স্বর্গীয় হাসি …..

শিলা চৌধুরী

(কলকাতা থেকে): মাঝে মাঝেই ভালো না লাগলে বিমানবন্দর এক নম্বর তিন রাস্তার মোড়ে যাই ।তিন রাস্তার মোড়ে বুড়ো বট গাছটার সামনে রকে বসে থাকি ।সামনে একটা মাজার,পাশে মন্দির, স্কুল, গুরু দুয়ারা সহ নানা দোকান, রেস্তোরাঁ আর বিমানবন্দর তো আছেই।একটা রাস্তা মধ্যমগ্রামের দিকে গিয়েছে ,একটা ভিআইপি রোডের দিকে ।নাগের বাজার মুখো যশোর রোড বাকিটা …।আমার মনে হয় সব শ্রেণীর মানুষের যাতায়াতের সান্নিধ্য যদি পেতে হয় তো এর চেয়ে  মোক্ষম যায়গা নেই ।সারা দিন খেটে খাওয়া মানুষের যেমন যাতায়াত তেমনি বিমান থেকে নেমে আসা বা বিমান ধরার জন্যে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে যাওয়া মানুষের মুখ দেখতে পাওয়া যায় ।মাজারে আসা মনস্কামনা লাভের মুখ গুলো ও বেশির ভাগই মনমরা থাকে তাও দেখে বুঝা যায় সংসারের চিত্র ।প্রায়ই ছুটে যায় অতিথি সমেত বাংলাদেশ থেকে আসা যাওয়ার গাড়ি গুলো. …উৎসুক চোখের চাওনি গাড়ির ভেতর থেকে ।নানা ধর্ম বর্ণের নির্বিশেষে ছুটে চলা পা।মাঝে মাঝেই যাই বলে ওখানকার ট্রাফিক পুলিশ, কমিউনিটি পুলিশদের সঙ্গে বেশ চেনা হয়ে গিয়েছি…তাই ওদের অবসর মুহূর্তে জমিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও চলে প্রায়শই ।পাশেই কিছু সারমেয়রও প্রিয় হয়ে গিয়েছি….।কুঁইকুঁই করে ছুটে আসে দু চারটা বিস্কুট খেতে ।পানের দোকানী কিছু সময় পর পর ডেকে যাবেন. ..দিদি আপনার ঝাল ছাড়া পান তৈরী…..। বুড়ো বট গাছটার নিচে পঞ্চাশোর্ধ একজন প্রতিবন্ধী একটা প্লাটিকের বস্তা পেতে সামনে থালা নিয়ে চুপচাপ বসে থাকে ভিক্ষার আশায়. ….।মাঝে মাঝেই সেখান থেকে ঝন ঝনাৎ শব্দ কানে আসে. …। তাকিয়ে দেখি ওনার মুখাবয়ব …..। মাঝে মাঝে কেউ কেউ কিছু খাবার ও দিয়ে যায়. ….চা ও…।পাশেই পেট্রোল পাম্প. …।আজ বিকেলে একটা সাদা রঙের গাড়ি থেকে একটা পরিবার সম্ভবত নেমে বেশ কিছু সময় ওখানে পাশেই নেমে দাঁড়িয়েছিলো ।হঠাৎই ওই পরিবারের কর্তাবাবু ভিখারী দাদুর পাশে এগিয়ে এলেন ।পকেট থেকে একশো টাকার একটা নোট বের করে দাদুর খানিকটা থেবরানো থালায় দিলেন।সম্ভবত দাদু অন্যমনস্ক ছিলেন. …। চমকে তাকালেন থালার কাগজের টুকরোর দিকে. .!! তড়িঘড়ি করে থালার সব কটা পয়সা গুনতে শুরু করলেন…দু তিন বার গুনলেন ।তারপর ওনার সবকটা পকেট হাতড়ে যা ছিল সামান্য কিছু পয়সা, টাকা বের করে সব শুদ্ধ গুনে পাশেই উল্টো মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা ওই ভদ্রলোকের হাতটা টেনে পুঁটুলি শুদ্ধ টাকা ওনাকে দিতে দিতে বললেন. ..বাবু – আটাত্তর টাকা আছে এখানে. ….! ভদ্রলোকটি বল্লেন – আমি তো তোমাকে পুরো টাকাটাই দিয়েছি…. ফেরত চাইনি তো..!!! সঙ্গে সঙ্গে তাকালাম দাদুর মুখের দিকে. …. ফোকলা হলদেটে দাঁতের যে এক গাল কিংকর্তব্য ভর্তি হাসি দিলেন দাদু ওই একশো টাকাটা বারবার উল্টে পাল্টে তা দেখে মনে হলো দরকার নেই আমার আইফেল টাওয়ার কিংবা নায়াগ্রা জলপ্রপাত দেখার . …!!!