সন্ধেবেলার লেখা

অদিতি বসু রায়

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

জন্মের গল্প সব মনে পড়ে দুপুরের বেলা মরে গেলো। সেই সব কবেকার দিন – সেই সব কবেকার দার্জ্জিলিং – এখন দার্জ্জিলিং চায়ের গন্ধে গন্ধে সন্ধে আসে। ঘুমাতে ইচ্ছে করে বড়। বারান্দায় বিকেল পড়ে আসে।
আমার খেলনাবাটির সেই সব বাড়িঘর মনে পড়ে যায়। সাদা বালি দিয়ে ভাত রাঁধা আর লেবুপাতাকে ‘বেগুন’ ভাজা বলার দিন… ইস্কুল থেকে ফিরে পায়েস দিয়ে রুটি খাওয়ার দিন… পুজোর দিন গোনার দিন… ফ্রকের ওপর শাড়ি পরার সেই সব দিন নিয়ে আয়ু চলে গেছে কুড়ি কুড়ি বছরের পারে। তারপর ভেসে গেল যাপিত বিবাহকাল । একবার। চায়ের কাপ, শূন্য ছবির ফ্রেম,কিছু বই আর ঝরনা কলম নিয়ে উঠে আসতে হলো আস্তানা ছেড়ে। 
প্রেম ছেড়ে।
সে সবও কেটে গেলো!
গেল কত প্রেমও ।
এলোও।
কত বন্ধুর ডাকনাম হয়ে গেলো ‘বেইমান’।
আমিও কত লোকের সেল ফোনের কনট্যাক্ট লিস্ট-এ ‘সেভড’ হলাম ‘শয়তান’ পরিচয়ে।
বেলা গেলো।
বর্ষা এল। শীতকাল আর খুব দূরে নয়।
হেমন্ত তো প্রায় দোরগোড়ায়।
জলযানে এখন মাছ খেলা করে। সোনালি- রুপোলি- কত রকম।
আমার বয়েস বেড়ে বেড়ে এখন প্রায় নাদের আলির কাছাকাছি। ইদানীং ছুরি পকেটে আর হাতে রজনীগন্ধা নিয়ে যারা কলিংবেল বাজায় তারা জানে না , আমি বন্দুক চালাতে শিখেছি। সুপারি কিলাররা জানে না,অন্ধকার গলিতে আমি বেড়ালের মত চড়ে বেড়াতে পারি। সকালে দেরী করে উঠি বলে, যে সব শত্রুদের ক্ষমা করতে বাধ্য হয়েছি, যে কোনও দিন তাদের টাইটানিক ডুবতে পারে। কারণ, এখন আমার সংস্রবও নেই, সমর্পণও নেই। আমার জিন্সে অটোগ্রাফ দিয়েছেন স্বয়ং লেনন।
পাড়া ফাঁকা। ইনবক্স ফাঁকা। কলেজ পাড়া,বাগবাজার শূন্য।
কেবল ফেসবুক। কেবল ফেসবুকে হাত বাড়িয়ে থাকি – যারা যারা কথা বলে যায়, তাদের না-দেখা প্রতিটি হাতে ‘বন্ধু’ শব্দটি লেখার জন্যে উদ্গ্রীব হাত।

ছবি: টুটুল নেছার