আমাদের ফুটবল বিশ্বকাপ…

আন্জুমান রোজী

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

 আমার আব্বার ফুটবলপ্রীতি ছিল বলেই আমাদের সবকটা ভাইবোনের মধ্যে ফুটবল নিয়ে একধরণের আগ্রহ তৈরি হয়। ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজনের ধাক্কা আমাদের মিনি ড্রয়িংরুমেও লেগে যেত। তখন এটি মিনি স্টেডিয়ামে পরিণত হতো। তো কথা সেটা না! কথা হচ্ছে, ছোটকালে কখনওই মনে পড়ে না; আমরা কোনো টিমকে সমর্থন করে খেলা দেখেছি! যদিও আব্বা ব্রাজিলের পেলের কথা খুব বলতেন। তারপরেও কোনো দলের প্রতি অন্ধ ছিলেন না। তাই খেলা শুরু হওয়ার প্রথম টার্ম থেকে আব্বা প্রত্যেকটা খেলার পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা দিতেন বা আমরা সবাই সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতাম। তারচেয়ে বড় বিষয় আমার আব্বা করতেন; তা হলো কোন কোন দেশ খেলায় অংশগ্রহণ করেছিল তার ভৌগলিক পরিচয়… মানচিত্র নিয়ে আমাদের দেখাতেন। সেইসঙ্গে সেইসব দেশের সামাজিক, ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ঘটনাবলী; যতদুর সম্ভব তুলে ধরতেন। মোটকথা নতুন একটি দেশকে পরিচিত করাতেন। আমরা ফুটবল বিশ্বকাপের সঙ্গে সঙ্গে পুরো বিশ্ব ঘুরে বেড়াতাম। এটা একটা দারুণ শিক্ষণীয় ব্যাপার ছিল। আর খেলা দেখতে দেখতে আমরা সবাই ধীরেধীরে একটি দলের প্রতি দুর্বল হয়ে যেতাম। যেটা হয়েছিল ম্যারাডোনার সময়। ১৯৮৬ সালে, যেবছর আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলো। তারপরে আর আমরা ভাইবোন বা কাজিনরা সবাই মিলে একটা দলকে নয়; বিভিন্নজন বিভিন্নদল সমর্থন করা শুরু করি। কারণ, ততদিনে আমরা সব বিষয়ে পণ্ডিত হয়ে গিয়েছি; অর্থাৎ বড় হয়ে গিয়েছি। 

আমরা সবাই খেলা দেখতাম এনজয় করার জন্য, কোনোরকম বাদানুবাদের জন্য নয়। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে খেলা শুরু হওয়ার প্রথম থেকে প্রথম টার্ম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে মনে একটা দল ঠিক করে ফেলি, যা করতেন আমার আব্বা। যদিও আমি জার্মানের ডাইহার্ট সাপোর্টার। জার্মান ফুটবল টিম ভালোলাগার পেছনে যে বিষয়টি আমার মধ্যে সবচে-বেশি কাজ করে; তা হলো, তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধতা, সুসজ্জিত, নিয়মানুবর্তিতা, আদেশ-নির্দেশ চেইন অফ কমান্ড; একে অপরে আই কন্ট্রাক্ট, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ; সবই যেন ছকেবাঁধা দারুণ ছন্দবদ্ধ! জার্মান কখনও এক প্লেয়ার নির্ভর দল না। এগারোজন প্লেয়ারের একটি সুসংগঠিত দল। যদিও এবছর তার প্রতিফলন সেভাবে ঘটেনি। প্রথম টার্মেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের বিদায় নিতে হলো। তাইবলে আমার ফুটবল খেলা দেখা দমেনি। কারণ, কে বা কারা ভালো খেলে বিশ্বকাপ জিতে নিচ্ছে তা বোঝার জন্যই খেলাটায় নিয়মিত চোখ রাখি। প্রতি চারবছর অন্তর এমন আনন্দঘন মুহূর্ত আসে… তাকে কি হেলাফেলা করা সম্ভব? আর বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু বিনোদনের ব্যাপারই নয়; শিক্ষণীয় একটি ব্যাপারও এবং সেইসঙ্গে পুরো বিশ্বটাকে একছন্দে এক আনন্দে দেখতে পাওয়ারও একটি সুযোগ বটে।

ছবি: গুগল