রুশ গুপ্তচর ছিলেন হেমিংওয়ে

লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, সৈনিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে। এই মার্কিন উপন্যাসিকের এমন পরিচয় জানে দুনিয়াজোড়া মানুষ। কিন্তু গুপ্তচর হেমিংওয়ে? চমকে ওঠার মতোই খবর। চমকের ধাক্কা বাড়িয়ে দিতে যুক্ত হয় আরেকটি তথ্য, হেমিংওয়ে ছিলেন রুশ গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি‘র গুপ্তচর।
হেমিংওয়ের স্পাই হওয়ার ইতিহাস বলা যায় খনন করে বের করেছেন আমেরিকার ইতিহাসবিদ নিকোলাস রেইনল্ডস। নিকোলাস সাহেবের আবার সেনাবাহিনী এবং যুদ্ধ বিষয়ক ইতিহাসে আগ্রহ বেশী। ২০১০ সালে তিনি আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সি.আই.এ‘র জাদুঘরে যান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের কর্মক্ষেত্র ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টা বোঝার জন্য। আর সেখানেই তিনি আবিষ্কার করেন কেজিবি‘র সঙ্গে হেমিংওয়ের যোগাযোগ।
তথ্যের সূত্র পাওয়ার পরই ইতিহাসবিদ কাজে নেমে পড়েন। অনেক খোঁজবরের পর তিনি কেজিবি‘র সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার একটা সূত্র খুঁজে পান।মূলত হেমিংওয়ের চিঠিপত্র বিনিময়, সেখানে রুশ সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে তার ভাবনা এবং রুশ জেনারেলদের সঙ্গে তাঁর সখ্য-এই বিষয়গুলিই নিকোলাস রেইনল্ডস‘র গবেষণাকে তথ্য জুগিয়েছে। হেমিংওয়ে নিজে অবশ্য তার এই গুপ্তচরবৃত্তির কথা প্রকাশ্যে কোনোদিন বলেননি। লেখেননি একটি লাইন। নিকোলাস রেইনল্ডস তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, হেমিংওয়ে আসলে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি দূর্বল ছিলেন। মানুষের মুক্তির সংগ্রামে বিশ্বাস করতেন। সম্ভবত সে কারণেই জীবনের একটা সময়ে তিনি জড়িয়ে গিয়েছিলেন সোভিয়েত গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে। তবে তাদের হয়ে আমেরিকার কোনো গোপন তথ্য পাচার করার কোনো প্রমাণ তিনি খুঁজে পাননি।
কথা সাহিত্যিক হেমিংয়ের জীবন ছিলো বিচিত্র। লেখা ছাড়াও গভীর মনযোগের সঙ্গে তিনি সাংবাদিকতা করেছেন।সৈনিক হিসেবে অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। রিপোর্টার হিসেবে স্পেনে গৃহযুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গিয়ে মার্থা গেলহর্ন নামে এক মহিলার প্রেমেও পড়েন। তারপর নিজের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে বিয়ে করে ফেলেন মার্থাকে। সেটা ছিলো তাঁর তৃতীয় বিয়ে। বিয়ের পর হেমিংওয়ে চলে যান কিউবায়। সেখানেই লম্বা সময় বসবাস করেন তিনি। তখন তার বন্ধু ছিলো সমুদ্রের জেলেরা। মাছ ধরা আর শিকারেরে নেশায় ডুবে গিয়েছিলেন তিনি। লিখেছিলেন ‘ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ উপন্যাসটি। ১৯৫৭ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
শেষ জীবনে ১৯৬১ সালে অসুস্থ অবস্থায় নিজের প্রিয় শটগান মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করে আত্নহত্যা করেন।

 প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমস
ছবিঃ গুগল