চা ও নচিকেতা

বাংলা গানের জগতে নচিকেতা এক ঝড়ের নাম। গিটার হাতে এক বিদ্রোহীর ছবি, গান গাইছেন প্রথম প্রেমিকার নাম ধরে, ‘সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা’। কলকাতার এই গায়গ তার গান আর জীবনাচারণে সহযাত্রীদের চাইতে অনেকটাই আলাদা। এবার সেই নচিকেতা গানের বাইরে এসে একটি চায়ের দোকানকে ঘিরে আবারও ঝড় তুললেন। দোকানের নামই হচ্ছে ‘চা ও নচিকেতা’। দোকানের ভিতর বাজছে গায়কের গানের কলি সঙ্গে সাদা-কালো-রঙিনে মিলিয়ে গায়কের অন্তত ২০টি ছবি।
কলকাতা শহরের যাদবপুর এলাকায় গত ১৮ জানুয়ারি পাঁচ পূর্ণ করেছে সাড়ে তিন বাই চার ফুট দোকান ‘চা ও নচিকেতা’। ওই দিন বিকেলে নচিকেতা নিজে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গান গেয়েছেন। ‘চা ও নচিকেতা’র শুরুটা খুব অদ্ভুত। বলা যায় বেশ অনেকটাই রূপকথার গল্প। নেশার জগতের সঙ্গে জড়িয়ে জীবন থেকেই খসে পড়ার জোগাড় হয়েছিলো যুবকগৌরব গুহ‘র। তিন মাস পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাটিয়ে নেশা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন গৌরব। কিন্তু, জীবন বড় নিষ্ঠুর। একজন নেশাখোরের আবার সুস্থ জীবনে ফেরাটা কঠিন কাজ। চাকরির চেষ্টা করে করে একটা সময় হাল ছেড়ে দেন গৌরব। তাকে কে কাজ দেবে? অতঃপর চায়ের দোকান। সারাদিন গান শোনা আর চা বিক্রি। কথাটা নচিকেতার কানে পৌঁছতে দেরি হয়নি। একদিন নিজেই হাজির হয়ে যান গৌরবের চায়ের দোকানে। জানতে পারেন, ক্লাস ফোর থেকে গৌরব তাঁর গানের অন্ধ ভক্ত। তাঁর গানই নেশার চক্রব্যূহ থেকে গৌরবকে টেনে বের করেছে। এরপর যতবার যাদবপুর দিয়ে অনুষ্ঠান করতে গিয়েছেন নচিকেতা গৌরবের দোকানে চা খেয়েছেন।
নীলাঞ্জনার প্রথম প্রেমিকের নামে এবার কলকাতা শহরে দ্বিতীয় চায়ের দোকান হচ্ছে পাটুলি নামে জায়গায়। দোকানের মালিক সেই গৌরব। আগামীকাল বুধবার নচিকেতা নিজে উদ্বোধন করলেন এই ‘বুটিক’ চায়ের স্টল।
শিল্পী জানালেন, “আমি আমার অনুরাগীদের পাপে আছি, আবার পুণ্যেও আছি। এই বিশ্বাস নিয়েই গান-বাজনা করছি।” গৌরবও এই অনুপ্রেরণাতেই ‘চা ও নচিকেতা’কে শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। জানালেন, সবসময় ভালো চা খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন। বিকেল তিনটে থেকে শুরু হবে পাটুলির ‘চা ও নচিকেতা’। চলবে রাত বারোটা পর্যন্ত। গৌরবের মতো ‘প্রাক্তন’ মাদকাসক্তরাই এই দোকানে কাজ করবেন।

বিনোদন ডেস্ক
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ সংবাদ প্রতিদিন, কলকাতা