রাশিয়া উপার্জন ১৮৪ বিলিয়ন রুবল

আহসান শামীম

বৃষ্টি দিয়েই শেষ হলো এবারের রুশ বিশ্বকাপ। রাশিয়ার ১১ শহরের ১২টি স্টেডিয়ামে নানা ঘটনা ও নাটকীয়তা শেষে এক মাসের উত্তেজনা আর উত্তাপের সমাপ্তি। রোমাঞ্চ ছড়ানো রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্বকে উপহার দিয়েছে হাসি-কান্না, ঘটন-অঘটন, প্রাপ্তি-হতাশার হাজারো মহাকাব্য। ছিল চমক আর রেকর্ডেরও ছড়াছড়ি।

পুরো ফুটবল বিশ্বকাপের আসরকে জমজমাট করে রাখতে আয়োজনের কোনো কমতি রাখেনি আয়োজকরা। বিশ্বকাপ আয়োজন করতে  রুশরা ব্যয় করেছে দেশটার মুদ্রায় প্রায় ৮৮৩ বিলিয়ন রুবল। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে চার মিলিয়নেরও বেশি লোকের সমাগম ঘটেছিল রাশিয়ায়। বিশ্বকাপের পর্দা নামতে হিসাব-নিকাশ শেষে জানা গেল, রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে উপার্জন করেছে ১৮৪ বিলিয়ন রুবল।

রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম তাস নিউজের বরাত দিয়ে প্রাভদা জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে রাশিয়ায় আসা পর্যটকরা রাজধানী মস্কোতে খরচ করেছেন ৯৬.৫ বিলিয়ন রুবল।যা ছিল মস্কোর বাজেটের চেয়ে ১৩.২ বিলিয়ন রুবল বেশি।

বিশ্বকাপের আরেক শহর কাজান, এবার বিশ্বকাপের তিন জনপ্রিয় আর হট ফেভারিট জার্মানী,আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের জন্য বেদনাদায়ক স্মৃতির স্থান।এখান থেকেই তাদের বিশ্বকাপের স্বপ্ন হয়েছিলো চুরমার।এই কাজানেই সমর্থকরা খরচ করেছেন ১১.২ বিলিয়ন রুবল। যা ২০১৭ সালে কাজানে স্বাভাবিক খরচের হিসাবের চেয়ে ছয়গুন বেশি। খাবার-বাসস্থান ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে কাজানে পর্যটকদের গড়পড়তা দৈনিক খরচ ছিল ৩৭ হাজার রুবল।

একাতেরিনবার্গ, যেখানে  সমর্থকরা খরচ করেছে ২১১ মিলিয়ন রুবল। আরেক শহর নিঝনি নভগরোদে স্থানীয় ব্যবসায় অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন রুবল অর্জন হয়েছে। টুর্নামেন্ট চলাকালীন, পর্যটকরা দৈনিক ৫০০ থেকে তিন হাজার ডলার খরচ করেছেন। এর ৪০ ভাগ অর্থই খরচ হয়েছে বিশ্বকাপের বিভিন্ন স্মারক ও খাবার কিনতে। রাশিয়ার বিশ্বকাপকে টেক্কা দিতে ২০২২ বিশ্বকাপের জন্য কাতার যে খরচের বাজেট করেছে সেটা রাশিয়ার চেয়ে দ্বিগুন। আয়োজনে কমতি থাকবে না কোন কিছুরই।বাজেটে আয়ের হিসবাটাও আশা করা হচ্ছে আকাশচুম্বি। কাতার বিশ্বকাপে খেলবে ৪৮টি দেশ।

ছবি: গুগল