আমার বিরিয়ানিপ্রীতি

প্রিয়ম সেনগুপ্ত, সাংবাদিক,ব্লগার, মিউজিশিয়ান (পশ্চিমবঙ্গ)

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

এটা সিরিয়াস পোস্ট। কেউ বাজে খিল্লি করবেন না।
আমার বিরিয়ানিপ্রীতির কথা সকলের জানা। লোকের বাড়িতে রাত করে ফিরলে ছেলেদের মুখ শোঁকা হয় ছেলে মদ খেয়ে ফিরেছে কি না বুঝতে। আমার বাড়িতে আমার আঙুল শোঁকা হয়, আমি বিরিয়ানি খেয়েছি কি না বুঝতে।
সপ্তাহে তিনদিন বিরিয়ানি খেতাম গোপনে।ফুটপাথের দোকানেই বেশি খেতাম। মাস দু’য়েক আগে মাঝরাতে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। যন্ত্রণা এমন জায়গায় গিয়েছিল যে, পেনকিলারে কমানো যায়নি। আমাকে সিডেটিভ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয়। ৪ দিনে ২৭টা ইঞ্জেকশন খেয়েছি। আই রিপিট ২৭টা।কত বোতল স্যালাইন, সেটার হিসেব নেই। ইউএসজি, লিভার ফাংশন টেস্ট, এন্ডোস্কোপি, স্ক্যান— কিচ্ছু বাদ যায়নি।
বিরিয়ানিকে এই দুর্ভোগের জন্য দায়ী করা যাবে না। অ্যাটলিস্ট আমি তো করবো না। ভাল দোকান থেকে বিরিয়ানি খেলে সেটা শরীরের পক্ষে খারাপ নয় মোটেও। তবে ভাল বিরিয়ানি আপনি পাবেন কোথায়? কলকাতা শহরের প্রায় সবকটা দোকানই খাসির মাংস নরম করার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর কেমিক্যাল ইউজ করে। মুর্গির মাংসের বিরিয়ানিকে আমি বিরিয়ানি বলেই মনে করি না। বলতেই পারতাম, পাঁঠার মাংসের বিরিয়ানি খাওয়ার তুলনায় চিকেন বিরিয়ানি খাওয়াটা বেটার। কিন্তু বর্তমানে মরা মুর্গি নিয়ে যা চলছে, তাতে সেটাও বলা যাবে না।
তাছাড়া গরমও পড়েছে। সব মিলিয়ে আপাতত বিরিয়ানি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
ডাক্তারের কড়া হুকুম, আগামী ছ’মাসের মধ্যে তিলমাত্র স্পাইসি ফুড নৈব নৈব চ। আজীবন বন্ধ কোল্ড ড্রিংকস। সুতরাং ব্যাপারটা কী খাড়াইল? আগামী ছ’মাসের মধ্যে বিরিয়ানি খাওয়াটা বন্ধ।
কলকাতার বুকে বিরিয়ানি সবচেয়ে বড় উপাসক অভুক্ত থাকবে, আর আপনারা আর্সালানে থেকে ভরপেট খেয়ে বেরিয়ে ঢেঁকুর তুলতে তুলতে বেরিয়ে আমাকে খোঁটা দেওয়ার জন্য ‘মাটনের পিসটা কী ছিল রে ভাই’ বলে ফোন করবেন, সেটা তো হতে দেওয়া যায় না।আমার অভিশাপ ও নীরব হাহাকারের তো একটা দাম আছে।
পৈতে পরি বা না-ই পরি ঘোর কলিতেও ব্রহ্মতেজ অটুট আছে। অভিশাপ রইলো, আমি বিরিয়ানি না খেলে গোটা কলকাতা বিরিয়ানি-উপোসী থাকবে। মরা মুর্গির ভয়, পাঁঠার বদলে কুকুরের মাংস খাওয়ার ভয় ততদিন অবধি আপনাদের মন ও নিউজপেপারের হেডিং দখল করে থাকবে, যতদিন না এই শর্মা টানা দু’প্লেট বিরিয়ানি সাঁটাবে।

এরপরেও যারা খাওয়ার কথা ভাববে তাদের জন্য আমার অভিশাপ মন্ত্র রইল
‘ওঁং রামনবমী রক্তবমি অম্বলায় পেটব্যথায় নমো
ওঁং মধ্যরাতে গাড়ুহাতে বড়বাইরে শাপ মম’

ছবি: গুগল