লেখকের পরিমিতিমাত্রা পাঠের আকর্ষণকে অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়

জান্নাতুল ফেরদৌস আইভী

আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন আমাদের বিজ্ঞান বইয়ের একটি অধ্যায় ছিল ‘পানি চক্র’ বিষয়ে, ঠিক কোন ক্লাসের অধ্যায় এটি ছিল তা আর এখন মনে নেই। আমাদের সময়ে বইগুলো ছিল নিউজপ্রিন্টের কাগজের আর সাদাকালো। আজকের দিনের মত গুগলও ছিলনা যে ইন্টারনেটের সাহায্যে এক মুহূর্তেই একটা রঙিন ছবি দেখে ফেলবো। আমি যখন পানিচক্রের এই ছবিটা দেখতাম তার দিকে তাকিয়ে যেন আমি একটা সাদা পাহাড় থেকে বরফের গড়িয়ে পড়া, তার থেকে বরফগলা প্রবাহ, ঝরনা-পুকুর-খাল-বিল-নদী আর সাগর আর তারপরে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়া এইসবকে আমার মনে রঙিন করে দেখতে পেতাম। কোন উৎস থেকে প্রথমে পানি তৈরী হতো, তা দিয়ে কেমন করে এই সারা পৃথিবীর পানি-চক্র ঘুরতে থাকে তা নিয়ে হাজার রাত আমার মাথায় ভাবনা ঘুরতেই থাকতো। যখন এই ছবিটা্ নিজের জন্য রঙ করে আঁকতাম তখন প্রায় সবগুলো উপাদানে পানির রঙ তৈরির চেষ্টা থাকতো, কেবল সূর্যের রঙ ছিল লালচে হলুদ যা দিয়ে উত্তাপের রঙ তৈরী করার হতো। সূর্যের আঁকার ছিল একটা গোল আর তার থেকে কতগুলো ছোটবড় রেখা মানে সূর্যরশ্নি। তখন যেমন অতল ভাবনায় ডুবে যেতাম একটা সূর্যের এই ক্ষমতা চিন্তা করে যে পাহাড়, ঝরনা, পুকুর-খাল-বিল-নদী-সাগর সবার সব উৎস সেখানেই থেমে থাকবে যদি সূর্যের ঐ রেখাগুলোর উত্তাপ বরফকে পানি না করে, পানিকে বাষ্প না করে, আকাশে মেঘ না জমে আর বৃষ্টি না ঝরে। তাহলে কি সূর্যকে শক্তির রাজা বলা যায়? আর সূর্যয়ের নিয়ন্ত্রিত নীতিকে রাজনীতি? “বিষম দাবার চালে” সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার লেখা প্রবন্ধ সংকলনের বইটিতে যে প্রবন্ধগুলি রয়েছে তা পড়তে পড়তে পাঠকের মনে আসবে মূলত এমনই একচ্ছত্র শক্তির উৎস ‘রাজনীতি’র প্রভাব একটি দেশীয় জীবনে আর বৈশ্বিক জীবনে । বইয়ের শুরুতে লেখক নিজেই বলেছেন- সময়কে ধরে রাখার চেষ্টা। পাঠকের জন্য তিনি আরও সহজ করে নিজেই বলে দিয়েছেন যে, গণতন্ত্রের সমস্যা, সুশাসনের অভাব, ক্ষমতার বাড়াবাড়ি, মানবাধিকারের লঙ্ঘন, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন, সাম্প্রদায়িকতা, সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব এসবই প্রাধান্য পেয়েছে তাঁর প্রবন্ধে । বইয়ের নাম ‘বিষম দাবার চালে’ পড়লেই উপলব্ধিতে আসে – যে চাল সাভাবিকের চেয়ে মাত্রা অতিক্রম করেছে এমন অসংলগ্ন অবস্থানে রয়েছে কোন একটি পক্ষ। লেখকের প্রতিটি প্রবন্ধে এই অভিযোগ স্পষ্ট যে রাষ্ট্রের যে নিয়ন্ত্রণকারী একচ্ছত্র শক্তির উৎস রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রকেরা তাদের বিষম নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুই দিকে প্রখর পর্যায়ের আক্রান্ত । প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ রয়েছে যে প্রবন্ধগুলোয় সেগুলোর কয়েকটি হল, বিষম দাবার চালে; ২১ আগষ্ট, সরকারী উদ্যোগে সফল জঙ্গি হামলা; শুধু কৈফিয়ত নয়; সাংসদ যারা; অর্থনীতির দুর্বৃত্তায়ন; উন্নয়ন আর দুর্নীতি মাসতুতো ভাই নয়; জঙ্গি সমস্যাটা রাজনৈতিক; বাংলাদেশ ন্যায়বিচার করছে—সহ মোট ৪৪ টি প্রবন্ধ । কয়েকটি প্রবন্ধের প্রধান আলোকপাত যে বিষয়টিতে তারও পরোক্ষ নিয়ন্ত্রক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। যেমন, শ্রমিকের সুরক্ষা নেই, হাসিগানের বাংলাদেশ, শিক্ষা ব্যাবস্থায় তাণ্ডব, নারীর সুরক্ষা, পর্যটন বর্ষ ২০১৬ এমন প্রবন্ধগুলো। আর কেবল ব্যক্তিকে উপজীব্য করে লিখেছেন হিরো আলম ও নাগরিক মধ্যবিত্তের মনের গরিবি প্রবন্ধটি। যেখানে একজন সাধারণ ব্যক্তির জীবনে তাঁর স্বপ্নে পৌঁছানোর চেষ্টাকে লেখক দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের রূপক হিসেবে বলেছেন। লেখকের ভাষায়, সব বাঙালির একটা স্বপ্ন আছে যার যার মত করে । দেশের বাইরে আর দেশে থাকা অসংখ্য গ্রামীন মানুষই আমাদের স্বপ্ন জাগিয়ে রেখেছে। তাদের প্রকাশ নাগরিক মানুষের মত হয়তো কপট নয়, আধুনিক নয়, কিন্তু তারাই স্বপ্নবাজ। তাদের কারণেই বাংলাদেশ আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ, সামনের স্বপ্ন মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া । আসলে বাঙালী মাত্র ভাববাদী কিংবা ভক্তিবাদী । নানা প্রকার ভাবজনিত ও ভক্তি জনিত প্রকাশেই বাঙালির আগ্রহ । তারা ভাবে থাকে আর ক্ষমতাবানদের কুর্নিশ করে। হিরো আলম না হয়ে বড় কোন রাজনীতিকের সন্তান হলে তাকে তারা বাহবা দিত। আর যেহেতু অধিকাংশই কর্ম থেকে দূরে, তাই তাঁরা ভাব ও ভক্তির চর্চা করে, যে চর্চায় কায়িক শ্রম লাগে না । বসে বসেই যারা অনেক কিছু পেয়ে যায় পারিবারিক আর প্রাতিষ্ঠানিকতার জোরে তারা বাকি সকলকেই উপেক্ষা করে, অবজ্ঞা করে । একজন পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়েছে এটি অন্যতম আশার প্রতীক এমন একটি উদাহরণ। এ প্রবন্ধের নাম এমনও হতে পারত “হিরো আলম বনাম মধ্যবিত্তের মনের গরিবি”।
সেক্যুলারিজমকে কেবল অতি নাগরিক করে রাখার মাধ্যমে ধনী-দরিদ্র, শহর-গ্রামের ব্যবধান বাড়াতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর যে ভূমিকা তার সমালোচনাও পাই আমরা একাধিক প্রবন্ধের মাধ্যমে – বাংলাদেশের ধর্ম-সম্পৃক্ত সমাজের উদার আদর্শকে সঙ্গী করে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেননি সেক্যুলাররা। একটা বড় কারণ এই যে, সমাজের বৃহত্তর অংশকে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না করে সেক্যুলারিজমকে আমরা অতি নাগরিক করে রেখেছি সবসময়। আমাদের সেক্যুলাররা সাধারণ শিক্ষা ব্যাবস্থাকে রেখেছেন নিজেদের কাছে, আর বৃহত্তর অংশের কাছে ছেড়ে দিলেন মাদ্রাসা ব্যাবস্থা । ফলে তারা এই রাজনীতির বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছে আর তাদের এই বিচ্ছিন্নতা উন্নয়নের অভিজ্ঞতাতেও প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা যে উন্নয়ন করি তা কেবল ধনী- দরিদ্র, শহর-গ্রামের ব্যাবধান বাড়ায়। এমন বাস্তবতায় সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দেবে, তাঁরা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করবে এতে অবাক হবার কিছু নেই। অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রবন্ধে লেখক বলছেন, দুর্বৃত্তরা সমাজের মোট সম্পদ কেবল হরণই করে না, প্রতিষ্ঠানসমূহও ধ্বংস করে । উন্নয়নের মানবিকীকরণ চাইলে ফাও-খাওয়া শ্রেণী আর গোষ্ঠীকে রাজনীতি ও সরকার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সহমর্মী ও আস্থাশীল সুদূর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব । সমাজ থেকেও এই দাবী প্রচন্ড শব্দে উঠতে হবে।
