আমি এক ঘাড়ত্যাড়া গরীব সাংবাদিক

শারমিন শামস্

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ক্লাস ওয়ানে ভর্তির আগেই আমার গানে হাতেখড়ি। সে সময় গান খুব সিরিয়াস বিষয় ছিল আমার কাছে। আমার বাবা মায়ের কাছেও। ক্লাসিক্যাল চর্চাই হতো বেশি। এর বাইরে একটু আধটু রবিঠাকুরের গান। সেই ১৯৯৩ সালে আমার জন্য ইন্ডিয়া থেকে আট হাজার টাকায় তানপুরা আনা হয়েছিল টানাটানির সংসারেও। সেই গান নিয়ে অনেক কিছু ভাবতাম, স্বপ্ন দেখতাম বলে চেয়েছিলাম, শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীতে মিউজিক নিয়ে পড়বো। আব্বা বেঁকে বসছিলো।
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকপ্রাশাসনে পড়েছি আব্বার ইচ্ছায়। অথচ এই জিনিস পড়তে আমার জঘন্য লাগতো। গা গুলাতো।
অনার্স শেষ হবার আগেই আমি সাংবাদিকতা শুরু করি। আব্বা তেমন খুশি ছিল না। সারাক্ষন কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করে মনে করায় দিত যে আমার ডিসিপ্লিন লোকপ্রশাসন আর তাই আমার বিসিএস দেয়া মাস্ট। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতো, ‘সরকারি চাকরি সবচেয়ে সম্মানের। সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করিস না।’
বাংলাদেশের প্রথম ২৪ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেল সিএসবি তে আমি কাজ করতাম। সেই সিএসবি যখন বন্ধ হয়ে গেল, একদিন বাসায় ফিরে দেখলাম, আমার টেবিলের উপর পেটমোটা এক বিসিএস গাইড। আম্মা বললো, তোর আব্বু তোর জন্য আনছে। পৃষ্ঠা উল্টায়ে দেখলাম, সরকারি কর্তা হইতে বুড়া বয়সেও গরুর রচনা পরীক্ষায় লিখতে হয়।
আব্বার সঙ্গে আমার ছোট ছোট ব্যাটল চলতে লাগলো। আমি কিছুতেই পরীক্ষা দেব না। আব্বা দেয়াবেই। একদিন ফর্ম কিনে আনলো।
আমি কোনদিন বিসিএস পরীক্ষা দিই নাই। এই বস্তু আমারে পোষাবে না, এ আমি জানতাম। তখন এও জানতাম, নারী হিসাবে, দাদুবাড়ির জেলা স্থায়ী ঠিকানা করে, বহুভাবে আমি কোটার সুবিধা নিতে পারতাম।কিন্তু নেই নাই। পুরো পদ্ধতিটাকেই আমার একটা অদ্ভুত পদ্ধতি বলে মনে হয়েছে।
বিসিএসওয়ালারা খেইপেন না। আমি বিসিএস দিলে পাশও করতাম না। আমি ইউনিভার্সিটিতে টেইলরের কারখানা তত্ত্ব পইড়া কিচ্ছু বুঝতাম না। বিসিএস আমার মত গাধার জন্য না। গাধারে শান্তিনিকেতন শান্তি দিতে পারতো। আমার বাপ সেই শান্তির ল্যাজ শুরুতেই কাইটা দিছিলেন। আজ তাই আমি ঘাড়ত্যাড়া গরীব সাংবাদিক।

ছবি: লেখকের ফেইসবৃক থেকে