ধ্রুবতারাদের দিকে তাকিয়ে না থেকে নতুন তারা খুঁজুন

রুবেল আবুল হাসান

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

রোনালদো আগামী বিশ্বকাপ খেলছে না, এটা প্রায় নিশ্চিত।মেসিও না খেলার সম্ভাবনাই বেশি।সেক্ষেত্রে তাদের কোন বিশ্বকাপ না জিতেই বিদায় নিতে হবে। অনেকের দাবি এজন্যই তাদের গ্রেট বলা যাবে না। বিশ্বকাপ জেতেননি পুসকাস, বেস্ট, ক্রুইফ, গুলিত, বাস্তেন, ডি স্টেফানো, রুমেনিগে, জর্জ উইয়াহ, কাঁতোয়া, ইউসেবিও, প্লাতিনিসহ আরও অনেক গ্রেট খেলোয়াড়। তাদের গ্রেটনেস তাতে বাতিল হয়ে যায়নি।মেসি, রোনালদোও গ্রেট।

কালিয়ান এমবাপ্পের

একজনকে তার অবিশ্বাস্য ড্রিবলিং স্কিল, ফ্লেয়ার, গতি আর অন্যজনকে তার একুরেসি, গতি, আর অসাধারণ শারিরীক ক্ষমতার জন্য ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে। চিরদিন।

কে সর্বকালের সেরা সেই তর্ক চলতেই থাকবে। কিন্তু এই তর্ক অনেকটাই অর্থহীন। কেননা এরা একেক জন একেক সময়ের, স্থানের প্রতিনিধি, আলাদা আলাদা ধরনের সহখেলোয়াড়দের সঙ্গে তারা খেলেছে, আলাদা ধরনের ফুটবল স্টাইল অনুযায়ী খেলেছে।
ফুটবল যে একটা দলীয় খেলা এবং দলের এক একটা অংশের চাইতে তার সামগ্রিক শক্তি যে বেশি হতে পারে, যা ব্যক্তিগত নৈপূণ্যকে ছাপিয়ে যেতে পারে, তার প্রমাণ কাল যারা উরুগুয়ে- পর্তুগাল ম্যাচ দেখেছেন তারা নিশ্চয়ই অনুধাবন করেছেন। আর কাল ফ্রান্স – আর্জেন্টিনার খেলায় দেখা গেছে পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে আবাহনের সময় হয়েছে। ভাবা যায় কালিয়ান এমবাপ্পের বয়স মাত্র ১৯। পেলের পর সেই প্রথম এত কম বয়সী খেলোয়াড় যে বিশ্বকাপের এক খেলায় একাধিক গোল করেছে। অবশ্য পেলে সেটা করেছিলেন ২ বার, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক এবং ফাইনালে সুইডেনের বিরুদ্ধে ২ গোল।
কিন্তু শুধু এমবাপ্পে নয়, বিশ্বকাপে আরও অনেক ‘নতুন’ খেলোয়াড়কে দেখা গেছে অসাধারণ খেলতে। মেক্সিকোর লোজানো. মরক্কোর হাকিম জিয়েস, দক্ষিণ কোরিয়ার গোলকিপার হিউন-উ চো, সেনেগালের ইউসুফ সাবালি, ইংল্যান্ডের ট্রিপিয়ার, সুইডেনের আদ্রিয়ান গ্রাঙ্কভিস্ত এরা সবাই প্রায় অপরিচিত ছিল বিশ্বকাপের আগে। কিন্তু দারুন খেলেছে। অনেক প্রতিষ্ঠিত ভালো খেলোয়াড় যারা মেসি, রোনালদো নয়, তারও অসাধারণ খেলছে। ফ্রান্সের কান্তে, উরুগুয়ের গোডিন, সুয়ারেজ, বেলজিয়ামের হ্যাজার্ড, লুকাকু, ক্রোয়েশিয়ার লুকা মডরিচ, স্পেনের ইসকো, ব্রাজিলের কুটিনহো, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন এদের ভেতর আছে। কারও নাম বাদ পড়ে যেতে পারে, তবে সেটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ না।
আসল কথাটা হলো আমরা মিডিয়া যাদের স্টার বানায় তাদের নিয়ে এত মেতে থাকি যে বাকিরা সেই স্টারদের চাইতে ভাল খেললেও আমাদের নজরে পড়ে না। বিশেষত গোল না করলে তো নয়ই। ফুটবলের আসল সৌন্দর্য়ের তাতে হানি ঘটে, মজাটাও কমে যায়। নতুন একজনকে আবিষ্কার করার মজা কি আর মিডিয়া স্টারদের পেছনে দৌড়ে পাওয়া যায়! তাই বলি খোলা মন নিয়ে বসুন। ধ্রুবতারাদের দিকে তাকিয়ে না থেকে নতুন তারা খোঁজার আনন্দ উপভোগ করুন। বিশ্বকাপ এর একটা দারুন উপলক্ষ।

ছবি: গুগল