিমর্ষ হই। এই বিমর্ষতা আমাকে মনে করিয়ে দেয়-প্রাণের বাংলার সঙ্গে আমার একটা প্রাণের সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে।
গীতিকারের গল্প নিয়ে প্রাণের বাংলার সঙ্গে আমার এই শব্দচয়নের পথচলা অব্যাহত থাকুক। প্রাণের বাংলার জন্মদিনে আমার নিরন্তর শুভেচ্ছা থাকলো।

প্রাণের বাংলা এগিয়ে যাবে আরও বহুদূর
দীপারুণ ভট্টাচার্য (প্রকৌশলী, নতুন দিল্লি থেকে)
প্রাণের বাংলা, এই ই-পত্রিকাটির সঙ্গে আছি প্রায় শুরুর থেকে। এক’পা এক’পা করে আজ সে এসেছে তার দ্বিতীয় জন্মদিনের দোরগোড়ায়। এটা ভাবতেই ভালোলাগছে যে পত্রিকাটি তার সমস্ত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে দুইটি বছর কাটিয়ে ফেললো হাসতে হাসতে। এই ইন্টারনেট জামানায় যোগাযোগই মুখ্য, সংযোগ গৌণ। এখানেই প্রাণের বাংলা অন্যদের থেকে আলাদা। তাই সে সংযোগ স্থাপন করে চলেছে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে। ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছেন প্রবীণ মানুষেরাও। দৈনন্দিন খবরের পাশাপাশি কভার স্টোরি ও সাহিত্য চর্চা পত্রিকার এক সম্পদসম। যারা নিয়মিত প্রাণের বাংলা পড়েন তাদের নতুন করে কিছু বলার নেই। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই প্রাণের বাংলা সম্পাদক ও তার সম্পূর্ণ দলকে। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে চাই প্রাণের বাংলার সকল পাঠকদের। তাদের অনুপ্রেরণাতেই প্রাণের বাংলা এগিয়ে যাবে আরও বহুদূর, এই প্রত্যাশাই করি। শুভেচ্ছা সহ।

অজান্তেই এই পত্রিকার প্রেমে পড়ে গেলাম
কাকলী পৈত (লেখক, দিল্লী থেকে) 
প্রাণের বাংলা শব্দটির সঙ্গে মিশে আছে বাংলার মাটির গন্ধ। বাংলাদেশে কখনো যাইনি কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে মিশে আছে আমার পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব। তাই অনলাইন প্রাণের বাংলা পত্রিকা যখন পড়তে শুরু করেছিলাম নিজের অজান্তেই এই পত্রিকার প্রেমে পড়ে
গেলাম।এই পত্রিকার লেখকদের লেখা পড়তে পড়তে কখন যে পত্রিকাটিকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম , নিজের মনে ও ইচ্ছে জাগলো আমি ও লিখব প্রাণের বাংলায়। অনেক গুণী মানুষদের লেখনী সমৃদ্ধ এই পত্রিকা সকলের শুভেচ্ছায় খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে চলেছে।অনেক ভালো ভালো লেখা অনেক দৈনন্দিন
খবরাখবর অনেক অজানা তথ্য এমনকি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের খবর ;খেলাধুলা এমনকি নানারকম লোভনীয় খাবারের রেসিপি সমৃদ্ধ এই পত্রিকা দুই বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন শহরে থাকা মানুষদের সঙ্গে প্রাণের বাংলার গভীর সম্পর্ক। তাদের লেখা থেকে তাদের জীবনের নানা ঘটনা কাহিনী সেসব শহরের কথা মনকে ছুঁয়ে যায়।
বাংলা আমাদের বাঙালিদের প্রাণের ভাষা।এই ভাষায় সাহিত্য রচনা এবং দেশের বাইরে ও এই ভাষাকে ছড়িয়ে দেবার প্রচেষ্টায় প্রাণের বাংলা অত্যন্ত সফল।বাজার চলতি অন্যান্য ম্যাগাজিনের ভীড়ে সুখপাঠ্য লেখার মাধ্যমে প্রাণের বাংলা নিজস্ব একটি জায়গা তৈরী করতে বদ্ধপরিকর। বাংলার ঐতিহ্য সংস্কৃতির হাত ধরে
