সিটি অফ ডাইভারসিটি

স্মৃতি সাহা

বিশালতা যে নগরীর বৈশিষ্ট্য, বিপুল প্রাণের সমাহার যে নগরীর বৈচিত্র‍্য, প্রাণচাঞ্চল্যতা যে নগরীর সৌন্দর্য, বিভিন্নতা যে নগরীর পরিচায়ক; সেই নগরীকে ঘিরে সারা বিশ্বের মানুষের আগ্রহ আর কৌতূহল থাকবে, তা যেন প্রায় স্বতঃসিদ্ধ। ঐতিহ্য যেন এই নগরীর ঔদার্য আর আধুনিকতা এই নগরীর ধারক। পৃথিবীর খুব কম নগরীতেই এমন ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটতে দেখা যায়। তাই এই নগরী হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। শিল্প-সংস্কৃতি, স্থাপত্য, ইতিহাস আর এর সঙ্গে যুক্ত হয় আধুনিকতার বন্দনা; যা শুধু নিউইয়র্ককে সবার কাছে আকৃষ্ট করে তোলে তা নয় বরং নিউইয়র্ককে করে তোলে স্বতন্ত্র। স্বতন্ত্র এই নগরী তাই বিনা দ্বিধায় প্রতি বছর সর্বোচ্চ পর্যটনকারী নগরীর তাজমুকুট গ্রহন করে থাকে। গতপর্বে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম এই নগরীর কিছু অবশ্য দর্শনীয় স্থানের সঙ্গে। নিউইয়র্ককে জানতে হলে সে সব স্থানের দর্শন বলা যায় অবশ্যকার্যের মধ্যে পড়ে।

আজ নিউইয়র্কের আরোও কিছু দর্শনীয় স্থানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবো। সেন্ট্রাল পার্ক; প্রায় ৮৪০ একর জায়গাজুড়ে মধ্য ম্যানহাটনে অবস্থিত এই পার্কটিতে রয়েছে বেলভেডেয়ার ক্যাসেল, চিড়িয়াখানাসহ আরোও বিভিন্ন ধরণের আকর্ষণীয় জিনিষ। পরিবেশবাদী দের কথা মাথায় রেখে যেমন এখানে রয়েছে সুবিশাল সবুজ ঘাসের মাঠ; যা নগরীর একঘেয়েমি দূর করতে টনিকের মতো কাজ করে, আবার রয়েছে প্রাতঃ বা সান্ধ্যকালীন হাঁটার জন্য এক সুনিয়ন্ত্রিত, কোলাহলবর্জিত পথ সারা পার্কজুড়ে। এই পার্কে রয়েছে এক বিশাল জলাধার; গ্রীষ্মঋতুতে যেখানে ভিড় জমায় অসংখ্য সৌখিন মাছধরার দল। এই পার্কটি ঘিরে প্রায় সারা গ্রীষ্মঋতুতে উন্মাদনা চলে বাচ্চাদের।

বিশাল সবুজ মাঠজুড়ে ফুটবল খেলা, সাইক্লিং করা ছাড়াও বাড়তি পাওনা হলো এখানকার চিড়িয়াখানা। আর একটি ছোট তথ্য এখানে দিয়ে রাখি যারা চেরিফুল বা সাকুরাপ্রেমী তাদের জন্য কিন্তু বসন্তকালীন সেন্ট্রাল পার্ক একটা ট্রিট! আর হ্যাঁ, ফল বা হেমন্ত ঋতুতে জাফরানি রঙা সেন্ট্রাল পার্কের আবেদনও কিন্তু সর্বজনগ্রাহ্য। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং: আইকনিক এই স্থাপত্যটি যেন নিউইয়র্কের প্রতিরূপ হয়ে রয়েছে বিশ্ববাসীর চোখে।গগনচুম্বী এই অট্টালিকাটি ফিফথ এভিনিউ এবং ওয়েষ্ট থার্টিফোর্থ স্ট্রিটের মধ্যস্হলে অবস্হিত। ৩২১ মিটার উচ্চ এই ভবনে রয়েছে ১০২ তলা। ৪১ বছর ধরে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবনের স্বীকৃতিধারী ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে নিউইয়র্কের ডাক নাম এম্পায়ার স্টেট এর নামে। প্রতিবছর প্রায় ১ মিলিয়ন পর্যটক আসেন এই ভবনের দৃষ্টিনন্দন ও অমূল্য দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। রৌদ্রোজ্জল দিনে পর্যটক এই ভবন থেকে একইসঙ্গে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেট আর পেলসিনভ্যানয়া- এই পাঁচ অঙ্গরাজ্যকে দেখা যায়।। এই ভবনের ৮৬ তলা আর ১০২ তলাতে রয়েছে অবজারভেশন ডেস্ক। যৌথ এই তলা দু’টো উপহার দেয় অসাধারণ দৃশ্য আর কিছু প্রয়োজনীয় জিনিষ যা এই ভবনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।

স্ট্যাচু অফ লিবার্টি; ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আমেরিকার জন্য উপহার এই স্থাপত্য টি আসে প্রায় ১০০ বছর আগে। স্ট্যাচু অফ লিবার্টি অবস্থিত একটি দ্বীপে; যা লিবার্টি আইল্যান্ড নামে খ্যাত। লেডি লিবার্টি আর তার বেইস স্ট্যান্ড মিলিয়ে এটির উচ্চতা ৯৩ মিটার। পর্যটকগণ এই স্থাপত্যের ভিতরে অবস্থিত সিঁড়ি বেয়ে উপরে একদম ক্রাউনে পৌছে যেতে পারে,যেখানে ব্রুকলিন আর গুসটেভ আইফেলের দৃষ্টিনন্দন শোভা দেখা যায়, ৪ই জুলাই-এর আতশবাজি যার মধ্যে অন্যতম। আর যারা ১৫৪ স্টেপ পেড়িয়ে ক্রাউনে যেতে চায় না তারা বেইসে উঠে হারবারের প্যানারমিক ভিউ আর ডাউনটাউনের দৃশ্য উপভোগ করতে পারে। নিউইয়র্ক; একদিকে প্রাণপ্রাচুর্য অন্যদিকে প্রাণের বিভিন্নতা। আর ঠিক এ কারণেই এই নগরীকে বলা “সিটি অফ ডাইভারসিটি।” ভিন্ন ভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, কৃষ্টি, আচার এই নগরী প্রতিনিয়ত দু’হাতে বরণ করে নিজে হয়ে ওঠে সমৃদ্ধ।

ছবি: গুগল