আমরাও পারি…

খোশরোজ সামাদ

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

‘সাতকোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী
রেখেছো বাঙালি করে মানুষ কর নি ‘
রবীন্দ্রনাথ এই পংতিমালায় কি বলতে চেয়েছেন তা সেটা তিনিই ভাল বলতে পারতেন।তবে, বাংলামাতার সন্তানেরা জ্ঞান গরিমা শক্তিমত্তায় যে ঊনমানব সেই বক্তব্যটি এই চরণে দিব্যি ফুটে উঠেছে।

হাজার বছর আগেই তাঁর কথা মিথ্যে প্রমাণ করেছিলেন ‘আর্যভট্ট’ গণিতে ‘০’ আবিস্কারের মাধ্যমে। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে বাঙালি গণিতজ্ঞ একাই বিশ্বের সভ্যতার চাকাকে কয়েক হাজার বছর এগিয়ে নিয়ে যান। কয়েকশত বছর আগে পায়ে হেঁটে হাজার কিলো পেরিয়ে অতীশ দীপঙ্কর সেই তিব্বতে যখন জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালিয়ে এসেছিলেন তখনও বাঙালি নতুন করে প্রমাণ করেছিল তারা মানুষ হয়েছে। নূরলদীন প্রত্যন্ত রংপুরে ব্রিটিশ তস্করের বিরুদ্ধে যখন ডাক দিয়েছিল ‘ জাগো বাহে কুন্ঠে সবাই?’ তখন বাঙালি দেখিয়ে দিল তারা মানুষ। বায়ান্নোতে সালাম রফিক বিশ্বকে জানিয়েছিল বাঙালি মায়ের মুগ্ধ সন্তানেরাও মানুষ হয়েছে। উনসত্তরে আসাদের রক্তমাখা শার্ট পতপত করে উড়ে দেখিয়ে দিল নিষ্প্রাণ শার্ট কি ভাবে দেশ মাতৃকার পতাকা হয়ে উঠতে পারে। একাত্তরে রুমি দেখাল কি ভাবে ভালবেসে মায়ের ছেলেরা যুদ্ধ -এ যায়। নূর হোসেন বুকে পিঠে গণতন্ত্র চাওয়ার কথা লিখে গুলি খেয়ে আরেকবার প্রমাণ করলো বাঙালিরা মানুষ।

বিশ্বের উন্নততম দেশ আমেরিকার উঁচুতম দালানের নকশা এঁকে স্থপতি এফ আর খান বাঙালির বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার যে ম্যাসেজ দিল তারই ধারাবাহকতায় মহাকাশে উৎক্ষেপিত হল বঙ্গবন্ধু-১।

মানুষের মহাকাশে উড়বার ইচ্ছে সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে।গ্রীক পুরাণে দেখি ‘ ইকারুস ‘  মোম  হাতে লাগিয়ে আকাশে উড়েছিল।আমেরিকার দুই সহোদর উইলভার রাইট, অরভেইল রাইট আবিস্কার করলো বিমান।সেটিই প্রথম আকাশ জয়ের গল্প। রাশিয়ার ইউরি গ্যাগারিন ম্যাধ্যাকর্ষণ ছিন্নভিন্ন করে ‘ স্পুটনিক ‘ কে নিয়ে গেল মহাকাশে। নীল আমষ্ট্রং চাঁদের দেশে উড়ালেন বিশ্বের পতাকা।

এরপরের মহাকাশ বিজয়ের কাহিনী শুধুই অগ্রযাত্রার। একে একে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কামাডা,তুরস্ক, প্রতিবেশী ভারত,পাকিস্থানসহ ৫৬ টি দেশ উৎক্ষেপন করলো স্যাটেলাইট। তীব্র আগুনের হল্কা ছুটিয়ে গত ১১ই মে মহাকাশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো বঙ্গবন্ধু -১।বিশ্বের সন্মানিত রাষ্ট্রসমূহের স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হল বাংলাদেশ।

ভগবান কোথায় থাকেন সম্ভবত কবি নজরুল সেটি জানতেন না। তবে তাঁর লেখনী হতে ধারণা করা যায় মহাবিশ্বের মহাকাশে ভগবানের বাস। বীর নজরুল লিখেছিলেন ‘ আমি ভগবান বুকে এঁকে দেই পদচিহ্ন ‘!আমাদের ধমনীতে তাঁর রক্তই প্রবহমান। তাই, বলা যেতে পারে বীর বাঙালি ১১ই মে মধ্যরাতে মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়িয়া ভগবান বুকে পদচিহ্ন এঁকে দিয়ে আসলো।

ছবি: গুগল