তিনি বিয়ে করেছিলেন চারু মজুমদারকে

তেভাগা আন্দোলনের সময় আলাপ হয়েছিল যে যুবকটির সঙ্গে, ১৯৫২-তে এসে আশালতা বিয়ে করলেন তাঁকে। ছেলেটির নাম চারু মজুমদার।আশালতার নাম পাল্টে হয়েছিলো লীলা।
বিয়ের পরেও কমিউনিস্ট পার্টির কাজে নিজেকে জড়িত রেখেছিলেন খুব স্বাভাবিক গতিতেই। গাছকোমর করে বাঁধা, পাড়ওয়ালা সাদা শাড়ির যে মহিলা কর্মীটি অনায়াস ক্ষিপ্রতায় মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশে ছুড়ে দিতেন তেভাগা আন্দোলনের মিছিলে, সেই আবেগ চা-বাগান আন্দোলনেও থাকলো অটুট। ছড়িয়ে গেলেন আরো বড় কাজের পরিধির মাঝে।
একটু পেছন ফিরে যদি তাকানো যায় এই লীলার শুরুর জীবনে তাহলে দেখা যাবে এই ভদ্রমহিলার জন্ম ১৯২১ সালে। ডাক্তার হরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত আর বিজনবালা দেবীর পাঁচ সন্তানের দ্বিতীয় এবং একমাত্র কন্যা। নাম রাখা হয়েছিল আশালতা, পরে তা হয়ে যায় লীলা। লীলা‘র জীবন এগারো বছর বয়সেই ভিন্ন পথে মোড় নেয়। আর মোড় না নিয়েও কোনো উপায় ছিলো না। কারণ, বিজনবালা আর একটি সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। সেই নবজাতকের আয়ুও ছিলো স্বল্প। বাবা, দাদা আর তিন ভাইয়ের সংসারে তাই লীলাই হয়ে ওঠে কর্ত্রী। দায়িত্ব নিতেই হবে, কারণ বাবা ঘুরে-ঘুরে ডাক্তারি করেন আর একেবারে ছোট ভাই তখন মাত্র আড়াই বছরের।
রান্নাঘর সামলানোর ফাঁকে ম্যাট্রিক এবং আইএ পরীক্ষার দরজা টপকানো তাঁর। বাবার অমতেই স্কুলে পড়ানোর কাজ নেন। ইতিমধ্যে জলপাইগুড়িতে মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির সদস্য হয়ে শিখে নিয়েছেন লাঠিখেলা, ছোরাখেলা। আঠারো বছর বয়স থেকেই পরতে শুরু করেছেন পাড়ওয়ালা সাদা শাড়ি।
মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি তো কমিউনিস্ট পার্টির মহিলাদের সহোদরা। অতএব লীলা সেনগুপ্ত যে অচিরেই নিজ যোগ্যতায় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ পাবেন তাতে আশ্চর্য হবার মতো কিছু নেই। কিন্তু সেই ১৯৪৪-৪৫ সালে, যখন কমিউনিস্ট পার্টির কাজ সহজ নয়, মহিলা সংগঠকদেরও মেয়েদের কাছে পৌঁছতে অনেক সংশয়-সন্দেহের কাঁটাতার পার হতে হয়, পায়ে হেঁটে করতে হয় কাজ— মিল্ক ক্যান্টিন চালানোর সংগঠন, তাঁত চালানোর দল, চাঁদা তোলা, সমিতির সদস্য জোগা‌ড়, পাঠচক্রে উপস্থিতি, বাড়ি-বাড়ি প্রচার— লীলার মতো স্বল্পভাষী মেয়ে সেসব কাজ প্রতিদিন করে গেলেন অদ্ভুত নিষ্ঠায়। তাঁর কমরেডের ভাষ্যে পাওয়া যায়, দৃঢ়তাই ছিলো তাঁর প্রধান হাতিয়ার। শত প্রতিকূলতা, অনটন সহ্য করেও মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি, পার্টির বিভিন্ন কাজ করে গিয়েছেন মুখে একটা মৃদু হাসি নিয়ে।
