সেই হাসিমুখ আর দেখবো না…

অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের হাসিমুখটাই মনে থাকবে বাকী জীবন। দেখা হলেই হাসিমাখা মুখে তাজিনের সম্ভাষণ জানানোর চেনা ভঙ্গীটা আর কোনোদিন এই শহরে দেখতে পাওয়া যাবে না। এই শহরে কেন, এই পৃথিবীর আর কোথাও-ই আর দেখা যাবে না।আজ দুপুরে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলো বাংলাদেশের নাট্য জগতের কুশলী অভিনেত্রী, একদা সাংবাদিক তাজিন আহমেদ।

আজ ভোর পাঁচটায় হঠাৎ করেই তাজিনের এসএমএস আসে আমার ইনবক্সে।তখনও ঘুমের ঘোর কাটেনি। তাই এসএমএসটা দেখা হয়নি। সকালবেলা ঘুম ভেঙ্গে ফোন চেক করতে গিয়ে চোখে পড়ে তাজিনের ক্ষুদে বার্তা-‘তুমি, তোমরা কেমন আছ? সেদিন কাওসার ভাই(কাওসার চৌধুরী)-এর কাছে তোমাদের কথা শুনেছিলাম।’

তখন বুঝতেও পারিনি তাজিন তার জীবন নাটকের শেষ দৃশ্যে দাঁড়িয়ে। আর কিছুক্ষণ বাদেই পৃথিবী ছেড়ে চিরকালের পথে তার যাত্রার সূচনা ঘটবে।ফোনে সময় দেখলাম বার্তাটি তাজিন পাঠিয়েছে ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে। আমি অন্য যে কোনোদিনের মতো সাধারণ ভঙ্গীতেই তাজিনের কথার উত্তর পাঠালাম,‘আমরা ভালো আছি।’তারপর আর কোন উত্তর আসেনি তাজিনের কাছ থেকে। তখন আমি কী করে জানবো তাজিনের সঙ্গে এতো বছরের পরিচয়ের গল্প আয়ু ফুরিয়ে শেষের রেখায় এসে দাঁড়িয়েছে!আমরা তো ভালো থাকলাম তাজিন। হয়তো আরো কিছুকাল ভালো থাকবো পৃথিবীতে। কিন্তু তুমি কেন পেছনে ফেলে চলে গেলে আমাকে?

শুনলাম, আজ সকালে ঘুম ভেঙ্গে অসুস্থ বোধ করেছিলো তাজিন। তারপর শ্বাসকষ্টজনিজ অসুখের(অ্যাজমা) জন্য নেবুলাইজ করাতে গিয়েছিলেন রাজধানীর উত্তরার শিন শিন হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে ফিরেও আবার শরীরের অবস্থার অবনতি ঘটলে দুপুরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের আর কিছুই করার ছিলো না। তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে তাজিন আহমেদ।মৃত্যু এসে মুছে দেয় তার সেই মিষ্টি হাসিটুকু। বিদায় তাজিন, তুমি ভালো থেকো।

টেলিভিশন ও মঞ্চ নাটকে সুপরিচিত এই অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে মিডিয়ার কলাকুশলীদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। তাকে শেষবার দেখার জন্য তার বহুদিনের সহকর্মীরা ভীড় করেন হাসপাতালে।

অসংখ্য টেলিভিশন নাটকের মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছে তাজিন আহমেদ।তার অভিনয় দীর্ঘ সময় ধরে তার ভক্ত ও দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। তাজিন জড়িত ছিলো মঞ্চ নাটকের সঙ্গে। টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেছে।

একদা বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজ ও প্রথম আলোয় ফিচার বিভাগে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছে তাজিন।

মৃত্যুকালে মা ও স্বামী রেখে গেছে এই অভিনয় শিল্পী। তাজিন আহমেদকে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে সমাহিত করা হবে বলে অভিনেতা শিল্পী সংঘ সূত্রে জানা গেছে।

আবিদা নাসরীন কলি

ছবিঃ প্রাণের বাংলা