পানি, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও স্বাস্থ্য বানিজ্য

কৃষ্ণকলি ইসলাম

যে কোন বানিজ্য বিষয়ে আমার কৌতূহল ও সন্দেহ দুটোই তীব্র। কারন তার সাথে আমাদের পরিশ্রমের রোজগার, জীবন যাপন, স্বাস্থ্য, রাষ্ট্র, সম্মান সহ নানা দিক নানাবিধ ভাবে জড়িত। বিশেষ ভাবে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পণ্যের ক্ষেত্রে এ ভঙ্গি আরো তীব্র হয়। যাপিত জীবনে সাধারন মানুষ হিসেবে কতটা জিম্মি হলাম সেটা জেনে বুঝেই বাঁচতে চাই। আমার শরীর আমার এখতিয়ারে কতখানি আর কোম্পানির হাতে কতখানি তা নিশ্চয়ই জানার অধিকার আছে। এতক্ষণ ফেনা তোলার কারন হল, খুঁতখুঁতে মন খালি বলছিল, “পিউরিট, কেন্ট, etc” (পানি পরিশোধক) এমন কিছু থাকবে যাতে দীর্ঘ ব্যাবহারের পর এমন একটা রোগ হবে, তখন ওই কোম্পানির বানানো ওষুধ খেয়েই আবার তা সারাতে হবে। ইতিহাসে এ ঘটনা অনেকবার পেয়েছি আমরা। এরকম এক দু কথায় ICDDRB তে গবেষণায় নিযুক্ত নৃ ত্বত্তের ছাত্রী ফারহানা সুলতানার সঙ্গে আলাপকালে ও আমার সন্দেহকে দারুন এক বিবেচনায় নিয়ে গেল।

যদিও আমি এ বিবেচনাতেই জীবন যাপনের পদ্ধতির যে ধারাবাহিকতা ছিল, সেটাই বারবার ফিরে দেখি। আমি প্রায়শই সকলকে বলি, এত আল্লাহ, ভগবান মানো, কই সর্ষের তেলের বেলা মানো নাতো। আয়ুর্বেদ বলে, পৃথিবীর স্ব স্ব অঞ্চলের মানুষের স্ব স্ব খাদ্যরীতি ও উপাদান দেওয়া আছে আর তার থেকেই রোগ নিরাময়ের নিয়ামকও পাওয়া যায়। আমি উৎসাহ দিয়েই চলেছি। ডাঃ কবীর নামে এক অসাধারন মানুষকে মনে পড়ল, তিনি ঝাঁ চকচকে এলোপ্যাথির সর্বচ্চো ডিগ্রী ফেলে দেবার কারণ বলেছিলেন “এলোপ্যাথি হোলো একটা বিজনেস সাইকেল। রোগ, পরীক্ষা, ওষুধ, পার্শপ্রতিক্রিয়া, তাতে নতুন রোগ আবার পরীক্ষা, আবার পুনরাবৃত্তি কিন্তু এবার তা হবে দিগুন”।

যাহোক, যে বিষয়গুলো সেদিনের আলোচনায় উঠে এলো, তার বিশেষ কিছু দিক হল, পানি ও স্যানিটারি ন্যাপকিন। যে বিষয়ে সিরিয়াসলি, নিজের অনুভুতি নিয়েই প্রশ্ন তুলি। পিউরিট, কেন্ট এবং এরকম আরো নানান পপুলার পিওরিফিকেশন স্যলুশন, আমার সন্দেহ জানাতেই ফারহানা আমাকে জানালো, এধরনের যত পানি পরিশোধক আছে, তার সবেতেই ক্লোরিন থাকে, যা দীর্ঘদিন পানে মানুষের নানাবিধ অসুখ হতে পারে। খুঁজতেই দেখি গুগোল কাকার বিশাল খবর, কত তার প্রতিক্রিয়া।http://www.filterwater.com/t-articles.harmfuleffectsofchlor…। এক সময় বলা হত, বৃষ্টির পানি পান যোগ্য, কিন্তু পরে দেখা গেল, তাতে পানির ম্যানেসিয়াম আর ক্যালসিয়াম থাকে না, যা শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে উপায়? ও জানালো, চুলোয় পানি তুলে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত জোর জ্বালে রেখে সেটা পান করাই হবে সবচেয়ে শ্রেয়। মানে সেই পুরানো পদ্ধতি।

এবার ভয়াবহ এক বার্তা, বাজারে আমরা যে স্যানিটারি ন্যাপকিন গুলো পাই, তার প্রিতিটি উপাদান মাটির সঙ্গে মিশতে দুইশ বছর সময় নেয়। কারন এতে বিশেষ কিছু কেমিকেল থাকে যার কারনে অধিক সময় রক্ত শোষণ করতে পারে এবং ওই উপাদান সমূহও নারীর এই সংবেদনশীল অঙ্গের জন্য ক্ষতিকর।যদিও চার ঘন্টার পর রক্ত ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত হয়, এই ব্যাকটেরিয়া আবার জরায়ুতেই প্রবেশ করে, এর ফলে জরায়ু সংক্রান্ত নানা রোগে নারীকে ভুগতে হয়। অধিক শোষণের সুবিধে পাওয়ায় আমরা কেউই চার ঘণ্টা পরপর সেটা বদলাই না। এক্ষেত্রে সুতির নরম কাপড়ের প্যাড ব্যাবহার শরীরের জন্য উপযুক্ত। তথাকথিত ধনী দেশগুলোতে পুরোপুরি সুতির প্যাড চলে। চার ঘন্টা পরপর কাপড়ের প্যাড কি করব? আপনার পোষালে ফেলে দেবেন, নতুবা পরিস্কার করে সাবান, গরম পানি দিয়ে ধুয়ে, শুকিয়ে ব্যাবহার করবেন। ট্যাবু ভাঙতে হলে মাসিকের কাপড় শুকানোর দৃশ্যের সাথে সহজ হতে হবে। কোম্পানির হাইজিন কনসেপ্টের সাথে একমত হয়ে মাটি ও নিজের যৌনাঙ্গের তথা নারী শরীরের ক্ষতি করা কোন কারনেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কথা বললে স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিরুদ্ধেও বলা উচিৎ।

বানিজ্য মানবিক হলে পৃথিবী মানবিক হতো, মুনাফার লক্ষ্যে মানুষ, প্রকৃতি সকলই ক্ষতিগ্রস্থ। নিজেকে পণ্যের হাতে বন্দী করে ফেলেছি কি?

ছবি: গুগল