বিয়ের পর সংসারে অনেক কাজ করতে হতো লীলাকে। মজুমদারদের যে অল্প কিছু জমি ছিল, তাতে আধিয়াররা চাষ করতো। বছরের ধান ওঠালে তার কিছু তারা দিয়ে যেত লীলার কাছে। তাতে সংসার চলে না। ‘আমাদের বাড়ির উঠোনে গোবর লেপে মা ধান সেদ্ধ করে পা দিয়ে মেলে দিচ্ছেন’, সে ছবি বেশ মনে আছে বড় মেয়ে অনিতার। পরবর্তী সময়ে, আধিয়াররা এক বার এসে বললো, ‘‘মা, আমরা তো আর জমিতে চাষ করতে পারছি না। পাশের জমির জোতদার জুলুম চালাচ্ছে।’’ লীলা জানতে চাইলেন, তাকে কী করতে হবে। ‘‘আমাদের নামে জমি লিখে দাও। আমরাও অল্প কিছু টাকা দিচ্ছি, তুমি বাকিটা দিয়ে খাজনা শোধ করে রেজিস্ট্রি করে দাও।’’ লীলা তা-ই করলেন। কোনও হইচই নয়, কোনও প্রচার নয়, তিনি নীরবে যে কাজটি করলেন, তা করতে অনেক আলোকিত কমিউনিস্টও ভিরমি খাবেন।
এই সাহসী ও দৃঢ়চেতা নারীটির শৈশব, কৈশরের গল্পটিও কিন্তু অসাধারণ। বাবা হরেন্দ্রনাথের চাকরির সুবাদে লীলাকেও উত্তরবঙ্গের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হতো। ১৯৪৬-এর শুরুতে হরেন্দ্রনাথ মারা গেলে, দাদা আর ভাই-সহ লীলা আসেন জলপাইগুড়ি। ইতিমধ্যে দাদার বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে, সেজো ভাই ফুসফুসের অসুখে মৃত।
জলপাইগুড়িতে এসে লীলার প্রাণশক্তি তুঙ্গে। শিশুমহল নামে একটি প্রাইমারি স্কুলে পড়ানো শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি চলছে মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি ও কমিউনিস্ট পার্টির কাজ। সমিতির মুখপত্র ‘ঘরে বাইরে’-র (যা মেয়েরাই চালায়, মেয়েরাই লেখে, মেয়েরাই বিজ্ঞাপন আনে, টাকার অভাব হলে শো করে টাকা তোলে) প্রচার বাড়ানোয় মন দেন লীলা।
১৯৪৬-এর শেষ দিকে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কিষাণ সভার ডাকে গ্রামে গ্রামে তেভাগার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। উৎপন্ন ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের ভাগ চাই ভাগচাষিদের— অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে এর পক্ষে প্রচার চালান লীলাও।
১৯৪৮-এ পার্টি নিষিদ্ধ হলো, মহিলা আত্মরক্ষা সমিতিও একই ভাগ্য বরণ করে নিলো। । লীলা প্রথম বারের জন্য গ্রেপ্তার হলেন। মুক্তিমিললো কিছুদিন পরে। কিন্তু তখন স্কুলের চাকরি গেছে। কাজ নিলেন একটি বীমা কোম্পানীতে। তখন ওই চাকরিটাই ছিল তাঁর আয়ের উৎস, যত দিন সক্ষম ছিলেন, এই কাজই মন দিয়ে করেছেন লীলা।
১৯৫০-এ আবার কারাগারে। জেলে রাজবন্দির মর্যাদার জন্য, অন্য কমরেডদের সঙ্গে অনশন আন্দোলন শুরু হলো। লীলা নিলেন নির্জলা অনশনের রাস্তা। তিনিই তখন একমাত্র মহিলা বন্দি।

মিছিলে লীলা মজুমদার