অন্য একটি প্রবন্ধ ‘সহিংসতার বৃত্তের বাইরে’ লেখক লিখেছেন নারীর সুরক্ষার সঙ্গে রাষ্ট্রের উন্নয়নের সম্পর্ক। লেখকের ভাষায় প্রথমে নারীর একক সুরক্ষার বর্ণনা আর তার সঙ্গে সামগ্রিক উন্নয়নে নারীর ভূমিকা, একটি মেয়ের স্বাধীন ও সহজ জীবনযাপনের অন্যতম শর্ত তার শরীরটিকে কীটদংশন থেকে বাঁচিয়ে রাখা। মেয়েদের উপর হিংসার ফলে মেয়েদের আয়, কর্মক্ষমতা এবং সাফল্যের সম্ভাবনা ব্যাহত হয়, বিচ্ছিন্নতা বাড়ে, কাজ করার সামর্থ্য বিপন্ন হয়, কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ কমে, নিজেদের ও শিশুদের দেখভাল করার সামর্থ্য কমে। তাই, মেয়েদের উপর হিংসা প্রকারান্তরে প্রবৃদ্ধিকে রোধ করছে। সমাজকে অনুধাবন করতে হবে সুস্থির গণতান্ত্রিক সমাজ, স্বচ্ছ এবং দায়বদ্ধ প্রশাসন, শান্তি ও নিরাপত্তা, বাজার অর্থনীতির সমৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রসার চাইলে নারীর প্রতি যে সহিংসতার বৃত্তে বিরাজমান তার বাইরে যেতে হবে।
‘বিশেষ বিধান’ নামক প্রবন্ধে লেখক লিখেছেন “যদি একবার বাঁধন হাল্কা করা হয়, তাহলে এই সাহসিকাদের বিরুদ্ধে একজোট হবে পুরো সমাজ, গ্রামে, শহরে সর্বত্র। বাল্যবিবাহ মানেই ধর্ষণকে বৈধতা দেয়া। ১৮ বছরের আগে বিয়ে মানেই হলো দিনের পর দিন একটি মেয়েকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামীর যৌন নির্যাতনের শিকার হতে দেয়া ।’’
ভিন্নভিন্ন দুটি প্রবন্ধ, উন্নয়ন আর দুর্নীতি মাসতুতো ভাই নয় এবং সহিংসতার বৃত্তের বাইরে -এই দুই প্রবন্ধের দুইটি মেসেজ একজন পাঠকের কাছে এমন, আইআরআই জরীপ আবারো প্রমান করলো বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রামী। শত প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও মানুষ এগিয়ে রেখেছে তার অর্থনীতিকে। সুশাসন ও স্থিতিশীলতা থাকলে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হত এটাই বাস্তব। লেখকের নিজের বক্তব্যের বিশ্লেষণে আমরা যেসব কারণ পাই সুশাসন ও স্থিতিশীলতা বজায় না থাকার পেছনে তার ভেতরে অন্যতম হল সাম্রদায়িক সহিংসতা যার ব্যাখ্যা লেখক বলছেন এমন করে – সরকার উন্নয়ন করছে, উন্নয়ন হচ্ছেও। কিন্তু উগ্র ধর্মীয় বাভাজন রোখা না গেলে উন্নয়নের গতি স্তব্ধ হতে বাধ্য।
বন্ধু মাহবুবুল হক শাকিলের জন্য লেখকের কান্না তার শব্দে প্রকাশ পায় এভাবেঃ “ভাবছি সাহিত্যের আড্ডা নিয়ে । আমি দেখেছি এসব আড্ডায় গান নিয়েই আমাদের কথা হয় বেশি। এই গানের মাঝেই যেন জীবনের সন্ধান। আর বেশি সময় লোক গান। ইউটিউবের কল্যানে কোন কবির অনুরোধে মরমী গান শুনতে শুনতে দরশনের কত কথা উচ্চারিত হয়। এখনো হয় । শুধু একজন নেই এখন। হারিয়ে গেছে দূরের আকাশে।”
সাংসদদের কাছে আমাদের রাজনৈতিক প্রত্যাশার পাশাপাশি তাদের আচরণ থেকে আমাদের যা প্রত্যাশা এই বিষয়ে লিখেছে সাংসদদের আচরণবিধি তৈরির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। এই প্রয়োজনীয়তা কেবল সংসদের ভেতরের আচরণবিধি নয়, সংসদের বাইরে তাদের আচরনের যে দিকগুলো সম্পর্কে । সাধারণ জনগণের থেকে তাদেরকে উন্নত মানুষ কেন মনে করবেন, তাদেরকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার অভিভাবক হিসেবে তাদেরকে গন্য করবেন যেসব নীতিমালা ভিত্তিতে আমরা এই প্রবন্ধের কয়েকটি বাক্য থেকে- ব্যাক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদবির বা সুপারিশ, নিজ বা পরিবারের