আজো উত্তম…

‘বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের পতন হলো… তাঁর মতো নায়ক কেউ ছিলো না, কেউ হবেও না।’  কথাগুলো বলেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক প্রবাদ পুরুষ সত্যজিৎ রায়। যে মানুষটাকে নিয়ে মাত্র দু’টি সিনেমা তৈরি করেছিলেন তাঁর প্রয়াণে এই কথাগুলিই বেরিয়ে এসেছিলো সত্যজিৎ রায়ের মুখ থেকে। সত্যিটা সত্যজিৎই জানতেন। বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তমকুমার এক এবং অদ্বিতীয় নাম। যাঁর সত্যিই কোনও পরিপূরক নেই। নেই কোনও বিকল্প।কিন্তু ছবির পর্দার বাইরেও কি এই মহানায়কের কোনো বিকল্প ছিলো তখন? অনেকে বলেন, সিনেমার লাইট, ক্যামেরার বাইরের সেই মানুষটি ছিলেন সত্যিকারের নায়ক্। বহু বছর আগে উত্তমকুমার তখন মধ্যগগনে,বাস্তব জীবনে বহু নারীই দূর থেকেই এই মানুষটির প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন। তেমনি এক সময়ে একদিন উত্তমকুমার বাসা থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠতে যাচ্ছেন ঠিক তখনই এক ভদ্রলোক নিরাপত্তার বেড়া ভেঙ্গে তার কাছে চলে আসেন। আত্নজীবনী ‘আমার আমি’-তে উত্তমকুমার নিজেই সেই ভদ্রলোকের বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘ভদ্রলোককে খুব বিহ্বল, অস্থির আর উত্তেজিত দেখাচ্ছিলো। তিনি এগিয়ে এসে ক্ষুব্ধ গলায় বললেন, আপনিই সেই উত্তমকুমার যার জন্য আমার স্ত্রী…!’ সেদিন ক্ষোভে ভদ্রলোকের গলা বুঁজে এসেছিলো। উত্তমকুমার প্রশ্ন করে জানতে পারেন, ভদ্রলোকের স্ত্রী চারদিন আগে উত্তমকুমারের সঙ্গে দেখা করবেন বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে বের হয়ে গেছেন, তখন পর্যন্ত ফিরে আসেননি। আর স্বামী ভদ্রলোকটি পাগলের মতো স্ত্রীকে খুঁজে ফিরছেন। আর খুঁজতে খুঁজতে তিনি হাজির হয়েছেন স্বয়ং মহানায়কের দরজায়।

উত্তম ছিলেন এমনই এক পর্দা-ব্যক্তিত্ব যার সম্মোহন ভদ্রলোকের স্ত্রী ঘর ছেড়েছিলেন। স্বামী-সংসার অথবা সামাজিক টানাপোড়েনের তোয়াক্কা করেননি।

১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই। সিনেমাপ্রেমী বাঙালির পক্ষে এ দিনটা ভোলা সম্ভব নয়। শুটিং চলাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মহানায়ক। কলকাতা শহরের বেলভিউ ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। সেখানেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাত্র ৫৩ বছর বয়সে নিভে গিয়েছিলো মানুষটির জীবনপ্রদীপ। কিন্তু তাঁর ছায়া তো আজো বিস্তারিত। বাঙালি নারী অথবা পুরুষের কাছে চুম্বকের তীব্র আকর্ষণ হয়ে আছেন তিনি। উত্তমকুমারের চির বিদায়ের খবর শুনে কলকাতা শহরের এক ভক্ত মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, ‘আজ অনেক মহিলা বিধবা হলেন।’ এহেন এক অভিনেতার মৃত্যুর পর পার হয়েছে ৩৮ বছর। কিন্তু এখনো অমলিন রয়ে গেলেন উত্তমকুমার। তাকে ভালোবাসা্র মানুষের কমতি পড়লো না কখনোই।

বিনোদন ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ আমার আমি

ছবিঃ গুগল