যৌবনে যিনি জেলজলুমের পরোয়া করেননি তিনি বিয়ে করে সংসারধর্ম পালনে পিছপা হবেন কেন? শিলিগুড়িতে দেখা গেল একের মধ্যে বহু লীলাকে। সংসার সামলে, শ্বশুর বীরেশ্বর মজুমদারকে বলেকয়ে পার্টির কাজে বের হতেন। তরাই শ্রমিকদের চাঁদায় কেনা পার্টির গাড়িতে মিটিং চলেছেন তিনি। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় সাক্ষ্য দিচ্ছেন, ‘একবার করে শব্দ হয় ‘হৈ’ আর জীপটা অমনি থেমে পড়ে। কখনও একজন, কখনও দুজন করে লোক ওঠে। কারো হাতে হাট থেকে শস্তায় কেনা বোয়াল মাছ; কারো হাতে ধুলোসুদ্ধু শাকডাঁটা; কেউ নেশা করেছে, মুখে ভকভক করছে গন্ধ। যার যার বাড়ির কাছে এসে লোকে নেমে পড়ছে। কিন্তু আবার উঠছেও তেমনি। কেউ সাঁওতাল, কেউ ওরাঁও, কেউ মুণ্ডা, কেউ কোল। ছত্রিশ জাতের লোক। চা-বাগানের কুলি। গাড়ির মধ্যেটা সারাক্ষণ ঠাসাঠাসি হয়ে আছে। থামলে, মদ, মাছ আর গায়ের দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। চললে দমকা হাওয়ায় তবু কিছুটা সোয়াস্তি… কোলে মেয়ে নিয়ে এককোণে বসে থাকা বন্ধুর স্ত্রীর দিকে তাকালাম। কোন ভাবান্তর নেই। ভিড়ের মধ্যে দিব্যি সহজ নির্বিকার হয়ে বসে আছেন…’ এই ‘বন্ধুর স্ত্রী’ই লীলা মজুমদার।
প্রথম দিকে পুত্রবধূর কর্মকান্ড নিয়ে বেশ আপত্তি ছিলো চারু মজুমদারের বাবার। কিন্তু পরে উল্টো পুত্রবধূর ওপর তাঁর নির্ভরতা বেড়ে গেল। দেখা গেল, লীলাকে ‘মা’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন তিনি।
পক্ষাঘাত এবং প্রস্টেট জনিত শল্য চিকিৎসায় শয্যাশায়ী মানুষটিকে কেমন ভাবে সেবা করতেন লীলা? বড় মেয়ে অনিতা বলছেন, ‘‘সকালবেলায় উঠে প্রথমে দাদুর বেডপ্যান নিয়ে সেটা পরিষ্কার করতেন। তার পর দাদুর বিছানা চেঞ্জ করতেন এবং সেগুলি কেচে, স্নান করে রান্নাঘরে ঢুকতেন। তাঁর কোলে তখন আড়াই বছরের অভি…’’
এ সেই সময়কার কথা, যখন লীলা এবং চারুর তিন সন্তান— অনিতা, মধুমিতা আর অভিজিৎ। এর মধ্যেই লীলা সাংসারিক সব কাজ নিজ সামর্থ্যে চুকিয়ে, চা-বাগানে ঘুরে-ঘুরে সংগঠনের কাজ করছেন, পার্টির মহিলা ফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, দার্জিলিং জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়েছেন। এত কিছুর মধ্যে চলেছে পরিবারের অন্ন জোগাড়ের কাজ— জীবন বীমার পলিসি খোলা। এই অতিমানবিক চারিত্র বৈশিষ্ট্যের জন্যই চারু মজুমদারের চিরবন্ধু, চির নির্ভরতার জায়গার নাম ছিলো— লীলা।
সরকার ঠিক করেছে, রাজনৈতিক কারণে জেলবন্দিদের পরিবারকে ভাতা দেওয়া হবে। নিয়মমতো টাকা গেল চারু বাবুর মহানন্দা পাড়ার টিনের চালওয়ালা কাঠের বাড়িতে। কিন্তু সেখানে কী ঘটলো? সেই ১৯৬৩ সালে লীলার উদ্দেশে জেল থেকে লিখছেন চারু মজুমদার: ‘তুমি family allowance এর টাকা ফেরৎ দিয়ে ভাল কাজই করেছ। ও টাকা নেওয়ার কোনও অর্থ হয় না। সরকারের family allowance এর ব্যাপারে কোনও নীতি আছে বলে মনে হচ্ছে না…’
অথচ মহানন্দা পাড়ার সেই বাড়িতে তখন চরম দারিদ্র্য সংসার পেতেছে। একই ঘটনা ঘটলো দু’বছর পরে আবারও। তখনও চারু মজুমদার কারাগারে। আবারও সেই ‘ভাতা’র প্রশ্ন সামনে উঠে এলো।আবারও লীলাকে চিঠি লিখলেন চারু মজুমদার: ‘family allowance বাবদ ১১৫ টা. দেবে ১৯.৯.৬৫ থেকে। কোনও উত্তর দিই নি দিতেও পারবো না। তোমরা যা বিবেচনা হয় কোর।…..আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে তোমাদের স্বপ্ন দেখি।’
