দেশে ধর্ষক এবং পুরুষ শব্দটা সমার্থক হয়ে যাচ্ছে

সৈয়দ ইফতেখার আহমেদ

দেশে যা ঘটছে তাতে মনে হচ্ছে ধর্ষক এবং পুরুষ শব্দটা সমার্থক হয়ে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে সব পুরুষ ধর্ষক না কিন্তু সব ধর্ষকই পুরুষ। ব্যাপারটা অনেকটা জামায়েতের সঙ্গে রাজাকার পরিচয়টা যুক্ত হয়ে যাবার মত; সব জামায়াতী রাজাকার না হলেও মানসিকভাবে প্রায় সবাই সে মানসিকতা ধারণ করে।

তেমনি সব পুরুষ ধর্ষক না হলেও ধর্ষণ মনোবৃত্তি যে বেশিরভাগ পুরুষ ধারণ করে সেটা বোঝা যায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটবার পর এতে অপরাধীর দোষ না খুঁজে অনলাইনে ধর্ষিতার “দোষ” খোঁজার যে অসুস্থ্য প্রতিযোগিতায় পুরুষরা নামে এটা দেখে। আর সব পুরুষেরই সেখানে এক রা, অর্থাৎ ধর্ষণের জন্য হয় সে মেয়ের পোশাক অথবা কোন না কোনভাবে সে মেয়েই দায়ী, সে শিশুই হোক আর বৃদ্ধাই হোক, যেহেতু সে নারী তাই অবশ্যই সে দায়ী।

এসব পুরুষরা মনে করে ধর্ষণের ঘটনায় পুরুষের কোন দোষ থাকতে পারে না। যেহেতু তাদের শিশ্ন রয়েছে, তাই সেটি যথেচ্ছ ব্যবহারের অধিকারও তাদের রয়েছে। পাশাপাশি, যেকোন নারীকে যেকোন কিছু বলার অধিকারও তারা ধারণ করে।

পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশের নারীরা কিন্তু রক্ষণশীল পোশাক পড়েন না। যে কয়টা দেশে নারীরা খুব রক্ষনশীল পোশাক পড়েন বাংলাদেশ তার মধ্যে একটা। আমার কাছে একটা বিষয় পরিস্কার নয় আর তাহল যে দেশের নারীরা এত রক্ষণশীল পোশাক পড়েন, সেদেশে নারীর পোশাক কি করে পুরুষের আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠতে পারে।

আমার এ পর্যন্ত জীবনে হাতেগোনা দুই-চারজন ব্যতিক্রম ছাড়া যত পুরুষকে দেখেছি তাঁদের সবারই নারী সংক্রান্ত ভাবনা এক রকম। তাঁরা সবাই নারীদের হয় “Sub-human” অথবা “Fucking machine” ভাবেন। নারীকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে ভাবতে পারেন এবং সেটা মনোজগতে ধারণ করতে পারেন এমন বাঙালি পুরুষের সংখ্যা শতকে এক শতাংশ হবে কিনা আমার সন্দেহ রয়েছে।

তারুণ্যের যে বয়সটা হল নারীর প্রেমে মগ্ন হবার, নারীর হৃদয় জয় করবার, সে বয়সের বিপুল সংখ্যক তরুণদের ভয়াবহ নারী বিদ্বেষ উদ্বেগজনক। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে তাদের নারী সংক্রান্ত মন্তব্যগুলো দেখলে মনে হয় নারীমুক্ত বাংলাদেশ হলেই তারা বোধহয় সবচেয়ে খুশী হতো।

সন্দেহ নেই যে, একটা অসুস্থ্য পুরুষ সমাজ গড়ে উঠছে, যা খুবই দুঃখজনক। এখনই যদি এর কারণগুলি বুঝা না যায় এবং লাগাম টেনে ধরা না যায় তাহলে আগামীতে অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে।