রেকর্ডে রোনালদো

আহসান শামীমঃ এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রথম হ্যাট্রিক।রেকর্ডের খাতায় ৩৩ বছর বয়সী কোনো খেলোয়াড়ের এই প্রথম হ্যাটট্রিক।  আর ফুটবলের বিশ্বযজ্ঞের আসরে স্পেনের বিপেক্ষে কোনো খেলোয়াড়েরও প্রথম হ্যাটট্রিক। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ৫১তম হ্যাটট্রিক। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে রোনালদোরও ৫১তম হ্যাটট্রিক।

শুধুই কি তাই , এদিন ফেরেঙ্ক পুসকাসকেও ছুঁয়েছেন রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর গোল এখন ৮৪। সমান গোল করে ইউরোপে গোলদাতাদের চূড়ায় এতদিন একাই ছিলেন পুসকাস। স্পেনের বিপক্ষে রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচের তকমা পাওয়া লড়াইটা জিততে পারেননি রোনালদো। তবে তার তিন গোলেই সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে পর্তুগাল।

চতুর্থ মিনিটে বক্সের ভেতর রোনালদোকে ফেলে দিয়ছিলেন স্পেনের নাচো, রেফারি বাঁশি বেজে উঠলো পেনাল্টির।স্পট কিকে বারের ডানদিক দিয়ে বল জাল ছুঁতেই দারুণ এক অর্জন হাতের মুঠোয় নিলেন রোনালদো। এর আগে কোনো পর্তুগিজ খেলোয়াড়ই চার বিশ্বকাপে গোল করতে পারেননি। আর ইতিহাসের পরিসংখ্যান,মাত্র তিনজনের রয়েছে বিশ্বকাপের চার আসরে গোল করার কৃতিত্ব।

২০০৬ সালে নিজের খেলা প্রথম বিশ্বকাপে শুরুর বছরে  এক গোল করেছিলেন। ২০১০ বিশ্বকাপেও এক গোল। ২০১৪ বিশ্বকাপে পর্তুগাল যখন গ্রুপ পর্বে ছিটকে যাওয়ার আগে রোনালদোর নামের পাশে ছিল এক গোল। ২০১৮তে ম্যাচের ৪ মিনিটেই প্রথম সাফল্য, এতেই গড়লেন দেশীয় রেকর্ড।প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে নিজের শেষ বিশ্বকাপে রোনালদো নিজেকে নিয়ে গেলেন অন্যরকম উচ্চতায়।

স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচের আগে ৩৪০ মিনিটে খেলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কোন গোলের দেখা পাননি।হয়তবা মনের ভেতর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো লালন করেছিলেন গোল-ক্ষুধাটা। সেটা মেটালেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে। আর রেকর্ড বইয়ে অনেক অর্জন লুটিয়ে পড়ল তার পায়ের জাদুতে।

ছবিঃ ফিফা সংগ্রহ