সবকিছুর মূলে শ্রেণীসংগ্রাম

লাবনী মণ্ডল

এক.
ছেলেরা রাস্তায় প্রস্রাব করতে পারলে নারীরা কেন পারবে না? এ ধরনের কথা নিয়ে তুমুল তর্ক। অনেক নারীবাদীই মনে করে মেয়েরাও রাস্তায় প্রস্রাব করবে। আমি কিন্তু পুরো উল্টো কথা বলি, ছেলে-মেয়ে কেউ-ই রাস্তায় প্রস্রাব করতে পারবে না। কারণ, এতে পরিবেশ নষ্ট হয়, দুর্গন্ধ ছড়ায়। একটা অন্যায়কে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরেকটা অন্যায়কে সমর্থন করি না।
দুই.
ছেলেরা ধর্ষণ করলে, মেয়েরাও ধর্ষণ করবে এ রকম কথা খুব প্রচলিত এবং বিশ্বাস করে মানুষজন। আমি করি না, আমি মনে করি ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, রাষ্টযন্ত্রকে বাধ্য করতে হবে বিচারের ব্যবস্থা করার জন্য। কেন কি কি কারণে ছেলেরা ধর্ষণ করে থাকে তা খতিয়ে বের করতে হবে, প্রতিবাদের আগুনটা জ্বালাতে হবে। এই জরাজীর্ণ ব্যবস্থার দিকে আঙ্গুল তুলতে হবে।

তিন.
নারীবাদ মানেই পুরুষের সমতুল্য। পুরুষ যা করে আমারও তা করতে হবে। পুরুষের সমান মর্যাদা দিতে হবে। এ ধরনের ধারণা পোষণ করে থাকে নারীবাদীরা। আমি মনে করি, কেউ কারো সমতুল্য হওয়ার কিছু নেই, যার যেটুকু অধিকার সেটুকু বুঝে নিতে হবে। বরং অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারীর অধিকার বেশি। নারী সন্তান উৎপাদন করতে পারে। পুরুষ তা পারে না। এক্ষেত্রে নারীর মর্যাদা অবশ্যই বেশি হতে হবে।
চার.
নারীবাদ মানেই পুরুষবিদ্বেষী মনোভাব। এটা একটা রোগ, মানসিক রোগ। নারী, পুরুষের সম্পর্কটা একটা মর্যাদার সম্পর্ক। নারী পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হবে, পুরুষও নারীর প্রতি আকৃষ্ট হবে। এটা বিজ্ঞান। এখানে, পুরুষবিদ্বেষী না হয়ে, পুরুষতন্ত্র নিয়ে কথা বলাটা জরুরি। পুরুষতন্ত্রের ধারকবাহক নারী নিজেও। নারীরা পুরুষতন্ত্রকে সন্তানের মতোই আকড়ে রাখে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধটা জরুরি।
পাচ.
সবকিছুর মূলে শ্রেণিসংগ্রাম। মানুষ তখনই সুন্দর, সাবলীল চিন্তা করবে যখন শ্রেণিবৈষম্যটা ঘুচবে। এরজন্য দরকার সমাজের সার্বিক অবস্থাকে নারী, পুরুষের বৈষম্যে আটকে না থেকে প্রকৃত আন্দোলন, সংগ্রামটা গড়ে তোলা।

ছবি: সজল