পেনাল্টিটা ফেরালো মেসিকে

আহসান শামীমঃ বিশ্বকাপে নবীন আইসল্যান্ডের অভিষেকটা হলো স্বপ্নের মতো। আর আর্জেন্টিনার জন্য আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটা হয়ে রইলো দুঃস্বপ্ন। ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি এই দেশটি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলো পয়েন্ট ভাগাভাগি করে। খেলার ৬৪ মিনিটে বিপক্ষের পেনাল্টি স্পটে মেসি যখন বল বসাচ্ছিলেন তখন কি একবারের জন্য ভেবেছিলেন নিশ্চিত গোলটা ফসকে যাবে? আইসল্যান্ডের গোলরক্ষকের দীর্ঘ শরীর দুর্ভাগ্য হয়ে দাঁড়াবে তার সামনে? নিশ্চই নয়। তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি গোল করতে না পারার আনন্দটা রইলো আইসল্যান্ডের জন্য আর কষ্টটা  জমা পড়লো চে গুয়েভার জন্মভূমির ঝুলিতে। আর্জেন্টিনা আর আইসল্যান্ডের খেলা ১-১ গোলে ড্র। গতকালের খেলায় এই সমতা হৃদয় ভাঙ্গার মত যন্ত্রণা দিয়েছে মেসি ভক্ত বাঙালিদের মনেও।

লিওনেল মেসি নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘গোলমেশিন’ তকমাটা।আর এই মেসিই যেন এখন হয়ে উঠেছেন পেনাল্টি মিসের প্রতীক। সবশেষ ছয়টা সুযোগের অর্ধেক নষ্ট করার ‘কীর্তি’ ছিল এতোদিন। গতকাল শনিবার বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে পেনাল্টি মিস করে এবার ‘কীর্তিটা’ আরও দৃষ্টিকটূ করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, সাত পেনাল্টির চারটাই মিস। বিশ্বকাপের এই ম্যাচের আগে মেসি ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হন। দু’বছর আগে ২০১৪ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচেও পেনাল্টি মিসের রেকর্ড আছে ফুটবলের এই ‘রেকর্ডের বরপুত্রের’।২০১২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে চেলসির সঙ্গে পেনাল্টি মিস করেছিলেন তৎকালীন কোচ গার্দিওলার প্রধান অস্ত্র মেসি।

এসব কিছু  ছাপিয়ে এবার রাশিয়া বিশ্বকাপের মতো আসরে আইসল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার সুযোগ পেয়েও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত করায় এখন দুয়োধ্বনি শুনতেই হচ্ছে মেসিকে।

মেসি নিজেও স্বীকার করছেন তাঁর ভুলে কথা। নিজের শেষ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি নষ্ট করে ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘আমি ঠান্ডা মাথায় রাগ ও দুঃখ নিয়ে আজ মাঠ ছাড়ছি। কারণ আমি তিন পয়েন্ট নিতে না পারার জন্য দায়ী। আমি জানি ওই পেনাল্টিই সবকিছু বদলে দিয়েছে। ওই মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে না দেওয়ার জন্য আমি অবশ্যই দায় স্বীকার করছি।যদি গোল করতে পারতাম, খেলাটা বদলে যেত। আমরা স্বস্তি ফিরে পেতাম আর প্রতিপক্ষকেও ঝামেলায় ফেলে দিতাম। গোল করার জন্য আমি একটু বেশি অস্থিরতা দেখিয়েছি, এটাই ভুল হয়েছে। অবশ্যই পেনাল্টি হাতছাড়া করা খুব কষ্টের।’

ম্যাচ জিততে না পারার পরও আর্জেন্টিনার জন্য সান্তনা হলো ম্যাচ সেরা হয়েছেন ম্যারাদোনার জামাই সার্জিও এগুয়েরো।দ্বিতীয় পর্বে উঠতে মেসির আর্জেন্টিনাকে ক্রোশিয়া আর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে খেলতে হবে। অনেকেই মনে করছেন অপেক্ষাকৃত দুর্বল গ্রুপে থাকায় মেসির আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় রাউন্ডে উৎরে যাবে। কিন্তু বিশ্বকাপটা অধুরাই থেকে যেতে পারে মেসির জন্য। এটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। আর তাই এই বিশ্বকাপ জয় করতে মেসি ইতিমধ্যেই ঘোষনা দিয়েছেন, বিশ্বকাপের জন্য তিনি তাঁর জীবনে আর্জিত সব পুরুস্কার বিসর্জন দিতে রাজী।