প্রেমে পড়েছিলেন বার্নার্ড শ

জর্জ  বার্নার্ড শ  আর বিখ্যাত অভিনেত্রী স্টেলা ক্যাম্পবেলের মধ্যে ছিল এক নিবিড় সম্পর্ক। অনেকে বলেন, সে সম্পর্কের ডাক নাম ছিল ভালোবাসা। দুজনেই ছিলেন বিবাহিত। কিন্তু তারপরেও তাদের মাঝে প্রবাহিত ছিল প্রেমের জলধারা। হৃদয়ের নিভৃতে ছিল পরস্পরের প্রতি গভীর অনুভূতি। ছিলো পরস্পরকে কাছে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তাঁদের দুজনের মৃত্যুর পর পরস্পরকে লেখা বহু চিঠিতেও পাওয়া গেছে সেই আকাঙ্ক্ষার সাক্ষ্য।
বৃটিশ রঙ্গমঞ্চের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন স্টেলা ক্যাম্পবেল। আসল নাম প্যাট্রিক ক্যাম্পবেল। তার অভিনেত্রী জীবনের একেবারে গোড়ার দিকে বার্নার্ড শ‘র পরিচয় ঘটে। তখন বার্নার্ড শ খ্যাতিমান নাট্যকার হয়ে ওঠেননি। নিজের স্ত্রীর সঙ্গেও ছিল তার মধুর সম্পর্ক। অন্যদিকে স্টেলা সদ্য-বিধবা নিঃসঙ্গ। হয়তো স্টেলার জীবনের সেই নিঃসঙ্গতার ফাঁক দিয়েই দুজনের জীবনে এসে দাঁড়িয়েছিল ভালোবাসা। দুজন মানুষ উপলব্ধি করেছিলেন তাদের চিন্তাভাবনা, তাদের উপলব্ধির সাধারণ ক্ষেত্রটি। আর তাই হয়তো কিছুটা সময়ের জন্য তারা হয়ে উঠেছিলেন একে-অপরের সৃষ্টির অনুপ্রেরণা।
তার ‘পিগম্যালিয়ন’ নাটকে এলিজাবেথ জুলিটল নামে সেই ফুলওয়ালি মেয়েটির চরিত্রই হয়তো সৃষ্টি হতো না স্টেলা না থাকলে। অনেকে বলেন, স্টেলার জন্যই বার্নার্ড শ  সৃষ্টি করেছিলেন এই চরিত্র। রিহার্সেলের সময় স্টেলা বড় ধরণের দূর্টনায় পড়ে অনেকদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। তখন নাটকের কাজই বন্ধ করে দিয়েছিলেন নাট্যকার।
বিয়ে করেননি তাঁরা। বিয়ের করার কথাও ভাবেননি। হয়তো তারা ভেবেছিলেন সামাজিক বন্ধন থেকে দূরে নিশ্চিন্তে বেঁচে থাক তাদের ভালোবাসা। তাই স্টেলা দ্বিতীয়বার বিয়ের কথা ভেবে পাত্র হিসেবে ভেবে নিয়েছিলেন কর্ণয়ালিশ ওয়েস্ট নামে আরেক পুরুষকে। তারপর কি তাদের সম্পর্ক  শেষ হয়ে গিয়েছিল? ইতিহাস জানে, স্টেলা বিয়ে করার পরেও তাদের প্রেম ফুরিয়ে যায়নি। গোটা জীবন ধরেই তারা পরস্পরকে চিঠি লিখেছেন। সে সব চিঠিতে শ স্টেলাকে তার খামখেয়ালি নানা কাজকর্ম নিয়ে বারবার সাবধান করেছেন। বিশ্বযুদ্ধে একমাত্র  ছেলে মারা যাবার পর শোকার্ত  স্টেলা চিঠি লিখেছেন তার কাছের মানুষটিকে। নিজের লেখা চিঠিতে স্টেলা বারবার শ‘র লেখার অসামান্য ক্ষমতা, তার শব্দ চয়নের দক্ষতার কথা স্বীকার করেছেন।
স্টেলা একসময়ে হলিউডে চলে গিয়েছিলেন অভিনয় করতে। সেখানে ছোটখাট চরিত্রে অভিনয় করে তাকে দিন কাটাতে হচ্ছিলো। তখন আহত হয়েছিলেন শ। কারণ তার বিশ্বাস ছিল স্টেলার জন্য এ ধরণের কাজ অপমানের। পরের ইতিহাস সবারই জানা। হলিউডে সহায় সম্বলহীন হয়ে নিঃসঙ্গ অবস্থায় স্টেলা ক্যাম্পেবেল মারা যান। তারপর ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যায় সেই চিঠি লেখাও। কিন্তু সাহিত্যের আলোচনায় এখনও বেঁচে আছে তাদের সেই ভালোবাসার কাহিনি।

(সংগ্রহ)