মহাকাশের আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ শুরু

সাইফ তনয় (টেক ব্লগার)

১৯৫০ এর দশকে এটা কল্পনাও করা যেতো না যে আমরা একসময় মহাকাশে পাড়ি জমাবো। কিন্তু গত কয়েক দশকে আমরা দারুণ সব অগ্রগতি সাধন করেছি। আবিষ্কার করেছি বিজ্ঞানের অজানা বহু তথ্য। পৃথিবীর এক প্রান্তের সঙ্গে আরেক প্রান্তের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। বহু দশক ধরে একের পর এক দেশ মহাকাশে যান পাঠিয়ে আসছে৷ বিশেষ করে পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট পাঠানোর ক্ষেত্রে উৎসাহের অভাব নেই৷ ফলে একটু-একটু করে ভরে যাচ্ছে সেই কক্ষপথ৷ স্যাটেলাইটগুলি মূল্যবান তথ্য পাঠিয়ে চলেছে বিভিন্ন দেশের কনট্রোল রুমে৷ তবে সমস্যা হলো, আয়ু শেষ হয়ে যাবার পর বা অন্য কোনো কারণে বিকল হয়ে যাবার পর স্যাটেলাইট বা অন্যান্য যানের ‘লাশ’ সহ সেগুলির অংশবিশেষ সেই কক্ষপথেই ভাসতে থাকে এবং বাকি চালু স্যাটেলাইট বা মহাকাশযানের জন্য বিপদ বয়ে আনতে পারে৷ কিছু টুকরো হয়তো পৃথিবীর বুকে ধেয়ে যায়, কিন্তু তা সত্ত্বেও আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে পৃথিবীর কক্ষপথ৷

স্পেসের আবর্জনা পরিষ্কার করার সম্ভাব্য সমাধান হিসাবে প্রথম স্যাটেলাইট ছাড়া হলো ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন থেকে ৷ এই স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করবে ৷ এপ্রিল মাসে ফ্লোরিডা থেকে একটি স্পেসএক্স ড্রাগন স্পেসক্রাফ্টে করে লঞ্চ করা হয়েছিল ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই স্যাটেলাইটটিকে ৷

‘RemoveDEBRIS mission’ নামের এই স্যাটেলাইটটি ব্রিটেনে তৈরি করা হয়েছিল ৷ পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা ভয়ঙ্কর স্পেস আবর্জনা পরিষ্কার করার এটাই গোটা বিশ্বে প্রথম প্রচেষ্টা ৷ ১০০ কিলোগ্রামের এই স্পেসক্রাফ্টটি একটি জাল ও একটি হারপুন ব্যবহার করে ভাসতে থাকা স্পেস আবর্জনাকে ধরার চেষ্টা করবে৷ সেই সঙ্গে স্যাটেলাইটটি তার অত্যাধুনিক ক্যামেরা ও ব়্যাডার সিস্টেমেরও পরীক্ষা করবে ৷

একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ, এই গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেরাচ্ছে হাজার হাজার স্পেস আবর্জনা৷ যাদের মধ্যে বেশ কিছু আবর্জনা একটি গতিসম্পন্ন বুলেটের থেকেও বেশি গতিতে ঘুরে বেরাচ্ছে৷ যা মূল্যবান স্যাটেলাইট এমনকী, ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের জন্যও ক্ষতিকারক হয়ে উঠতে পারে৷

পরীক্ষা নিরীক্ষার পর্যায় সম্পূর্ণ হয়ে গেলে স্যাটেলাইটটি একটি পাল খুলে দেবে৷ যা স্যাটেলাইট ও আবর্জনাগুলিকে কক্ষপথ থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করবে এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময়ই পুড়ে যাবে৷ ইউনিভার্সিটি অফ সারের একজন অধ্যাপক গুগলেলমো অ্যাগলট্টিটি বলেন, ‘‘এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফল হলে ভবিষ্যতে ‘RemoveDEBRIS’-এর প্রযুক্তি অন্যান্য মিশনের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে৷’’

‘RemoveDEBRIS mission’ – নেতৃত্ব দিচ্ছে সারে বিশ্ববিদ্যালয়৷ স্যাটেলাইটটি তৈরি করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ছোট স্যাটেলাইট প্রস্তুতকারক সারে স্যাটেলাইট টেকনোলজি লিমিটেড (এসএসটিএল)৷ যার প্রযুক্তি ডিজাইন করেছে এয়ারবাস৷

ছবিঃ গুগল ও তথ্য