বাগচী বাড়ি…

পরিমল মজুমদার

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

নিখিলের গলাটা শেষের দিকে ধরে আসলো। সেল ফোনের ওপারে আমি ওর মুখটা যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি- ও কাঁদছে।
ওর বাড়িটা আর ওকে নিয়ে কত স্মৃতি আমার। সেগুলো একের পর এক বলে যাচ্ছে ও। দাঁড়িয়া বান্ধা, হা-ডুডু, লুকোচুরি খেলা। পারভীন, লাভলী, সুজা, বাকি, বাবলুসহ ছোট বড় সবাই মিলে এই বাড়ির উঠোনে- খুলিতে কত খেলেছি।

জলপাই চুরি করে পাড়তে গিয়ে অঞ্জলী পিসি’র কত যে বকা খেয়েছি। পীতরাজ গাছ থেকে ওদের পুকুরটায় কতদিন লাফিয়ে পড়ে গোসল করেছি। ভাঙ্গা কাঁচ দিয়ে একদিন নিখিলের পা কাটা গেল। ভয়ে কয়েকদিন খেলা বন্ধ রেখেছিলাম।

ওদের একটা আমের গাছ ছিল। সেটাতে বড় আকৃতির আম ধরতো, খুব মিষ্টি। কিন্তু ভেতরে পোকা ধরা। আমরা খেতে পারতাম না।
খনার বচন মতে ছিল বাড়িটা, সুন্দর ছবির মত।

সেই বাড়িতে উনিশ শ’ একাত্তরে দেখেছি, ছাত্তার নামে পরিচিত একজন ঘর থেকে ধান, কাঁসা পেতলের বাসন-কোসন লুট করে নিয়ে গেলো।
তখন আমি, সুজা,নিখিল তীর-ধনুক তৈরি করে পাক সেনা মারার নানান প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম- ওদের বড় পীতরাজের গাছটায় চড়ে।

মধ্যবিত্তের পরিবারে দ্রুত বানের জল ঢুকে পড়ে। ওরা বাড়িটা বিক্রি করে দিচ্ছে সবাই মিলে। ‌বড় অংশ বি‌ক্রি শেষ, এখন প্র‌ক্রিয়া চল‌ছে বা‌কিটুকু বি‌ক্রির।
পুরোনো আদল ভেঙ্গে নতুন মালিকরা দালান তুলছে। ইট-খোয়া আর বালি দিয়ে ক্ষত বিক্ষত অবস্থা প্রিয় বাড়িটার।

একদিন হয়তো হারিয়ে যাবে সবার কাছ থেকে, আমাদের পাড়ার বাগচী বাড়ি। কেউ কোনদিন জানবে না, এই বাড়ির প্রতিটি ধূলোকনায় লুকিয়ে আছে আমাদের শৈশব-কৈশোর আর তারণ্যের উচ্ছল দিনগুলো।

ছবি: লেখক