এই কয়েকটি উচ্চারণই তো দুজনের সম্পর্কের গভীরতাকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। জেলের মধ্যে যখন খুব অসুস্থ, কর্তৃপক্ষও ভয় পেয়ে গিয়েছে, দরকার পড়লে কী করে হুট করে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা হবে সেই নিয়ে, চারু মজুমদার তখন নিশ্চিন্ত গলায় বলেছেন, ‘‘আমার স্ত্রীকে খবর দিন, উনি আমাকে নিয়ে গিয়ে সব ব্যবস্থা করে দেবেন।’’
১৯৬৬-৬৭ সালে চারু মজুমদার নতুন রাজনৈতিক লাইন নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন, লীলাই ছিলেন তাঁর প্রধান উৎসাহদাতা। মানুষ চিনতে লীলার জুড়ি নেই। এ-কথা মানতেই হয় চারুকে। মজুমদার দম্পতির সম্পর্কটি দাঁড়িয়ে ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের নিখাদ শক্ত জমিতে। সেখানে কোনও ভেজাল নেই। চারুর মতো তার সন্তানদেরও অগাধ ভরসার জায়গা লীলা। মা যেন সবাইকে আগলে রেখেছিলেন দুর্গের মতো।
তাঁর স্নেহ-মমতার পরিচয় পেয়েছেন ‘আত্মগোপনকারী কর্মী’ নিমাই ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘‘কমরেডরা আত্মগোপন করে গোপনে চারুদার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন, লীলাদি জানতেন কতটা সতর্ক থাকা দরকার। সে সব বিষয়ে লক্ষ রেখেও কোন কমরেড কী খেতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য সেই পদ তৈরি করতেন।’’

পরিবারের সঙ্গে লীলা মজুমদার

এক বার ভীষণ জ্বর নিয়ে নিমাইবাবু ছিলেন মজুমদার বাড়িতে। ‘‘ঘুমের মধ্যেই আমার মুখ দিয়ে কোনও গোঙানির শব্দ লীলাদির কানে গিয়েছিল। হঠাৎ মনে হল কে যেন আমার মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে। ঘোরের ভিতর ভাবলাম মা বোধহয়।…আমার তখন তন্দ্রা ভেঙে গেছে। চোখ খুলে দেখি লীলাদি আর চারুদা (চারুর শরীরও সে সময় বেশ খারাপ)। আমি উঠে বসতে যাচ্ছিলাম। লীলাদি বললেন, উঠো না, আমি ওষুধ দিচ্ছি। সেদিন প্রায় অনেক রাত পর্যন্ত লীলাদি আমার মাথার পাশে বসেছিলেন। সেদিনের সেই স্মৃতি আজও আমার মনকে নাড়া দেয়।… চারুদা এক বুক স্বপ্ন নিয়ে, ওই অসুস্থ অবস্থাতে, কোন মানসিক দৃঢ়তার সঙ্গে মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে, সারা ভারতবর্ষকে নতুন পথের দিশা দেখাবার প্রয়াসে সচেষ্ট হয়েছিলেন! লীলাদির মতো কমরেড পাশে থাকলেই তা সম্ভব।’’
স্নেহময়ী লীলা প্রয়োজনে কঠিন হতেও জানতেন। ছত্রিশ রকম কাজের মধ্যে একটি বড় দায়িত্ব ছিল শিলিগুড়ির শিশু বিদ্যাপীঠের সম্পাদকের দায়ভার পালন। সেখানে শিক্ষিকাদের আচরণে প্রয়োজনে কঠোর হয়েছেন, বলেছেন: ‘‘এমন ভাবে কাজ করবি না যাতে তোদের নামে আমাকে নালিশ শুনতে হয়!’’
