লজ্জিত গিলক্রিস্ট

আহসান শামীম

নিজের জীবনে ক্রিকেটে নৈতিকতার চরম উদাহরণ রেখেছিলেন গিলক্রিস্ট ,বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে আম্পায়ার নট আউট ঘোষণার পরও নিজে আউট বুঝে ড্রেসিংরুমে ফিরে এসেছিলেন এই অনন্য ক্রিকেটার।  তাঁর এমন ঔদার্যে তৎকালীন অধিনায়ক রিকি পন্টিংও খুশি হতে পারেননি।সেই গিলক্রিস্ট উত্তরসূরিরা পরিকল্পনা করে বল টেম্পারিং করেছেন, যা মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

বল টেম্পারিং নিয়ে ভীষণভাবে চটেছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। স্টিভেন স্মিথরা পরিকল্পনা করে বল টেম্পারিং করছেন! এমন ঘটনায় লজ্জিত, অপমানিত দেশটার সর্বকালের সেরা এই উইকেটরক্ষক, ব্যাটসম্যান।এমন ঘটনা ক্রিকেটের পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হাসির পাত্র বানিয়ে ফেলেছে বলেও অভিমত গিলক্রিস্টের। তিনি বলেন, ‘এটা অন্য ক্ষেত্রকেও কলুষিত করবে। সবাই এখন অনেক কিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলবে। আমাদের অনেক গৌরবের স্থান অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট এখন সবার হাসির পাত্র। মানুষ এখন আমাদের আগের অনেক কীর্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলবে, সন্দেহ করবে।’

টেম্পারিংয়ের ঘটনায় কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান তৃতীয় টেস্টের মাঝপথেই সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।গিলক্রিস্টের সন্দেহের তীর কোচ ড্যারেন লেহম্যানের দিকেও।যদিও অজিদের সদ্য পদত্যাগকারী অধিনায়ক স্মিথ, কোচ ড্যারেন লেহম্যানের জড়িত থাকার কথা অস্বিকার করেছেন।গিলক্রিস্ট , স্মিথের কথায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না।তিনি বলেন, ‘স্মিথ দলের নীতিনির্ধারক অংশের (লিডারশিপ গ্রুপ) কথা বলেছে, দলের সিনিয়ররাও এতে জড়িত। আমি জানি না লিডারশিপ গ্রুপটা কী জিনিস, আমাদের সময়ে কোচ, অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কই ছিলেন নেতৃত্ব।’

অস্ট্রলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশই বাধ্য হয়ে আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেষ্টের মধ্যাহ্ন ভোজের পরপরই অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার পদত্যাগে বাধ্য হন।বল টেম্পারিং বিতর্কের মুহূর্তে টালমাটাল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট। এমন দুঃস্বপ্নের মাঝে বিশাল এক হারের মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া দল। কেপ টাউন টেস্টে চার দিনেই সফরকারীদের ৩২২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় চতুর্থ দিনের চা বিরতির আগে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৪৭। পরের সেশনে ২৩ ওভারেই শেষ অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। বিনা উইকেটে ৫৭ থেকে ১০৭ রানেই অলআউট হয়ে গেছে অসিরা। মাত্র ৫০ রানেই হারিয়েছে ১০ উইকেট।দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার মরনে মরকেল। এই জয়ে চার ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

আগামী ৩০ মার্চ জোহানেসবার্গে শুরু হবে শেষ টেস্ট।অবশ্য অজি ক্রিকেট কাউন্সিল স্মিথকে এক ম্যাচের জন্য সাসপেন্ড করায় শেষ টেষ্ট খেলতে পারবেন না স্মিথ, ওয়ার্নারা।কেপটাউনের বল টেম্পারিংয়ের এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। কেপটাউনে বল ট্যাম্পারিং নিয়ে সিএ’র প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড জানান, অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে বল ট্যাম্পারিংয়ে দায়ী সবার বিপক্ষেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।আজীবন সাসপেন্ড হতে পারেন স্মিথ, ওয়ার্নার সহ বেশ কজন সিনিয়র খেলোয়াড়। সেক্ষেত্রে আইপিএলেও তাঁদের না খেলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ছবিঃ গুগল