চারপাশের নানা গল্পকে তুলে ধরতে চায় প্রাণের বাংলা। মানুষের সঙ্কট, স্বাস্থ্য সমস্যা, নানান সাংস্কৃতিক খবর স্মৃতিচারণ , তারুণ্যের গল্প, ফেসবুকে আলোচনার ঝড় ওঠা কোন বিষয়,সাজগোজ সবই পত্রিকার বিভিন্ন বিভাগে স্হান পাচ্ছে। এককথায় বাঙালির জীবনকাব্য বলা যায় প্রাণের বাংলাকে।পাশাপাশি প্রাণের বাংলা বলতে চায়
বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের কথা,বাংলার সংগ্রামের উজ্জ্বল কাহিনী। পত্রিকার লোগোতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার আবহের সঙ্গে মিল রেখে লাল সূর্য আর মুক্ত বিহঙ্গের ব্যবহার রয়েছে। মুক্ত মনে মুক্ত চিন্তা ভাবনা সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়ে ভবিষ্যতের আলোকোজ্জ্বল দিনগুলোতে আমার দেখা এবং ভালোবাসার প্রাণের বাংলার জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক এই শুভকামনা।

‘প্রাণের বাংলা ‘র নান্দনিক ভুবনে
শামীমা জামান (লেখক)
সেই কিশোর বেলার সঙ্গিনী সানন্দার মনোরম পাতা উল্টে মুগ্ধতার সঙ্গে কত কি জেনেছি। লাইফ স্টাইল কেন্দ্রিক সেই সব ফিচার গুলো তখনকার সময়ে ছিল চরম আধুনিকতার দলিলপত্র। ‘আগামীতে বিয়ে নয় লিভ টুগেদার’, ‘আমাদের মাঝে মাঝে কান্না উচিত’, শিরোনাম গুলো এখনো মনে পড়ে।কিম্বা আনন্দলোকে পামেলা বোর্দের রসালো কাহিনী,ফেমিনায় মিস ইন্ডিয়া কে হল।পুরোপুরি কিশোরী হওয়ার আগেই দুনিয়ার সব ম্যাগাজিন জমানো,মামা ইংরেজি দৈনিকের সাংবাদিক হওয়ায় তার সুবাদে শিশু বয়সেই নিউজ টুডে,টাইম,মুভি,স্টারডাস্ট এর ভক্ত হয়ে উঠলাম। দিন বদলেছে।কদিন আগেও বাসার দরজার নিচ দিয়ে প্রিয় হকার দিয়ে গেছে দেশ,আনন্দ আলো। এখন এই অনলাইন ব্যাঙ্গের ছাতা টুয়েন্টি ফোর ডট কমের যুগেও প্রতি বৃহস্পতিবার এলে অপেক্ষায় থাকি কখন ‘প্রাণের বাংলা’ বের হলো।না শুধু নিজের লেখা ছাপা হওয়ার আনন্দে নয়।এই ব্যস্ত সময়েও ‘প্রাণের বাংলা’র বেশির ভাগ লেখাগুলো পড়তে চেস্টা করি আকর্ষক বলেই।
সানন্দার কথা বলছিলাম কারন এখন আর ওটি নিয়মিত পড়া হয়না।‘প্রাণের বাংলা’র নান্দনিক সম্ভার এতটাই সমৃদ্ধ যে অনেক ছাপার কাগজের ম্যাগাজিন এর অভাব তেমন বোধ হয়না। ইরাজ আহমেদ এর কলম খুব সাধারণ বিষয়কে অসাধারণ শিল্পমানে উত্তীর্ণ করে। শিল্পী কনক চাপা আপার লেখা খুব মায়াবী। কানাডা প্রবাসী কবি আঞ্জুমান রোজী বা কলকাতা থেকে যারা লিখছেন তাদের সকলের লেখাই ভাল লাগে।সম্পাদক আবিদা নাসরীন কলি আপার সময়পযোগী ও পরিমিতিবোধ সম্পন্ন সম্পাদকীয় আগ্রহ ভরে পড়ে ফেলা যায়। প্রাণের বাংলার বিভাগ গুলো ও চমৎকার রুচিশীল ।সাহিত্যের বুনো গন্ধে ভরা। আমার শহর এর শহর এক আশ্চর্য প্রেমিকার নাম বেশ টেনেছিল। ‘সর্বজয়া’ নাম টি নারী বিষয়ক পাতার নাম যেন অপু ,দুর্গার মা এই উঠোনে বসেই খুন্তি নাড়ছে। ‘প্রাণের বাংলা’র ঝকঝকে নান্দনিক গেট আপ সমসাময়িক অন্যান্য সকল অনলাইন পত্রিকা থেকে সেরা এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
