এই শ্রাবণ…

শ্বেতা চট্টোপাধ্যায়

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

হঠাৎ করেই ডাকবাক্সে লুকিয়ে থাকা চিঠিরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে…। পুরোনো বাড়ির পলেস্তরা খসে পরা নির্জীবতার মাঝে ঐ ডাকবাক্সটা এখনও মাথা তুলে নিজে অস্তিত্বে অবিচল, যেখানে জমা থাকে নানা অভিমান,অনুযোগ, একাকীত্ব আর খানিক পড়ে পাওয়া ভালোবাসারা…।

শ্রাবণের ঝমঝমে বৃষ্টির দুপুরে একাকী আমি ডুবে থাকি এক মন কেমন করা জীবনের গল্পে, যার সঙ্গে আসা যাওয়ার নাগরিক রোজনামচার কোনো সংযোগ নেই বললেই চলে…। অন্তহীন স্মৃতি মেদুরতা, কখনোও বা নীরব আত্মকথন… বেনামী চিঠির ভাঁজে মুড়ে থাকা প্রত্যাশারা উঁকি দেয় আমার কল্পনার জানলায়…।

আরও একটা শ্রাবণ, কত অনুষঙ্গ… বড্ড পরিচিত,খানিক মন খারাপ করা…। লাল শালুকের পাপড়িতে জলের ফোঁটার মতো ক্ষণস্থায়ী মুহুর্ত’রা কথা বলে চুপিসারে, কিন্তু, প্রকৃতি’র পাঠশালায় শেখানো অধ্যায় গুলো জীবন্ত হলেও সামাজিকতার মাপকাঠিতে সেসব কেমন যেন বেমানান, বুঝতে পারি…।

এই শ্রাবণ শেখায় নির্জনতা, বোঝায় হঠাৎ করে বড় হয়ে যাওয়া…। চেনায় চারপাশের রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধে ভরা পৃথিবীর অন্য রূপ টাকে, মুখ আর মুখোশের ব্যবধান কে…জনপ্রিয়তাও কখনো কখনো অস্তিত্বের সংকট সৃষ্টি করে…। সামান্য আচরনও বদলে যায় উচিত/অনুচিত এর গন্ডীতে…। এর মধ্যেই ব্যস্ত সময়ে পাল্লা দিয়ে ছুটে যাওয়ার উল্টো দিকে চালচুলোহীন, ভবঘুরে মনটা বিদ্রোহী হয়, সামাজিক জটিলতা বুঝতে না শেখা মনটা ভিজতে চায় শ্রাবণের বাঁধনহারা বৃষ্টিতে…।
‘পরিচয়’ আর ‘সম্পর্কের’ মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট করে দেয় শ্রাবণ…কখনো বা ‘অভ্যেস’ এর জমা ধূলো ধূয়ে মনের আয়নায় পরিচিত মুখের আড়ালে অন্য এক মুখ চিনতে শেখায় ‘এই শ্রাবণ…’ ।

“এই শ্রাবণ ধুয়ে ফেলুক এই রাস্তা ধূলো,
এই শ্রাবণ ভিজিয়ে দিক দীর্ঘ ছায়া গুলো….। “

ছবি: মাঞ্জারে হাসিন মুরাদ