দুজনের যুগলবন্দী

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডেকেছিলেন তাঁর বিশ্বভারতীতে যোগ দিতে। কাজটা ছিলো সংগীতভবনে শিক্ষকতা করা। কিন্তু আলাউদ্দিন খাঁ আসবেন কী করে? ১৯১৮ সাল অথবা তার কিছু আগে থেকে মাইহার রাজের আমন্ত্রণে সেখানে ‘রাজগুরু’র দায়িত্ব নিয়ে যন্ত্রসংগীত চর্চার পরিসর গড়ে তুলেছেন। রবীন্দ্রনাথ খাঁ সাহেবকে তাঁর সঙ্গে কাজ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ১৯৩৫ সালে। খাঁ সাহেব অসাধারণ বিনয়ী মানুষ। রবীন্দ্রনাথের আমন্ত্রণ রাখতে পারছেন না এই কথাটা জানাতেই তিনি পদার্পণ করলেন শান্তিনিকেতনে। নিজেই হাজির হয়ে জানালেন মাইহার রাজ তাকে ছাড়তে রাজি নন। তবে সৌজন্যবশত বিকল্প হিসেবে এই সুরসম্রাট রবীন্দ্রনাথের কাছে রেখে গেলেন ছোট ভাই আয়েৎ আলী খাঁকে।

শান্তিনিকেতন

আলাউদ্দিন খাঁ শান্তিনিকেতনে থাকার সময় ৩০ শ্রাবণ আয়োজন করা হয় বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠানের। কিন্তু তখন রবীন্দ্রনাথের শরীর অসুস্থ। ঠিক করা হলো তিনি অনুষ্ঠানে আসবেন না। কিন্তু যখন আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের বাদন শুরু হলো সবাই অবাক হয়ে দেখলো অনুষ্ঠানস্থলে রবীন্দ্রনাথ হাজির।সেদিন অসুস্থ শরীর নিয়েই তিনি খাঁ সাহেবের বাজনা শুনতে চলে এসেছিলেন।

আলাউদ্দিন খাঁ শেষ পর্যন্ত শান্তিনিকেতনে থাকলেন না। তার বিদায়ের সময় উপস্থিত। ফিরে যাবেন তিনি মাইহারে।তখন একদিন গল্পের আসরে রবীন্দ্রনাথ শিল্পী নন্দলাল বসুকে ডেকে মজা করে বলেন, ‘নন্দলাল আলাউদ্দিনের মাথাটা রেখে দাও।’ নন্দলাল বসুর বিলম্ব হয়নি গুরুদেবের কথার অর্থ বুঝতে। তিনি বার্তা পাঠালেন আরেক অসাধারণ প্রতিভা ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজকে। তিনিই আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবের মুখের একটি ভাস্কর্য্ তৈরী করেন।

আলাউদ্দিন খাঁ সাহেব বিদায় নেয়ার পর  আয়েৎ আলি নিয়ে আসেন তাঁর তবলা ও এসরাজের শিষ্য ইয়ার রসুল খাঁকে। এ ছাড়া আলাউদ্দিনের সেজোভাই আফতাবউদ্দিনের শ্যালক আলি আহম্মদকেও আয়েৎ আলী রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছায় শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসেন যন্ত্রসংগীতের শিক্ষকতার জন্য।

রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণের ১১ বছর পরে ১৯৫২ সালে বিশ্বভারতীর বিশেষ আমন্ত্রণে ‘দিনেন্দ্র অধ্যাপক’ পদে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে  আলাউদ্দিন খাঁ শান্তিনিকেতনে আসেন এবং মাস দুয়েক থাকেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর পৌত্র আশিস খাঁ। সে সময়ে তাঁকে উদয়ন বাড়ির সামনে কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথের পৌরোহিত্যে এবং ক্ষিতিমোহন সেনের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ১৯৬১ সালে আলাউদ্দিনকে বিশ্বভারতীর সর্বোচ্চ সম্মান ‘‌দেশিকোত্তম’‌ উপাধিও দেওয়া হয়।

সাহিত্য ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ গুগল