ক্যালিফোর্নিয়া থাকতে কলি আপা লেখা চান প্রাণের বাংলা র জন্য।সেই থেকে প্রাণের বাংলার একজন হয়ে গেলাম। কলি আপা নানান বিষয় বলে দেন লেখার জন্য। ব্যস্ততা আর অলসতায় সেসব ভাবনারা বেশির ভাগ ই হারিয়ে যায় ভ্রূণ অবস্থাতেই। বৃহস্পতিবার এসে যায়।সকলের লেখা দেখি আর হিংসায় আফসোসে ভাবি ‘আহা লেখাটা দেওয়া হলনা’। জয়তু ‘প্রাণের বাংলা’।

বিনোদন ছাড়া অন্য অনেক কিছুই পাবেন এখানে
অসিত কর্মকার সুজন (রন্ধন শিল্পী)
বাংলা ও বাঙ্গালীর প্রাণ যেখানে মিলেছে ঠিক সেখান থেকেই শুরু ” প্রাণের বাংলা “। আর দশ জনের মতে শুধু ম্যাগাজিন বললে ভুল হবে। কারণ, এটি এমন একটি ম্যাগাজিন যেখানে আমি বা আপনি শুধু বিনোদন ছাড়াও অন্য অনেক কিছুই পাবো । দেখতে দেখতে কিভাবে দুই বছর হয়ে গেলো ” প্রাণের বাংলা ” এর। অন্যান্য আর সব বিভাগ গুলোর চেয়ে “হেঁশেল” আমার কাছে একটু আলাদা। এই বিভাগের সঙ্গে জড়িত হয়েই আমার পথচলা শুরু। কিছু আলোকিত মানুষের হাত ধরেই জন্ম এই “প্রাণের বাংলা “। যার নাম ও পরিচিতি এখন দেশ ও দেশের বাইরে সব জায়গায়। অন্তত বিশ্বের যে সব জায়গায় বাংলা ভাষাভাষী আছেন তাদের কাছে সত্যিকার অর্থেই এক টুকরো “প্রাণের বাংলা “। সংস্কৃতমনা মানুষের কাছে এ এক বিশাল সম্ভার। যেখানে রয়েছে আনন্দ ও রুচিপুর্ণ ধারণার মেলবন্ধন। প্রাণের বাংলার ২য় বর্ষপুর্তিতে এই পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে সকল বাঙালীকে জানাই আমার আন্তরিক প্রীতি ও ভালোবাসা। আশা রাখি আমরা আরো অনেক দূর যাবো।
যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকুক ‘প্রাণের বাংলা’

বেঁচে থাকুক আমাদের এই ‘প্রাণের বাংলা’
আলভী রহমান শোভন (রন্ধনশিল্পী )
নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন ম্যাগাজিন পোর্টালগুলোর মধ্যে ‘প্রাণের বাংলা’ আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছে। মানদণ্ডের বিচারে ‘প্রাণের বাংলা’ অতুলনীয়। বিচিত্র সব লেখা, ফিচার আর ধারাবাহিক রচনা প্রকাশ করে বেশ শক্ত একটা অবস্থান ধরে রেখেছে ‘ প্রাণের বাংলা’। বহুল আলোচিত এই পোর্টালের হেঁশেল বিভাগে আছি অনেক দিন ধরেই। ‘প্রাণের বাংলা’র ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনেক অনেক শুভ কামনা। যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকুক আমাদের এই ‘প্রাণের বাংলা’।

প্রাণের বাংলা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো ম্যাগাজিন নয়
লাজ্বাতুল কাওনাইন (শিক্ষক)
