স্বজনহীন পরিবেশে ঈদ…

স্মৃতি সাহা

দোরগোড়ায় ঈদ। সন্ধ্যে রাতের এক ফালি ঈদের চাঁদ নিয়ে আসে এক অনাবিল আনন্দের বার্তা আর স্রোতধারা। ঈদের দিনের আনন্দ ছুঁয়ে যায় সবাইকে। আর সেই আনন্দে সামিল হতে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাঙালীরাও নিতে শুরু করেছে প্রস্তুতি। গ্রোসারী থেকে কাপড়ের দোকান সব জায়গাতেই শুরু হয়ে গেছে ঈদ সেল। বাঙালী অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস্, জ্যামাইকা উইকএন্ডে ভরে ওঠছে ইদের কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষদের ভিড়ে। কিন্তু মাত্র এক দশক পূর্বেও নিউইয়র্কের ঈদের এমন প্রস্তুতি বা ঈদের দিনের চেহারাটা এমন ছিল না। তখন ঈদের দিন হতো আর পাঁচটা দিনের মতোই স্বাভাবিক। ঈদের দিনটি নিয়ম করে আসতো ঠিকই তবে উদযাপিত হবার আগেই তা ফিরে যেত কর্মব্যস্ত এই শহরের মানুষগুলোকে ফাঁকি দিয়ে।

তাই ওয়ার্কিং ডে তে ঈদ হলে ঘরেও হয়তো ভালমন্দ রান্নার ফুরসত হতো না অনেকের। সারাদিন পর কর্মক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে অনেকেই শুধু দেশে আত্মীয়দের ফোন করেই ঈদের আনন্দটুকু অনুভব করার চেষ্টা করতো। আর ঈদের পর কোন উইকএন্ডে কয়েকটি বন্ধু পরিবার এক হয়ে ঈদের আমেজ উপভোগ করতো। তবুও দিনশেষে সেই দেশের ঈদ আর তার আনন্দের স্মৃতিই মনের গহীনে নাড়া দিতে থাকতো। তবে এই ক’বছরে আটলান্টিক পাড়ের এই শহরে পরিবর্তন এসেছে অনেক। এখন ঈদের আমেজ এই শহরে সপ্তাহ খানেক আগেই এসে যায়। বাঙালী অধ্যুষিত এলাকাগুলো সেজে ওঠে নানারকম আলোতে। আকাশে ইদের চাঁদ দেখা গেলেই দলে দলে সবাই ভিড় জমায় জ্যাকসন হাইটস বা জ্যামাইকাতে মেহেদি পড়তে। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত এসব এলাকা কোলাহল মুখর হয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের পদচারণায়।

গত দু’বছর হলো এখানকার পাবলিক স্কুলগুলো ঈদের দিন বন্ধ থাকে। তাই ঈদের সকালে নানারঙের নতুন জামা আর টুপি পড়ে বাবা-মা’র হাত ধরে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা মসজিদের পথ ধরে ঈদ জামাতের অংশ নিতে। আর মসজিদ গুলোর সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় অসংখ্য মানুষের অংশগ্রহণে হওয়া ঈদ জামাতের জন্য। সেখানে নিরাপত্তার জন্য থাকে পুলিশ পাহারা। সকলেই যেন নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে পারে ।থাকে সবরকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সত্যিকার অর্থেই ঈদ এখন আনন্দের ফোয়ারা নিয়ে হাজির হয় নিউইয়র্ক প্রবাসীদের ঘরে ঘরে। স্বজনহীন এই দেশে আমরা সকলেই একে অন্যের স্বজন। তাই ঈদ যেন এখানে আক্ষরিক ভাবেই সার্বজনীন হয়ে ওঠে। আর ঈদের দিনে নিউইয়র্ক যেন হয়ে ওঠে সমগ্র বাংলাদেশের ঈদের প্রতিচ্ছ