বেড়ানোয় বারান্দারা বড়ো জ্বালাতন করে আমায়

সুব্রত গোস্বামী

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

বলেছিলাম না, মন চাইছে তিনদিন এই বারান্দাটায় বসেই কাটিয়ে দিই। ব্যাপারস্যাপার ঠিক সে’দিকেই গড়াচ্ছে। কোত্থাও যেতে ইচ্ছে করছে না। মেঘগুলো মাঝেমাঝে সেকেণ্ড বিশেকের জন্য সরে যাচ্ছে। আর তখনই নীচে তিস্তা দেখা যাচ্ছে। য়েশ উধাস সেই কবে গেয়েছিলেন “তিস্তা নদী সে তু চঞ্চলা”। তিস্তা আজ আর চঞ্চলতার উদাহরণ নেই। কোথায় কারা যেন বাঁধটাধ দিয়ে নদীটাকে গোমড়ামুখো করে দিয়েছে।

যদি সব মেঘ, সব কুয়াশা সরে যায় তবে দূঊঊরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যেতে পারে। দেখতে পেলে ভালো লাগতো বটে তবে না দেখে যে মন খারাপ হয়ে আছে তেমনটাও নয়। নীচে এককুচি একটা গ্রাম দেখা যাচ্ছে। শ্রীশে না শ্রীগাঁও কী যেন একটা নাম বলেছিল আগেরবারের হোমস্টের লোকটা। সে নাম যাই হোক, ওই গ্রামটায় গেলে বেশ হতো। তবে এই বারান্দাটা ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। ঘণ্টাখানেক হেঁটে গেলে জলসাবাংলো, সেখানেও যেতে ইচ্ছে করছে না।

আসলে বারান্দা আমার বড় প্রিয়। আমাদের বাড়ির ফ্ল্যাটের লিলিপুটিয়ো বারান্দা থেকে শুধু অন্য আরেকটা ফ্ল্যাট দেখা যায় মাত্র। শুভ্রনীলদাকে একবার হিংসে করে বলেছিলাম, “তুমি বারান্দাদু’টো কিনেছো, সঙ্গে তোমায় ফ্ল্যাটটা বিনিপয়সায় দিয়েছে”। আমার হাহুতাশে ওদের একটা বারান্দার সামনে আরেকটা ছ’তলা বাড়ি তৈরি হয়ে গেছে। তবে পূবের বারান্দাটার সামনে পুকুর আছে। ওটা কোনওদিনও বন্ধ হবে না।

গেল সেপ্টেম্বরে ঋষিকোণ্ডার হারিথা বিচ রিসর্টের বারান্দায় বসে মাঝরাত অবধি চাঁদটার দিকে তাকিয়েছিলাম। আর রূপোর থালার মত চাঁদটাও সারারাত সুমুদ্রের বুকে তাকিয়ে যেন আয়না দেখে সাজগোজ করছিল। আমার বেড়ানোয় বারান্দারা যেন আমায় জ্বালাতন করেই গেছে। উঠতেই দিতে চায়না।

যেমন পুরীর লিও-কাস্ল্। ওই বারান্দাটাও তেমন। এখন তো তাও ওইদিকটা লোকজন যায়। আগে একদম ফাঁকাই থাকতো। দশবারো বছর আগেও। বারান্দায় বসে ভোরের সূর্য, সার দেওয়া ফিরতি পথের মেছো নৌকো, একটাই চায়ের দোকানের খোলা বন্ধ, গুটিকয় বিদেশীর সানবাথ, দুপুরের খা খা করা সৈকত, বিকেলের সোনালী আভা মাখা বালুকারাশি থেকে রাতের চাঁদমাখা ফেনিল ঢেউ। সবকিছু ওই বারান্দায় বসে দেখেছি আমি।

ভাবছি একটা জমি কিনে এবার একটা বারান্দা বানাব। যার সাথে লাগোয়া দু’কামরা একটা বাড়ি থাকবে। ঠিক শুভ্রনীলদাদের মত।

ছবি: লেখক