ধরুন বাজারে গেলেন সুন্দর নির্দিষ্ট কিছু কিনবার উদ্দেশ্যেই। মন মতো মিলেও গেলো। তবু হালকা খচ খচ সামনে কি ভাল কিছু আছে কি! অথবা খানিকাটা কম দামে! সামনে আসলেই আরো কম দামে ভাল কিছু আছে হয়তো। আপনি খুঁজলেন, পেলেন, দেখলেন নাড়াচাড়া করছেন কিন্তু মন পড়ে আছে সেই প্রথম দেখা আপনার মনে ধরা জিনিসটার কাছে। হঠাৎ খুব বেশি মূল্যবান মনে হলো সেইটাকে! ছুটছেন আতংক নিয়ে, ইসস না জানি অন্য কেউ আবার নিয়ে যায়,লাগলে আরো দাম বাড়িয়ে নিবেন,তবু ওটাই চাই….তারপর কি হলো! হাহা..জানি না ঠিক। তবে আমি জানি, আমি কিন্তু মনে ধরা জিনিসটা পেয়ে গিয়েছি। সেটা হলো একটি অনলাইন পূর্ণাঙ্গ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন প্রাণের বাংলা। প্রবাসী লেখক স্মৃতি ভদ্রের কাছ থেকেই নামটা শোনা। একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে নিলাম। ব্যাপারটা কি এতে। পোর্টালের কোন অভাব নেই বোতাম চাপলেই কিন্তু কোনোটাই ঠিক মন মতো না। কেমন দায়সারা গোছের অথবা অযাচিত খবরে ভরা! শ্রদ্ধা থেকে অভক্তিটাই হয়ে যায় বেশি। এমন চরম বিরক্তি মূহুর্তেই প্রাণের বাংলার স্বাদ পেলাম। আজ ম্যাগাজিনটির ২য় বর্ষপূর্তিতে অসামান্য সুযোগ পেলাম তাকে নিয়ে কিছু লিখবার! কারণটা শুধু বলে যাই কেনো অসাধারণ লেগেছে প্রাণের বাংলাকে।
এদের লেখিয়েদের দেখে তো আমার চোখ ছানাবড়া প্রথমত! গুণী মানবী শম্পা রেজা এর উপদেষ্টা, অনন্যা ব্যক্তিত্ব আবিদা নাসরীন কলি আপা সম্পাদক সাথে আছেন বলিষ্ঠ সাহিত্যিক ইরাজ আহমেদ সাহিত্য সম্পাদক, কঠিন পরিশ্রমী তরুণ মেধাবী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শামীম জাহিদ, এছারাও তরুণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপক জুলফিকার সুমন যার হাত ধরে প্রাণের বাংলা অনলাইন ম্যাগাজিন এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আরো সম্মানিত অনেকেই! নিয়মিত লিখছেন আফসানা মিমি,কনক চাঁপা, রিনি বিশ্বাস,ইশতিয়াক নাসির সহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান সব লেখিয়ে গুণীজনেরা।
ব্যাপার হলো লেখিয়ে আছেন,সেটা না। সব পত্রিকার-ই নিজস্ব একটা নীতিমালা মানদন্ড থাকে। সেটাকে উদ্দেশ্য করেই কাজ করে চলেন। কিন্তু আমার দেশে যেটা হয় সেটা হলো লিখিত নীতিমালা বা কথার থেকে কাজের ফারাকটা অতিরিক্ত। প্রাণের বাংলাতে আমি এই ফারাকটা এখন পর্যন্ত পাই নি। তারা বলেছেন,তারা সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীর মানুষদের এক প্রচ্ছদে বাঁধতে চান। এই কথা তারা রেখে চলেছেন আজ অবধি। আর যদি প্রাণের বাংলার বিষয় তালিকা পর্যবেক্ষণ করা যায় দেখা যাবে এরা কিছু নাম দিয়েছে সেই বিষয়গুলোর যা অসাধারণ! বিশ্ববাংলা নামের যে বিষয়টি আছে,সেখানে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পুরো বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষার মানুষের আনাগোনা! আমার শহর নামে আছে প্রাচীন বা নতুন কোনো শহর কোনো বাঙালির চোখের আলোতে ঝলকানি দিচ্ছে। আপন মনে বিষয়টিতে দেখেছি, আত্মার থেকে অনুচ্চারিত যে সুখ দুখ গাঁথা যেটার তুলির আঁচড়ে আঁকা প্রতিচ্ছবি! নান্দনিকে আছে প্রিয় সাহিত্য বা চলতি বিনোদনকে অযথা চাকচিক্য নয় একটা দারুণ রঙের মাধ্যমে প্রকাশ! জীবনকাব্য আছে যাতে দেখেছি জীবনের চলার পথের সকল টুকিটাকির খোঁজ এছাড়াও গ্লোবাল বিশ্বের বানিজ্য বা আমাদের প্রিয় খেলার খবর!