এমনই দাপট বাড়িতেও। ‘‘কোনও খাতা কিনতে হলে মাকে শুক্রবার বলতে হতো, তবে মা সোমবারের মধ্যে সেটা কেনার ব্যবস্থা করতেন।
এর অন্যথা হলে বকাবকি শুনতে হতো। তখন সংসারে খুবই অনটন,’’ অনিতা মা সম্পর্কে এমনটাই জানিয়েছেন। যেই তিনি শুনতে পেলেন চারুর একমাত্র বোন বেলা‘র ছেলের নানা স্খলনের খবর, লীলা তাকে জোর করে নিয়ে এলেন মহানন্দা পাড়ার বাড়িতে। জুড়ে দিলেন ইন্সুরেন্স কোম্পানির নানা কাজে। সে ছেলে ভালো পথে ফিরে এলো। এমনই সহৃদয় আন্তরিকতায় যুক্ত ছিলেন প্রতিবেশীদের সঙ্গেও। চারু মজুমদারের মৃত্যুর পরও নিজস্ব একান্ত শোক গোপন করে, শোকবিহ্বল সন্তানদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
চারু মজুমদারের রাজনীতি নিয়ে কোনও বাক্য উচ্চারণ করেননি লীলা মজুমদার পরবর্তী সময়ে। এমনকী ঘরোয়া হালকা আলোচনাতেও নয়। সব কিছুই কি তাঁর পছন্দ ছিল? তাও জানার উপায় নেই। তবে তিনটি ঘটনা মনে রাখবার। হরেকৃষ্ণ কোঙার যখন জনসভায় নকশালবাড়ি আন্দোলনের নিন্দেমন্দ করছেন, কিশোরী অনিতাকে নিয়ে সভা ত্যাগ করেন লীলা। সত্তরে যখনই সশস্ত্র পুলিশ বাড়িতে তল্লাশিতে এসেছে, সমস্ত অস্ত্র সদর দরজায় মাটিতে রাখলে, তবেই ঘরে ঢুকতে দিয়েছেন তাদের। আবার গুনে গুনে প্রতিটি অস্ত্র ফেরত নেওয়ার পর তবে তাদের রেহাই। ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র সামলানোর জন্য সেটা ছিলো তাঁর প্রতিরোধ।
আবার ১৯৭১-এ যখন তাঁর বাবার কমরেড সৌরেন বসু অনিতাকে বলছেন, পরীক্ষা বয়কট করো, লীলা মেয়েকে বলছেন, পরীক্ষা দাও। তাঁর মতামত স্পষ্ট, চিন্তা স্বাধীন। এরই পাশাপাশি তাঁর লেটারপ্যাডে নিজের নামের তলায় লেখা: কেয়ার অব লেট চারু মজুমদার!বিষ্মিত হবার মতো ঘটনাই বটে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, কলকাতা
ছবিঃ গুগল