ক্রসফায়ারের দলে আমি নেই

চৈতি আহমেদ

ধর্ষকের লিঙ্গকর্তন, ধর্ষকের মানবাধিকার ইত্যাদি আলোচনা /এইসব আলোচনা এই মঞ্চে আগে বহুবার হয়ে গেছে, তারপরও যা তেনা প্যাচানী রোগের মতো বারবার ঘুরে ফিরে আসছে।

মানবাধিকার যদি বাদ দেই, তাহলে কোন আইনে আপনি ধর্ষককে ধরবেন? প্রচলিত কোনো একটা অধিকারের বা আইনের আওতায় ধর্ষককেতো ধরতে হবে? ক্রসফায়ার ওয়ালারা যদি পৌছাতে দেরি করে তাহলে ধর্ষক হবে পগার পার। আর সব ধর্ষককে আপনাদের ক্রসফায়ারওয়ালারা পৌছাতে পারবে আপনি শিউর? আপনার ক্রসফায়ার ওয়ালাদের আছে সেই হেডম? যে ক্যান্টনমেন্টে ঢুকে ধর্ষক ধরে ক্রসফায়ার করবে? ধর্ষক রাখেন, আজ পর্যন্ত যতগুলি ক্রসফায়ার হয়েছে তাদের সামাজিক অবস্থানটি কি একটু জানার চেষ্টা করবেন? সেখানে আছে কেনো সোনার ছেলের নাম? যাকে ক্রসফায়ার দেয়া হয়েছে? হলি আর্টিজানের কোন জঙ্গিদের ক্রসফায়ারে মারা হয়েছে? যাদের কোনো চালচুলো নেই তাদের। চালচুলোওয়ালাদের হাতে অস্ত্রপাওয়ার পরও ইনোসেন্ট বলে মুক্তি দেয়া হয়েছে। অবশ্য আপনারা যদি মনে করেন বাস কন্টাক্টর, বাসড্রাইভার, শ্রমিক নেতা, তৃণমূলের ইয়াবা ব্যবসায়ী, থানা, জেলা পর্যায়ের রাজনীতিকদেরই শুধু ধর্ষণ করার কোনো অধিকার নেই তাহলে ঠিক আছে। দেন ক্রসফায়ার।

স্বর্ণব্যবসায়ীদের ধর্ষণ, ক্যান্টনমেন্টওয়ালাদের ধর্ষণ, পাহাড়ের ধর্ষণ, মন্ত্রীপুত্রদের ধর্ষণ জারি থাকুক। মানিকদের ধর্ষণও জারি থাকুক। ক্রসফায়ারওয়ালাদের আত্মীয় স্বজনদের ধর্ষণও জারি থাকুক।

হ্যাঁ আমি, আপনাদের মাথাগরম ক্রসফায়ারের দলে আমি নেই। সেটা মানবাধিকারের প্রশ্নে না হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই বলেই নেই। ক্রসফায়ারে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে বিশ্বাস করি না। ক্রসফায়ার চাইবো বলে কলম কী-বোর্ড হাতে নেইনি।

গণপিটুনী আর ক্রসফায়ারের খুব বেশি পার্থক্য নেই। দুটোর কোনোটাতেই আমি সমর্থন দিতে পারি না। এখন যদি মনে করেন, ধর্ষকের ক্রসফায়ার চান বলে, ধর্ষণের শিকার কোনো নারীর জন্য আমার চেয়ে আপনার সহমর্মীতা বেশি তাহলে আমি আপনাকে ফ্লোর ছেড়ে দেবো।

মানবাধিকার যদি আপনি ধর্ষণের শিকার নারীর জন্যও চান তাহলে সেটাও দয়া করে মানবাধিকার কি সেটা জেনে বুঝেই চাওয়া উচিত। মানবাধিকারের সীমা সম্পর্কে ধারণা থাকলে আর ক্রসফায়ার ক্রসফায়ার বলে চিৎকার করা সম্ভব হতো না। জঙ্গলে যে বাঘ হাতের কাছে পেলে মানুষ চিবিয়ে খায় সেই জঙ্গলে তাকে গুলি করে মেরে ফেলার অধিকারও কিন্তু স্বীকৃত নয়।

আমি রাষ্টের যে আইন ধর্ষক তৈরি করে সেই আইনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই। আমি সেই সমাজ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই যে সমাজ রাষ্ট্র ধর্ষক তৈরি করে। আমার কাছে ধর্ষকের চেয়ে ধর্ষক তৈরির কারখানা বেশি বিপদজ্জনক মনে হয়। আমি মনে করি না একটি ধর্ষণের জন্য শুধু একজন পুরুষ দায়ী। দায়ী সমগ্র সমাজ এবং রাষ্ট্রকাঠামো। একজন ধর্ষকের ক্রসফায়ার মানে ধর্ষণের জন্য দায়ী একটি সমাজ এবং রাষ্ট্রকাঠামোকে নিরাপরাধ ঘোষনা করা। ক্রসফায়ারওয়ালাদের জম্মই হয়েছে যে উদ্দেশ্যে।

ছবি: গুগল