পর্দায় ফিরছে আবার গুপী-বাঘা

পর্দায় আবার ফিরবে সত্যজিৎ রায় নির্মিত সেই ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর গল্প থেকে নির্মিত সেই অসাধারণ সিনেমাটি ২০১৯ সালে পঞ্চাশ বছরে পা রাখবে। আর তাই ট্রিবিউট হিসেবে পর্দায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে অনন্য জুটি গুপী আর বাঘাকে। এমন উদ্যোগ নিয়েছেন কলকাতার অরিজিৎ দত্ত, অগ্নিবেশ দত্ত এবং পূর্ণিমা দত্ত। তাদেরই প্রযোজনা সংস্থা পূর্ণিমা পিকচার্সের ব্যানারে তখন তৈরি হয়েছিল ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’।
উপেন্দ্রকিশোর রায় আর সত্যজিৎ রায়ের সেই নস্ট্যালজিয়াকে ফিরে দেখার এই পর্বে অবশ্য নতুন করে গল্প লেখা হচ্ছে। লিখছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত চন্দ্রবিন্দু ব্যান্ডের গায়ক ও চলচ্চিত্র পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। পরিচালনাতেও তিনিই আছেন। কালজয়ী ছবিকে পর্দায় অন্য ভাবে ফিরিয়ে আনাটা বেশ ঝুঁকির কাজ এরকমটা মে

নে নিয়েই অনিন্দ্য জানিয়েছেন, ‘তুলনা না করে এই ছবিটাকে শ্রদ্ধার্ঘ্য বলা যেতে পারে।’ ছবির গল্প, প্রেক্ষাপট নিয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে রাজি নন পরিচালক। ‘সব কিছু একদম প্রাথমিক পর্যায়ে। বলার মতো কিছু নেই।’ বক্তব্য অনিন্দ্যর। তবে জানা গিয়েছে, নতুন গুপী-বাঘা তৈরি হবে সমকালীন প্রেক্ষাপটেই। অভিনয়ে কারা থাকবেন, তা এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

ছবির জন্য নতুন করে গল্প লেখা এবং নতুন ছবির প্রযোজনার দায়িত্বে প্রিয়া এন্টারটেনমেন্টের কর্ণধার অরিজিৎ দত্ত‘র পুত্র অগ্নিবেশ দত্ত জানিয়েছেন, এই ছবি দিয়ে তাঁরা নতুন ইনিংস শুরু করছেন। ভবিষ্যতে আরও অনেক ছবির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর এই সময়েই ছবিটি মুক্তি পেতে পারে। ১৯৬৯ সালের ৮ মে মুক্তি পেয়েছিল সত্যজিৎ নির্দেশিত ছবি। সেই ছবির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রযোজক পূর্ণিমা দত্তও যেন পেছনে ফিরে গেলেন। তিনি বললেন, ‘আমাদের কাছে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ একটা ফেনোমেনন। ছোটদের ছবি হিসেবে এটাকে দেখা হলেও, আসলে তো তা নয়। কত রকমের স্তর রয়েছে গল্পের মধ্যে। ছবির পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে এটা আমাদের ট্রিবিউট বলতে পারেন।’
প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন সত্যজিতের পিতামহ। তিনিই এই নামে রূপকথার গল্পটি রচনা করেন। সত্যজিৎ-পত্নী বিজয়া রায়ের স্মৃতিচারণা ‘আমাদের কথা’ থেকে জানা যায়, তাদের একমাত্র ছেলে সন্দীপ রায়ের অনুরোধেই সত্যজিৎ রায় এই ছবিটি নির্মাণ করেন। সত্যজিৎ রায় তাঁর অন্য সিনেমার মতো এখানেও চিত্রনাট্য রচনা ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। শুধু তাই নয়, এই ছবির সবকটি গান রচনা ও সুরারোপ তাঁরই করা।সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর দেশে ও বিদেশে ছয়টি পুরস্কার পায়।

বিনোদন ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
ছবিঃ গুগল