পল্টা উল্টো বেঁচে থাকারা…

মৃত্তিকা মৃত্যুঞ্জয় ব্যানার্জী

ছাদে কাপড় মেলতে যায় মেয়েটা ভালোবেসে…যত্ন করে শায়ার নীচে ব্রা মেলে দেয় আর কুর্তির নীচে প্যান্টি…শখ করে দাম দিয়ে বেছে বেছে পছন্দের রঙের দু’টুকরো লজ্জাবস্ত্র কেনার সামর্থ্য রয়েছে তার,কিন্তু মেলে দেওয়ার নয় …যদি লোকে ভেবে নেয়, টুকরো দু’টোতে ঢাকা তার শরীরের মাপ, যদি তা সোজাসুজি রক্তস্রোত দ্রুত করে!!!যদি তার নগ্ন অবয়ব কল্পনায়, শক্ত হয়ে ওঠে পৌরুষ!!! সে ভারী অনাচার!!!!….তার লজ্জা পাহারা দেয় একই দড়িতে খুল্লম খুল্লা উড়তে থাকা জকির জাঙ্গিয়া….Next to being naked!!!….

তারপর একদিন ডানা মেলে দেয় অন্তর্বাস… পতপত করে হাওয়ায় ওড়ে মধ্যবিত্ত বাপের মেয়ের শপিং মল থেকে কিনে আনা ব্র্যান্ডেড টু পিস…বাপ মায়ের শিক্ষে নেই বলেই তো চরিত্রহীন এই মেয়ে….. লজ্জাশীলা, ব্রীড়াবনতা বধুরূপখানি তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত হয় সমাজ…প্যাট্রিয়ার্কিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে হাওয়ায় ওড়ে লজ্জাবস্ত্র…দুঃসাহসে মাঝে মাঝে স্পর্শ করে ফেলে সামনে মেলে থাকা গুরুজনের অহংকার!!!…তারপর একদিন দৈত্যরাজ এসে ভার্ডিক্ট দেয় ,”এই মেয়ে চরিত্রহীন,বেআব্রু….পরপুরুষের চোখের সামনে অন্তর্বাস মেলে দেয়….এ সমাজের লজ্জা!!!”…স্তাবকরা চেঁচিয়ে উঠে বুড়ো বাপকে তর্জনী উঁচিয়ে শাসন করে,”বুড়ো, এই তোর শিক্ষা!!!”….তবু,পরদিন ভোর হয়, আলো ফোটে,সংসার চলে….

“স্ত্রৈণ” ,”মেরুদন্ডহীন” তার সঙ্গী ভাত কাপড়ে বাঁধ সাধে বৌভাতের পবিত্র সকালে…গুরুজনদের সামনে বেশরমের মতন কেটে কেটে উচ্চারণ করে,”ওর স্যালারি বেশি, আমি ওর দায়িত্ব নেওয়ার কে??”….”ইম্ম্যাচিওর ছোট্ট ছেলেটা” যত্ন করে পাট করে শুকনো সালোয়ার কামিজ, ছাদে উঠে নিংড়ে নিংড়ে যত্ন করে মেলে দেয় লাল শায়া…উষ্ণ রক্তস্রোতের দিনে হাতের জিনিস মাটিতে পড়ে গেলে তুলে দেয় হাসিমুখে….

তিনহাজার স্কোয়্যারফুটের বাড়ির কোথাও ইউজড স্যানিটারি ন্যাপকিন ফেলার জায়গা না থাকায়, “বোকা” ,”বৌ এর কথায় ওঠ বোস করা” ছেলেটা মনে করে বৌ এর ওয়াশরুমের কোণায় ডিসপোজাল বিন এর কালো প্যাকেট মিউনিসিপ্যালিটির গাড়িতে ফেলে দেয় হাতে করে…নিত্যদিন টিফিন ঢুকিয়ে দেয় ব্যাগে,জলের বোতল দেয়…পার্সে টাকা পয়সা ঢুকিয়ে দেয়….ভুলোমনা বৌ, তাই….তারপর বেরিয়ে যাবার আগে কাউকে তোয়াক্কা না করেই বলে ওঠে,”সাবধানে যাস, দেখেশুনে রাস্তা পেরোস…নিজের খেয়াল রাখিস না,আনমনা বড্ড তুই”, তারপর নির্লজ্জের মতোন কপালে এঁকে দেয় অযৌন স্নেহচুম্বন, শুভকামনা যা গুড এঞ্জেলের মতন লেপ্টে থাকে শরীরে,সারা দিনমান, ভালোবাসার রক্ষাকবচ হয়ে …চারপাশ বলে,”কপাল করে বর পেয়েছিস!!!”….ফিসফিস বলে,”নাচায় পুরো!!!”….

তারপর সকালে উঠে নতুন দিন শুরু হয় রোজ…বর ওয়াশরুম থেকে এসে মর্ণিং ওয়াকের জন্যে রেডি হয়…বৌ তখন চুল বাঁধে, ব্রাশ করে…তারপর জুতো বের করতে গিয়ে দেখে,বরের জুতো পরা সারা আর চেয়ারের সামনে শ্যু rack থেকে বের করে এনে যত্ন করে রাখা বৌ এর জুতো জোড়া,সঙ্গে মোজা…তারপর “স্ত্রৈণ” বর আর “বর নাচানো” “চরিত্রহীন” মেয়েছেলের সংসারে আঁকা হতে থাকে ভালোবাসার নিখুঁত আলপনা…..

ওরা ভালো থাকে, ভালোবেসে থাকে….বুড়ো বাপ দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করে…মেয়ে নতজানু হয় , বাপ আব্রু শেখায়নি, কিন্তু ভালোবাসার পাঠ শিখিয়েছে মেয়েকে যত্ন করে….সাধারণ মেয়ে যে তা ভাঙিয়েই খায়!!!…বেআব্রু সমাজে সেই শিক্ষাই শ্বাস নিতে শেখাক প্রতিটা মানুষকে!!

ছবি:গুগল