আমাদের স্টারবাকস নেই

অদিতি বসু রায়

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

আমাদের যাদের স্টারবাকস নেই তাদের চামচের এক্সপ্রেসো আছে। আর আছে একখান বাজার। চারদিক খোলা। আমার শহরে এমন জলজ বাজার আছে তা জানতাম। কিন্তু সে যে মার্চের সন্ধ্যেয় এমন মোহময় হয়ে ওঠে, জানা ছিল না। ফিরছিলাম এক বন্ধুর বাড়ি থেকে। লুচি, আলুভাজা, গলদা চিংড়ি, মাংস আর বলরামের সন্দেশ খেয়ে একেবারে আইঢাই হাল! এককাপ কফি খেতে বড্ড ইচ্ছে করছিল। যাওয়ার পথে চোখে পড়েছিল বাজার। জলের ওপরে। ওখানেই নামলাম। 
দেখি, জলের ওপর ভাসছে কি সুন্দর রঙিন কাঠের নৌকো । স্লিক পাটাতন দিয়ে জলাধারটিকে যুক্ত করা হয়েছে । কি না মেলে সেখানে! তাজা শাক-সব্জী , মাছ, ডিম, মাংস, জামা-কাপড়, ফুচকা, ঝাল্মুড়ি, চা, কফি- সব সব। ফুরফুরে হাওয়ায় দিব্যি হাঁটতে হাঁটতে কেনাকাটা। শহুরে ঘামন্ড নেই দোকানীদের। গপ্প-গাছাও চলে তাই। কয়েক দিন আগে কলকাতায় ল্যান্ড করেছে ভুবনখ্যাত মার্কিন কফিচেন স্টারবাকস। আর যায় কোথায়! এখুনি সেখানে গিয়ে আড়াইশো টাকার কফি খেয়ে সেলফি তোলা বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। আমারও সাধ খুবই। যতবার যুক্তরাষ্ট্রে গেছি, স্টারবাকস-এ দৌড়েছি। আমার বউদি এপ্রিল আর আমার অনেক মিল। তার একটি হল, স্টারবাকসের কফি-প্রীতি। কিন্তু এদেশে, নিজের শহরে অত্ত টঙ্কা খরচ করার রেস্ত কম পড়িয়াছে। আমার মতো অনেকেই আছে, যাদের সাধ আছে কিন্ত সাধ্য বাদ সাধিয়াছে। তাদের বলছি, একদিন শেষ বিকেলে চলে আসা যাক, এই ভাসমান বাজারে। সেখানে গরম কফি আর ঝালমুড়ির বিদেশী কৌলীন্য নেই বটে কিন্তু চমৎকার এক আন্তরিক দেশজ আড্ডা -আড্ডা গন্ধ আছে। সামনে ছুটন্ত বাইপাস আছে। ব্যাকড্রপে গাছেদের শীর্ষ আছে। সন্ধ্যের মুখে পাখিদের ডানার শব্দ আছে। স্পাগেটি টপ থেকে তাঁতের শাড়ি আছে। আবার নেইও অনেক কিছু। ঘন্টা খানেক একটা খালি হয়ে যাওয়া কফির কাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও কারো কিছু বলার নেই। কালবৈশাখী এলে পালাবার জায়গা নেই। এলোমেলো বাতাসের হাত থেকে নিস্তার নেই। মৃদু হাসির অন্তরাল নেই। আর সবচেয়ে বড় কথা, পকেটে কোপ নেই। আমাদের যাদের, স্টারবাকস নেই, তাদের এইটাই বড় ভরসা। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে পায়ের নীচে নদীর মতো জলধারা আছে।

ছবি: লেখক ও গুগল