মুঠোফোন আর আমি

নীপা আকন্দ

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

আমার বিরুদ্ধে আজকাল একটা অভিযোগ খুব পোক্ত হয়েছে। তা হচ্ছে, সারাদিন আমার হাতে মুঠোফোন কেন থাকে? আর কি কোন কাজ নাই? সারাদিন মুখবইতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা ছাড়া কি আর কোন কাজ নাই? ছিঃ এটা কোন মেয়ে মানুষের কাজ হলো? খালি শুয়ে বসে চ্যাটিং করা! এটা একটা কথা হলো?!!

কি মুষ্কিল! আমি তো কারো বাড়া ভাতে ছাই দিচ্ছি না। আমি আমার মতো থাকি। কারো সমালোচনা করছি না। হিন্দী সিরিয়ালে চব্বিশ ঘন্টা চোখ রেখে রং ঢং আর সাজগোজ শিখছি না। বাংলা সিরিয়াল দেখে দেখে কুটকাচালি শিখছি না। প্রতিদিন একবার শপিংমলে গিয়ে টাকার শ্রাদ্ধও করছি না। তো! সমস্যাটা কোথায়?! টুকটাক লিখালিখির অভ্যাস থাকায় আর অনলাইন গ্রুপগুলোতে লেখা পোস্ট করার কারণে মুঠোফোনের ব্যবহার হয়তো একটু বেশি করতে হয়, এটা ঠিক। পিসিতে বসতে ভালো লাগে না। তাছাড়া পিঠে ব্যথা রয়েছে বলে, বেশিক্ষণ বসে থাকতেও কষ্ট হয়। পিঠের ব্যথা বাড়ে। তাই সিংহভাগ কাজই মুঠোফোনে সারতে হয়। আরেহ! এত কথাই বা আমি বলতে যাবো কেন? আমার সময় আমি কিভাবে পার করবো, শুয়ে থাকবো না বসে থাকবো, কতক্ষণ কতটুকু সময় মুঠোফোনে থাকবো, এত কৈফিয়ত দেবার মতো বয়স পার হয়ে এসেছি বহু বছর আগেই। তাই কথাগুলো কটু হলেও কানে তুলি না। কখনো হেসে উড়িয়ে দিই। কখনো আবার এসব কথা শুনেও শুনি না। যার যা খুশি বলুক। যার যা খুশি ভাবতে থাকুক। আমার জীবন আমার। আমার সময় আমার। আমার খুশি আমার। আমার ইচ্ছাও আমার। এত কথা মেনে চলার মতো সময় আর ধৈর্য কোনটাই এখন নাই।

বয়সের কথা যখন উঠলোই, আরেকটা ব্যাপার না বলে পারছি না। আমাকে গান শুনতে দেখে কারো কারো চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায়! আপনি এই বয়সেও এত গান শুনেন? এখনো গান ভালো লাগে? বিরক্ত লাগে না?! যেন এর চেয়ে আশ্চর্য কোনকিছু ইহজন্মেও চোখে পড়ে নাই। ওমা! এ আবার কেমন প্রশ্ন! আজব তো! গান শোনার জন্য কোন নির্দিষ্ট বয়স আছে বলে তো আমার জানা নাই! তার মানে এটাই বোঝাতে চান, এই বয়সে সারাক্ষণ হাতে একটা তসবিহ থাকবে। মাথায় একহাত লম্বা ঘোমটা থাকবে। বোরখা পরতে পারলে তো আরো ভালো। তা না করে আমি উদোম মাথায় ঘুরে বেড়াই। অল্পবয়সী মেয়েদের মতো কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনি। এটা কেমন দৃষ্টিকটু না?! আশ্চর্য হয়ে যাই এসব দেখে আর শুনে! যদি নিয়মমতো ধর্মকর্ম করে সময় করে গান শুনি, তাতে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়?
আরো একটা মজার ব্যাপার হলো, সারাদিন কোন রান্নাবান্নার ধারেকাছেও নাই। এটা কেমন দেখায়?! ওই যে মেয়েমানুষ! যাহাই করিবে তাহাই ত্রুটি! একসময় খুব বেকিংয়ের শখ ছিলো। ইউটিউব দেখে দেখে বিভিন্ন রকম রান্না করতাম। খুব ভালো লাগতো। সময়ও কেটে যেতো। বাড়ির সবাইকে নতুন নতুন খাবার খাইয়ে আনন্দও হতো। এমনিতেই মনের মধ্যে সারাক্ষণ এক ধরনের খচখচানি তো আছেই। ঘর সংসার সামলানোর জন্য চাকরী বাকরী ছেড়ে দিয়ে ঘরবন্দী হয়ে আছি। মাঝেমধ্যে দুই একটা অনুবাদের কাজ ছাড়া পুরোপুরি বেকার জীবন। মেয়েকে স্কুলে আনা নেওয়া আর টিভি দেখা ছাড়া তো কোন কাজ নাই। তাই নতুন কিছু নিয়ে ব্যস্ত থেকে মনটাকে খুশি রাখা। কিনতু সেখানেও হাজারটা কথা! এতকিছু রান্না করার কি দরকার? খালি তেল মশলা নষ্ট করা! ওদিকে আবার খাবেও! ধুর! কি হয় এসব না করলে? রান্নার ধারেকাছেও আর যাই না। এখন আমার নিত্যসঙ্গী মুঠোফোন। যে যাই বলুক। যত নিন্দাই কানে আসুক। এই যন্ত্র ছাড়া আমার চলবে না একদিনও।

ছবি: গুগল