সদস্যদের আর্থিক বা বস্তুগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা অথবা কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রভাব খাটানো ইত্যাদি থেকে তাঁরা যাতে মুক্ত থাকতে পারেন, আইনে সেসবের রক্ষাকবচও থাকা দরকার। ২০১০ সালে নবম ‘সংসদ সদস্য আচরণ আইন, ২০১০’ শিরোনামে একটি বিল এনেছিলেন সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী। সংসদের বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্য বিল প্রস্তাব কমিটি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর ২০১১ সালে সংশোধিত আকারে বিলটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছিলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই বিল সংসদে গৃহীত হয়নি। লেখক আশা রেখেই এই প্রবন্ধ শেষ করছেন, রাজনীতিতে বলবান মানুষের ভূমিকা আছে, ধনবানের প্রয়োজন আরও বেশি। কিন্তু দেশ পরিচালনা করতে লাগে বিবেকবান মানুষ।
রাষ্ট্র কি কিছু দেখছে না?- এই প্রবন্ধে লেখক বলছেন পাঠকের প্রানের কথা, “এ দেশে যারা লেখালেখি করেন, তাদের একটা অভ্যেস হলো আড্ডা দেয়া। তা সে মার্কেটের বারান্দা হোক, সুজ ঘাস হোক কিংবা রাস্তার পাশের চায়ের দোকান হোক। আড্ডা জমে বাড়ির বসার ঘরেও। এই লেখকেরা আড্ডার সময় কেউ কারও কথা পুরোটা শুনতে চান না। তার আগেই নিজের মতো বলা শুরু হয়। মাঝখানে এ পক্ষে, সে পক্ষে, তৃতীয় পক্ষে কথা বলার লোকেরও কমতি নেই। চা চলছে, পেঁয়াজু চলছে, নোনতা বিস্কুট চলছে এবং একসময় বাড়ি চলে যাওয়া হয়। পরদিন আবার আড্ডা। দিনের পর দিন একমত না হওয়ার বিনোদন। একটা ভিন্নমত শোনার অভ্যাস। খুব সাধারণ স্বাভাবিক স্বভাব । এক এক জনের এক এক রকম চিন্তা, দর্শন। কিন্তু কখন থেকে যেন এই স্বাভাবিক মতানৈক্য ধীরে ধীরে মুছে যেতে শুরু করল । একটি নতুন গোষ্ঠী লেখালেখিতে এলো, সামাজিক মাধ্যমে এলো যারা কোন ভিন্নমতের লেখা গ্রহণ করতে পারছে না, তারা কলমের ভাষায় নয়, কথা বলে চাপাতির ভাষায়।
লেখকের বিশ্লেষণের থেকে বলা যায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রককে পানিচক্রের সূর্যয়ের মত রাজশক্তি ভেবে বসে থাকা ঠিক নয়। একটা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর যেমন দায়িত্ব দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখা তেমনি সমাজের অগ্রগতির বিপরীত দিক থেকে উদ্ভব হওয়া সাম্প্রদায়িক আর পশ্চাৎপদ ধারণাকে সময় মত প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত শ্রেনীরও রয়েছে ব্যাপক দায়িত্ব । দিনশেষে এই দেশের বেশিরভাগ মানুষের মন প্রতিক্রিয়াশীল না, তাঁরা শান্তিপ্রিয় আর অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির প্রত্যাশী। কাজেই এই দেশের বেশিরভাগ মানুষ সেই সঙ্গে দায়িত্ববানও হবেন এমন প্রত্যাশা লেখক ও পাঠক দুজনেই খুঁজে পান ‘বিষম দাবার চালে’ বইটি থেকে।
প্রবন্ধগুলির প্রকাশকাল অথবা লেখকের মূল লেখার সময়কাল উল্লেখ থাকলে সময়ের ধারাবাহিকতা আরো স্পষ্ট হত। তবে এই অপূর্ণতার দিকটি ছাপিয়ে যায় বইয়ের প্রাঞ্জল ভাষায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষনে লেখকের পরিমিতি মাত্রা এই বই পাঠের আকর্ষণকে অনেক গুনোত্তর হারে বাড়াতে থাকে। অভিনন্দন লেখক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজাকে ও বইয়ের প্রকাশক শ্রাবণ প্রকাশনীকে।

ছবি: গুগল