কোনটা বাদ দিলো যে এরা ঠিক বোঝার উপায় নেই। দারুণ মেধাসম্পন্ন কাজের সাক্ষর রেখে প্রাণের বাংলা। আজকাল তো বানান,শুদ্ধতা ভাষার প্রয়োগের দক্ষতা প্রায় উঠি উঠি ভাব! সব দায়সারা যেনো। কিন্তু প্রাণের বাংলা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো ম্যাগাজিন নয় তাই এতোটা শ্রদ্ধা বোধ আপনেই চলে আসে বৈ কি!
একটা খুব বেশি আপন কথা বলে শেষ করি। যা সত্যি কখনো কাউকে বলা হয় নি! আমার একটা পতাকা আছে লাল বৃত্ত চারিটাপাশ সবুজ। অনেক উঁচুতে যখন থাকে বাতাসে দারুণ আওয়াজ তুলে বীরদর্পে উড়তে থাকে। কি তেজ বাবা! যেনো এখুনি ছুটে কোথাও হারিয়ে যাবে। খুব উঁচুতে তাকাতে আমার কষ্ট হয় চোখে বেশি আলো লাগলে তাকাতেই পারি না। কিন্তু পতাকাটার দিকে এক মনে তাকাতে না একদম কষ্ট হয় না! বুকটা খুব দুরু দুরু করে। আমি হারিয়ে যাই। চারিদিকে অসম্ভব কোলাহল। মানুষ কাতরাচ্ছে, রক্তাক্ত হচ্ছে,পুড়ছে,ধর্ষিতা হচ্ছে, পশুরা উচ্চস্বরে হাসছে, অসহায় কিছু নরনারী, বাচ্চা ছুটছে আর কিছু সাহসী নরনারী চিৎকার করে বলছে আর তো কটা দিন! এই পতাকা, দেশ সবটাই আমাদের! বিশ্বাস করুন আমি সেটা শুনতে পাই,আনমনা হয়ে। কিন্তু সম্বিৎ ফিরে দেখি কোথায় কেউ তো তাদের কথা শুনতে পায় নি। সবাই ভুলে গিয়েছে। এতো মানুষ এতো মিডিয়া এতো পত্রিকার ভিড়ে আরো একটা পত্রিকা আছে যারা ভুলে নি! মুক্তিযুদ্ধ আর আর সকল ঘটনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর বাঁচিয়ে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় প্রাণের বাংলার! তাই একটা স্যালুট তো তাদের অবশ্যি প্রাপ্য!
মাত্র দুবছর খুব বেশি সময় না একটা রুচিসম্মত ম্যাগাজিনের জন্য। কিন্তু প্রাণের বাংলা সেই হিসেবে মনে হচ্ছে বেশ বুড়িয়েই গিয়েছে। খুব পাকা পাকা লাগে! একটু মজা করলাম! আরো শুদ্ধতা আরো সুন্দর আরো বিস্তৃতি ছড়িয়ে একদিন বিশ্বসেরা ম্যাগাজিনের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে প্রাণের বাংলা,এই শুভকামনা থাকবে আজীবন! সবাই ভালো থাকবেন আর ভাল রাখবেন! ভালবাসা অফুরান।